(ক)
বন্ড হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দলিল, যা বিক্রি করে কোম্পানি বা সরকার তহবিল সংগ্রহ করে।
(খ)
প্রাইমারি শেয়ারের দাম পূর্ব নির্ধারিত হওয়ায় এ ধরনের শেয়ারে ঝুঁকি কম।
কোনো কোম্পানি যখন পুঁজিবাজারে নতুন শেয়ার বিক্রির জন্য ছাড়ে তখন তাকে প্রাথমিক বা প্রাইমারি শেয়ার বলে। এরূপ শেয়ার সাধারণত ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিক শেয়ারের ফেস ভ্যালু (Face Value) হলো এর নির্ধারিত মূল্য। প্রাথমিক শেয়ারের মালিকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থে রূপান্তর করতে পারে। এমনকি মন্দার সময়েও এই শেয়ারগুলো ফেস ভ্যালুতে বিক্রি করা যায়। ফলে এতে মূলধন হারানোর ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা খুব কম থাকে। তাই বলা যায়, অন্যান্য শেয়ারের তুলনায় প্রাইমারি শেয়ারে ঝুঁকি কম।
(গ)
মি. 'ক' ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত মুনাফা পাবেন।
বাণিজ্যিক ব্যাংকে জনগণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট সুদের হারের প্রেক্ষিতে তাদের অর্থ সঞ্চিত রাখে। এই খাত থেকে বিনিয়োগকারী সুনিশ্চিত মুনাফা পেয়ে থাকে। একইভাবে, বাংলাদেশ সরকার সমাজের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করতে এবং মুনাফা প্রদানের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করতে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র চালু করেছে। সঞ্চয়পত্রের জন্য প্রদেয় মুনাফার হার নির্দিষ্ট, যা নির্দিষ্ট সময়ের পর প্রদান করা হয়।
উদ্দীপকে মি. 'ক' তার পেনশনের টাকার কিছু অংশ ব্যাংকে রেখেছেন এবং ২০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন। সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পূর্তির পর মুনাফা ও আসল টাকা ফেরত পাওয়া যায় এবং মেয়াদ পূর্তির পূর্বে ভেঙে ফেললেও হ্রাসকৃত নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়া যায়। এক কথায়, ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত মুনাফা নির্ধারিত ও নিশ্চিত। সুতরাং, মি. 'ক' এই দুটি খাত থেকে সুনিশ্চিত মুনাফা পাবেন।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. 'ক'-এর শেষোক্ত বিনিয়োগ অর্থাৎ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে মুনাফা পাওয়া অনিশ্চিত, কিন্তু এখান থেকে সবচেয়ে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
যৌথ মূলধনী কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান অংশে বিভক্ত করা হলে বিভাজিত এক একটি অংশকে শেয়ার বলে। শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার ক্রয় করে যেমন কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করে, তেমনি কোম্পানির ঝুঁকিও বহন করে।
উদ্দীপকের মি. 'ক'-এর মতো বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের লভ্যাংশ কোম্পানির লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে পেয়ে থাকে। শেয়ারের বাজার দাম চাহিদা ও যোগানের সমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যার ফলে দাম প্রতিনিয়ত ওঠা-নামা করে। এতে মুনাফার পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে, যা একে অনিশ্চিত করে তোলে। তবে যেসব কোম্পানির সুনাম বেশি এবং যারা বছর শেষে অধিক স্টক ডিভিডেন্ড বা ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করে, সেগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং বাজার দাম অনেক বেড়ে যায়। এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে বিনিয়োগকারী বিপুল মুনাফা লাভ করতে পারেন।
আবার কোনো কোম্পানির চাহিদা হঠাৎ কমে গেলে শেয়ারের দাম ও মুনাফাও কমে যায়, যা ঝুঁকি তৈরি করে। তাই বলা যায়, শেয়ারের দরপতনের কারণে মুনাফা অনিশ্চিত হলেও, মূল্যবৃদ্ধির সময়ে এই খাত থেকেই সবচেয়ে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।