(ক)
কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের ক্ষুদ্রতম অংশকে শেয়ার বলে।
(খ)
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় দুটি অর্থনৈতিক খাত হলো কৃষিখাত ও শিল্পখাত।
কৃষি বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত। খাদ্য উৎপাদন, শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ এবং কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃষির ব্যাপক অবদান রয়েছে। এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বহুলাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে কৃষিকাজে উন্নত সার, বীজ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে এই খাতের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের শিল্পখাতেরও ক্রমশ উন্নতি ঘটছে। জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতের অবদান বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
(গ)
উদ্দীপকে মি. X-এর উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটিতে অর্থায়নের জন্য সংরক্ষিত মুনাফা, স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় এবং পুঁজিবাজারের উৎস ব্যবহৃত হয়েছে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট তহবিলের যে অংশ মালিকপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করা হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ উৎস বলে। ব্যক্তি তার আয়ের পুরোটা ব্যয় না করে কিছু অংশ সঞ্চয় করে। এই সঞ্চিত অর্থ যখন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়, তখন তা অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থের প্রয়োজনে মালিক তার পূর্ব অর্জিত স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় করতে পারেন। অন্যদিকে, যে বাজারে যৌথ মূলধনী কারবারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়, তাকে পুঁজিবাজার বলে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. X তার উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ১০% ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য হাতে রাখেন, যা অর্থায়নের সংরক্ষিত মুনাফাকে নির্দেশ করে। তিনি সাভারের একটি প্লট বিক্রয় করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, যা স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় উৎসকে নির্দেশ করে। এরপরও প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান না হলে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে তালিকাভুক্ত করে ৫০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেন, যা পুঁজিবাজারের উৎস নির্দেশ করে। পরিশেষে বলা যায়, মি. X তার ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সংরক্ষিত মুনাফা, স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় ও পুঁজিবাজার, এই তিন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
(ঘ)
মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে অন্যান্য উৎসের তুলনায় পুঁজিবাজার অধিক সুবিধাজনক, এই মতামতের সাথে আমি একমত।
দীর্ঘমেয়াদি ঋণযোগ্য তহবিলের বাজারকে পুঁজিবাজার বলে। পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত মূলধনকে স্থায়ী মূলধন হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ শেয়ার মূলধনের কোনো নির্দিষ্ট পরিশোধ মেয়াদকাল নেই। সাধারণত ব্যাংক বা অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ নিলে তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সুদসহ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু শেয়ার মূলধন কোম্পানি যতদিন টিকে থাকে, ততদিন পরিশোধ করতে হয় না। এছাড়া ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জামানত দিতে হয়, কিন্তু শেয়ার মূলধনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জামানতের প্রয়োজন হয় না।
উদ্দীপকে মি. X-এর উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নিজস্ব সংরক্ষিত মুনাফা ও ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থসংগ্রহ করেন। কিন্তু তার প্রয়োজনীয় মূলধনের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় এই অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো যথেষ্ট ছিল না। এই বিশাল পরিমাণ মূলধন ব্যাংক বা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কারণ সেক্ষেত্রে প্রচুর জামানত প্রয়োজন হতো। এসব দিক বিবেচনা করেই মি. X তার প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন, যা তার ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছে।
সাধারণ শেয়ারের মাধ্যমে কোম্পানি অতি সহজে বৃহৎ অংকের অর্থসংস্থান করতে পারে। ঋণকৃত মূলধনের মতো এখানে নির্দিষ্ট সুদ দিতে হয় না; বরং লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। আর ব্যবসায় লাভ না হলে লভ্যাংশ না দিলেও চলে, ফলে কোম্পানির ঝুঁকি কমে। বিপরীতে, ব্যাংক ঋণ নিলে ব্যবসায় ক্ষতি হলেও সুদ পরিশোধ করতে হয়, যা প্রতিষ্ঠানকে সংকটে ফেলতে পারে।
উপরের আলোচনা ও উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, বৃহৎ অংকের মূলধন সংগ্রহ, জামানতহীন অর্থায়ন এবং ঝুঁকি কমানোর দিক থেকে অন্যান্য উৎসের তুলনায় পুঁজিবাজারই অধিক সুবিধাজনক।