(ক)
যেসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের মাধ্যমে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, তাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলা হয়।
(খ)
ব্যবসায়িক কার্যাবলীর ক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত এবং ভালো-মন্দ বিচারের মাপকাঠিকে ব্যবসায় নৈতিকতা বলে।
ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য নৈতিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন। নৈতিকতা বজায় রাখলে ব্যবসায়ের বিভিন্ন পক্ষের সাথে ব্যবসায়ীর সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এছাড়া, ভোক্তারা ঐ ব্যবসায়ীর প্রতি আস্থাবান থাকে, যার ফলে বাজারে নৈতিকতা অনুসরণকারী ব্যবসায়ীর সুনাম বৃদ্ধি পায়। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দীর্ঘমেয়াদে সফলতার সাথে টিকে থাকতে হলে ব্যবসায় নৈতিকতা মেনে চলা অপরিহার্য।
(গ)
উদ্দীপকের X ব্যাংক ই-ব্যাংকিং (E-banking) পদ্ধতি চালু করেছে।
ই-ব্যাংকিং বা ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের প্রচলিত কাজগুলো যেমন: অর্থ জমা দেওয়া, উত্তোলন, বিল পরিশোধ এবং হিসাব যাচাই করা হয়। এই পদ্ধতিতে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সুরক্ষিত থাকে এবং গ্রাহক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে লেনদেন করতে পারেন।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, মি. সুদর্শন যে ব্যাংকে কর্মরত সেখানে লেজার বুকের পরিবর্তে কম্পিউটারে গ্রাহকদের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। তথ্য আদান-প্রদানে চিঠির পরিবর্তে মোবাইল মেসেজ ও ইমেইল ব্যবহার করা হয়। গ্রাহকরা ব্যাংকে না গিয়ে বুথ থেকে টাকা তুলতে পারেন এবং বিল পরিশোধ করতে পারেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ই-ব্যাংকিং পদ্ধতির সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। অতএব, বলা যায় যে X ব্যাংক ই-ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করেছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশেষ কার্ডটি গ্রাহকদের লেনদেন প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে, এই বিষয়ে আমি একমত। উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী এই বিশেষ কার্ডটি হলো ডেবিট কার্ড।
ডেবিট কার্ড হলো চুম্বকীয় শক্তিসম্পন্ন প্লাস্টিকের তৈরি একটি ইলেকট্রনিক কার্ড, যা গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এই কার্ড ব্যবহারের জন্য গ্রাহকের হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ জমা থাকতে হয়। কার্ডটির মাধ্যমে গ্রাহক যেকোনো সময় এটিএম (ATM) বুথ থেকে টাকা তুলতে পারেন, ফলে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি ও ঝামেলা কমে।
উদ্দীপকের X ব্যাংকের গ্রাহকরা কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংকে না গিয়ে যেকোনো বুথ থেকে সব সময় টাকা তুলতে পারছেন। শুধু তাই নয়, তারা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্যের দাম পরিশোধ, বিল প্রদান এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদান করছেন। এর ফলে লেনদেনের সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং নগদ অর্থ চুরি বা ছিনতাই হওয়ার ভয় থাকছে না।
পরিশেষে বলা যায়, নগদ অর্থের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক কার্ডের মাধ্যমে দ্রুত, নিরাপদ এবং সহজতর উপায়ে লেনদেন সম্পন্ন করা যাচ্ছে। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত বিশেষ কার্ডটি গ্রাহকদের লেনদেন প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে বলে আমি মনে করি।