(ক)
যে বাজারে সাধারণত স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়মিতভাবে এবং নির্ধারিত বিধি মোতাবেক বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়, সেই বাজারই হলো শেয়ারবাজার।
(খ)
বন্ড ও শেয়ার একই নয়। শেয়ার ও বন্ডের মধ্যে মালিকানা ও আয়ের প্রকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। শেয়ার হলো কোম্পানির মালিকানার অংশ, আর বন্ড হলো কোম্পানির ঋণের দলিল। শেয়ার মালিকরা কোম্পানির মালিক হিসেবে গণ্য হন এবং লভ্যাংশ পান। অন্যদিকে, বন্ড হোল্ডাররা কোম্পানির পাওনাদার হিসেবে গণ্য হন এবং তারা নির্দিষ্ট হারে সুদ পান। শেয়ারে ঝুঁকি বেশি, কিন্তু বন্ডে ঝুঁকি কম থাকে।
(গ)
উদ্দীপকে মি. Y দুইভাবে শেয়ার কিনেছেন: ১. IPO-এর মাধ্যমে, যাকে প্রাথমিক শেয়ার বলা হয় এবং ২. শেয়ার বাজার থেকে, যাকে মাধ্যমিক শেয়ার বলা হয়। নিচে এই দুই প্রকার শেয়ারের মধ্যে পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:
১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: কোম্পানি যখন প্রথমবারের মতো জনসাধারণের কাছে মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রি করে, তখন তাকে প্রাথমিক শেয়ার বা IPO (Initial Public Offering) বলে। অন্যদিকে, প্রাথমিক শেয়ার যখন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেনাবেচা হয়, তখন তাকে মাধ্যমিক শেয়ার বা সেকেন্ডারি শেয়ার বলে।
২. উৎস বা প্রাপ্তিস্থান: প্রাথমিক শেয়ার সরাসরি কোম্পানি বা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে কেনা হয়। কিন্তু মাধ্যমিক শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জ বা ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে অন্য কোনো বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কিনতে হয়।
৩. মূল্য নির্ধারণ: প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য কোম্পানি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BSEC) কর্তৃক নির্ধারিত থাকে (সাধারণত অভিহিত মূল্যে)। পক্ষান্তরে, মাধ্যমিক শেয়ারের মূল্য বাজারের চাহিদা ও যোগানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে।
৪. ঝুঁকির মাত্রা: প্রাথমিক শেয়ার বা IPO-তে ঝুঁকির পরিমাণ তুলনামূলক অনেক কম থাকে। কিন্তু মাধ্যমিক বাজারে শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়ে বা কমে বলে এখানে ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
(ঘ)
উদ্দীপকে মি. Y-এর শেষোক্ত বিনিয়োগটি হলো শেয়ার বাজার থেকে কেনা শেয়ার বা সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এতে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, উক্তিটি যথার্থ।
অর্থনীতিতে একটি সাধারণ নীতি হলো, ঝুঁকি যত বেশি, মুনাফার সম্ভাবনা তত বেশি। ব্যাংকে টাকা রাখলে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়, যেখানে ঝুঁকি নেই বললেই চলে। কিন্তু শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের কোনো গ্যারান্টি নেই; বাজারের উত্থান-পতনের কারণে মূলধন হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই মি. Y-এর এই বিনিয়োগটি সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে এই ঝুঁকির বিপরীতেই লুকিয়ে আছে অধিক মুনাফার সম্ভাবনা। ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রে নির্দিষ্ট হারে লাভ পাওয়া যায়, কিন্তু শেয়ার বাজারে সঠিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলে দুটি উপায়ে অনেক বেশি লাভ করা সম্ভব: ১. লভ্যাংশ (Dividend) এবং ২. শেয়ারের দাম বৃদ্ধিজনিত মুনাফা (Capital Gain)। ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে তা বিক্রি করে অল্প সময়েই সঞ্চয়পত্রের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভ করা যায়।
মি. Y তার ভবিষ্য তহবিলের টাকা দিয়ে শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার কিনেছেন। তিনি যদি বুঝে-শুনে ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করেন, তবে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ, উভয় খাত থেকে তিনি সঞ্চয়পত্রের চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। পরিশেষে বলা যায়, শেয়ার বাজারের অস্থিরতাই একে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, আবার এই অস্থিরতাই বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীর জন্য অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।