মি. text 'X' একজন অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক। তিনি শ্রেণিকক্ষে মুদ্রার মূল্য ও দামস্তরের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একজন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদের বক্তব্য পেশ করেন। বক্তব্যটি হলো, "মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা ও দামস্তর বিপরীতভাবে সম্পর্কযুক্ত।" মুদ্রার পরিমাণ দ্বিগুণ হলে দ্রব্যের দামস্তর দ্বিগুণ হয় কিন্তু মুদ্রার মূল্য অর্ধেক হয়। ক. বিহিত মুদ্রা কী? খ. ব্যাংক হার কীভাবে মুদ্রার যোগানকে প্রভাবিত করে? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটির সাথে সম্পর্কিত তত্ত্বটি আলোচনা কর। ঘ. উদ্দীপক অনুযায়ী মুদ্রার পরিমাণ চারগুণ হলে মুদ্রার মূল্য কত হবে? একটি গাণিতিক উদাহরণের মাধ্যমে বিশ্লেষণ কর।
বিষয়: অর্থনীতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মুদ্রা ও ব্যাংক
উৎস: Board Exam Question BB 2018, Board Exam Question ChB 2018, Board Exam Question RB 2018, Board Exam Question CB 2018
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা: (ক) সরকার আইনের মাধ্যমে যে মুদ্রা চালু করে এবং যা মূল্যের পরিমাপক, সঞ্চয়ের বাহন ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে দেশের জনসাধারণ গ্রহণ করতে বাধ্য থাকে, তাকে বিহিত মুদ্রা বলে। (খ) ব্যাংক হারের পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে, যা পরোক্ষভাবে মুদ্রার যোগানকে প্রভাবিত করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন দেশে মুদ্রার যোগান বা ঋণের পরিমাণ কমাতে চায়, তখন ব্যাংক হার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়, ফলে তারা গ্রাহকদের জন্য ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এতে ঋণের চাহিদা কমে এবং বাজারে মুদ্রার যোগান হ্রাস পায়। বিপরীতভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার কমিয়ে দিলে ঋণের সুদের হার কমে, ফলে ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে মুদ্রার যোগান বাড়ে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটির সাথে সম্পর্কিত তত্ত্বটি হলো অধ্যাপক আরভিং ফিশারের বিনিময় সমীকরণ বা অর্থের পরিমাণ তত্ত্ব। ফিশারের মতে, সমাজে কেবল লেনদেনের প্রয়োজনেই অর্থের চাহিদার উৎপত্তি হয়। এই ধারণার ভিত্তিতে তিনি একটি সমীকরণের মাধ্যমে অর্থের পরিমাণ ও দামস্তরের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন। ফিশারের বিনিময় সমীকরণটি হলো: MV = PT এখানে, M = বিহিত মুদ্রার পরিমাণ V = বিহিত অর্থের প্রচলন গতি P = মূল্যস্তর বা দামস্তর T = লেনদেনকৃত মোট দ্রব্যসামগ্রীর পরিমাণ ফিশারের মতে, অর্থের প্রচলন গতি V এবং লেনদেনের পরিমাণ T স্থির থাকলে, মুদ্রার পরিমাণ M যে অনুপাতে পরিবর্তিত হয়, দামস্তর P-ও একই অনুপাতে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ, মুদ্রার পরিমাণ ও দামস্তরের মধ্যে একমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। পরবর্তীতে ফিশার ব্যাংক ঋণ বা ঋণপত্রকে অর্থ যোগানের অন্তর্ভুক্ত করে তাঁর সমীকরণটি সংশোধন করেন। সংশোধিত সমীকরণটি হলো: PT = MV + M'V' এখানে, M' = ঋণপত্রের পরিমাণ V' = ঋণপত্রের প্রচলন গতি ফিশারের মতে, স্বল্পমেয়াদে V, V' এবং T অপরিবর্তিত থাকে। এরূপ ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ M এবং ঋণপত্রের পরিমাণ M' যে হারে পরিবর্তিত হয়, দামস্তর P-ও একই হারে পরিবর্তিত হয়। (ঘ) উদ্দীপক অনুযায়ী, মুদ্রার পরিমাণ চারগুণ হলে মুদ্রার মূল্য কত হবে তা একটি গাণিতিক উদাহরণের মাধ্যমে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো। ধরি, একটি দেশের অর্থবাজারের প্রাথমিক তথ্যসমূহ নিম্নরূপ: বিহিত অর্থের পরিমাণ, M = 200 অর্থের প্রচলন গতি, V = 10 ঋণপত্রের পরিমাণ, M' = 100 ঋণপত্রের প্রচলন গতি, V' = 5 লেনদেনের পরিমাণ, T = 100 প্রাথমিক অবস্থায় দামস্তর P হবে: beginaligned P &= MV + M'V'/T &= (200 × 10) + (100 × 5)/100 &= 2000 + 500/100 &= 2500/100 &= 25 endaligned প্রাথমিক অবস্থায় মুদ্রার মূল্য, V_m = 1/P = 1/25 = 0.04 এখন, উদ্দীপক অনুযায়ী মুদ্রার পরিমাণ চারগুণ হলে: নতুন বিহিত অর্থের পরিমাণ, M = 200 × 4 = 800 নতুন ঋণপত্রের পরিমাণ, M' = 100 × 4 = 400 অন্যান্য চলক (V, V', T) স্থির থাকলে নতুন দামস্তর P হবে: beginaligned P &= (800 × 10) + (400 × 5)/100 &= 8000 + 2000/100 &= 10000/100 &= 100 endaligned নতুন অবস্থায় মুদ্রার মূল্য, V_m = 1/P = 1/100 = 0.01 বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, মুদ্রার পরিমাণ চারগুণ করার ফলে দামস্তর 25 থেকে বেড়ে 100 হয়েছে (অর্থাৎ চারগুণ হয়েছে) এবং মুদ্রার মূল্য 0.04 থেকে কমে 0.01 হয়েছে। অতএব, উদ্দীপক অনুযায়ী মুদ্রার পরিমাণ চারগুণ হলে মুদ্রার মূল্য হবে প্রাথমিক মূল্যের চার ভাগের এক ভাগ বা 1/4 অংশ।
প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)