Facebook Pixel

মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার মাত্র এক বছর পরে দেশটি একটি সংবিধান রচনা করে। তবে এই সংবিধানের কিছু দুর্বলতার কারণে আধিপত্যবাদ ও সামরিক শাসনের পথ উন্মুক্ত হয়। ক. সংবিধানটি গণপরিষদে কত তারিখে গৃহীত হয়? খ. মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য লেখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানটি কোন দেশের? উক্ত সংবিধানের মূলনীতিগুলো আলোচনা কর। ঘ. উক্ত সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো আলোচনা কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

উৎস: Test Exam Question SGCS 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সংবিধানটি গণপরিষদে ৪ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে গৃহীত হয়। (খ) মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো: মৌলিক অধিকার হলো রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত অধিকার, যা নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য এবং রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য। অন্যদিকে, মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা রাষ্ট্র নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। মৌলিক অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্রের সংবিধান, আর মানবাধিকারের উৎস হলো আন্তর্জাতিক ঘোষণা বা জাতিসংঘ। মৌলিক অধিকার সাধারণত নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু মানবাধিকার সর্বজনীন। সব মৌলিক অধিকার মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলেও, সব মানবাধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে স্থান পায় না। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানটি বাংলাদেশের সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি হলো জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো: ১. জাতীয়তাবাদ: ভাষা ও সংস্কৃতির অভিন্নতার ভিত্তিতে বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখাই জাতীয়তাবাদের মূল লক্ষ্য। ২. সমাজতন্ত্র: শোষণমুক্ত ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সমাজতন্ত্রের উদ্দেশ্য। ৩. গণতন্ত্র: জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের ভিত্তি। ৪. ধর্মনিরপেক্ষতা: রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রাধান্য দেবে না এবং সব নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। (ঘ) বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। নিচে প্রধান মৌলিক অধিকারগুলো আলোচনা করা হলো: ১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা: সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ২. সরকারি নিয়োগে সমতা: প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ থাকবে (অনুচ্ছেদ ২৯)। ৩. জীবন ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের অধিকার: আইনের আশ্রয় ছাড়া কোনো ব্যক্তির জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করা যাবে না (অনুচ্ছেদ ৩২)। ৪. চলাফেরা ও সমাবেশের স্বাধীনতা: নাগরিকের দেশের যেকোনো স্থানে অবাধে চলাফেরা এবং শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩৬ ও ৩৭)। ৫. সংগঠনের স্বাধীনতা: জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নাগরিকদের রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩৮)। ৬. ধর্মের স্বাধীনতা: প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪১)। ৭. সম্পত্তির অধিকার: আইনের দ্বারা আরোপিত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪২)। ৮. প্রতিকার লাভের অধিকার: মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য নাগরিকের উচ্চ আদালতে যাওয়ার অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪৪)। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত এই মৌলিক অধিকারগুলো নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Satkhira Government College, Satkhira (2026)

মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার মাত্র এক বছর পরে দেশটি একটি সংবিধান রচনা করে। তবে এই সংবিধানের কিছু দুর্বলতার কারণে আধিপত্যবাদ ও সামরিক শাসনের পথ উন্মুক্ত হয়।

ক. সংবিধানটি গণপরিষদে কত তারিখে গৃহীত হয়?

খ. মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানটি কোন দেশের? উক্ত সংবিধানের মূলনীতিগুলো আলোচনা কর।

ঘ. উক্ত সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দূষ্পরিবর্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অধি...

'X' রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মাত্র নয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রকে একট...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু তারা শাসক ...

'X' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন...

অধ্যাপক আফরোজা আক্তার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। ইচ্ছে করলেই সংবিধ...

অনন্তপুর ও গইয়াতলা গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়...

উক্ত '?' চিহ্নিত স্থানে স্থাপিত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে—

উক্ত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে- i. জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে ii. স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে iii. জনমতের গুরুত্ব ব...

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও: "Y" একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।