(ক)
একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশের জনগণ বিভিন্ন প্রয়োজনে যে পরিমাণ নগদ মুদ্রা হাতে ধরে রাখতে চায়, তাকে অর্থের চাহিদা বলে।
(খ)
বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে অনেক সহজ ও গতিশীল করেছে মোবাইল ব্যাংকিং। মোবাইল ব্যাংকিং ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দ্রুত লেনদেন: মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব দ্রুত অর্থের লেনদেন করতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেনের হালনাগাদ তথ্য জানতে পারেন।
২. স্বল্প খরচ: এই পদ্ধতিতে লেনদেনের খরচ অত্যন্ত কম, যা সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী।
৩. সহজ প্রক্রিয়া: এটি অনলাইন ব্যাংকিং-এর চেয়েও সহজ এবং এর জন্য জটিল কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না।
৪. সহজলভ্যতা: স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এখন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারছে।
৫. নিরাপত্তা: এখানে লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকে, ফলে জালিয়াতির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
এই সকল সুবিধার কারণে মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
(গ)
উদ্দীপক অনুযায়ী, মি. মিজান বাণিজ্যিক ব্যাংকে এবং মি. সিরাজুল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাজ করেন।
বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করে এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে। সহজ কথায়, যে ব্যাংক জনসাধারণের নিকট হতে আমানত গ্রহণ করে এবং ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে জনগণকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করে, তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মিজানের চাকরিরত ব্যাংকটি আমানত গ্রহণ, ঋণ আমানত সৃষ্টি ও মূলধন গঠন সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো একটি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যাংক, যাকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এটি মুদ্রার প্রচলন, ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার নির্ধারণ এবং সরকারের ব্যাংক হিসেবে কাজ করে। উদ্দীপকে মি. সিরাজুলের চাকরিরত ব্যাংকটি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দামস্তরের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও নিকাশঘর সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে এটি একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
(ঘ)
মি. সিরাজুল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাজ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন মুদ্রানীতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্যাংক হার পরিবর্তন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে হারে ঋণ প্রদান করে বা তাদের নিকট থেকে আমানত গ্রহণ করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। যখন অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় বা ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে ঋণগ্রহীতাদের ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ঋণের চাহিদা কমে যায়। আবার মন্দার সময় ব্যাংক হার কমিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কম সুদে ঋণ সহজলভ্য হয় এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
২. নগদ জমার হার পরিবর্তন: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়, যাকে নগদ জমার হার বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি এই জমার হার বাড়িয়ে দেয়, তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ঋণ দেওয়ার মতো অর্থের পরিমাণ কমে যায়, ফলে ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়। বিপরীতভাবে, জমার হার কমিয়ে দিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য বৃদ্ধি পায় এবং তারা অধিক ঋণ প্রদান করতে পারে।
৩. খোলাবাজার নীতি: খোলাবাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ বা ঋণপত্র ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের তারল্য নিয়ন্ত্রণ করে। মুদ্রাস্ফীতির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র বিক্রি করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চলে যায় এবং তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। আবার মন্দার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ঋণপত্র ক্রয় করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ অর্থ সরবরাহ করে, যা তাদের ঋণদান ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যাংক হার, নগদ জমার হার এবং খোলাবাজার নীতির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সামগ্রিক ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।