Facebook Pixel

মি. কাইমউদ্দীন নূরগঞ্জ এলাকার জমিদার ছিলেন। তার স্ত্রী জুলেখা বেগম ছিলেন যেমন অপরূপা সুন্দরী' তেমনি বুদ্ধিমতী ও সুনিপুণা। অল্প সময়ের মধ্যেই জুলেখা বেগম জমিদার মি. কাইমউদ্দীনের প্রিয়পাত্রী হয়ে ওঠেন। ফলে আরামপ্রিয় জমিদারের ওপর তার স্ত্রী প্রভাব বিস্তার করেন এবং পর্দার আড়ালে প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারিণী হন। ক. কত খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন? খ. মনসবদার প্রথা সম্পর্কে লেখো। গ. উদ্দীপকের জুলেখা বেগমের সাথে মুঘল আমলের কোন মহীয়সী নারীর মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত মহীয়সী নারীর কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

উৎস: Board Exam Question Combined 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সম্রাট আকবর ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। (খ) মুঘল সম্রাট আকবর সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তাই মনসবদার প্রথা নামে পরিচিত। 'মনসব' শব্দের অর্থ পদ বা মর্যাদা। এ পদের অধিকারীকে 'মনসবদার' বলা হয়। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের অব্যবস্থা দূর করার জন্য সম্রাট আকবর ১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে শাহবাজ খানকে মীর বকশি (সামরিক বাহিনীর প্রধান) নিয়োগ করে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এটিই 'মনসবদারি প্রথা'। এ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ের মনসবদার তাদের অধীনে যথাক্রমে মোট দশ হাজার এবং ১০ জন সৈন্য রাখতে পারতেন। (গ) উদ্দীপকের জুলেখা বেগমের সাথে মুঘল আমলের মহীয়সী নারী নূরজাহানের মিল রয়েছে। নূরজাহানের প্রকৃত নাম মেহের-উন-নিসা। তিনি মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ছিলেন। তিনি অসামান্য রূপের অধিকারী ছিলেন। তাই সম্রাট জাহাঙ্গীর তাকে নূরজাহান (পৃথিবীর আলো) উপাধি দিয়ে মর্যাদায় ভূষিত করেন। এরপর থেকে মেহের-উন-নিসা নূরজাহান নামেই পরিচিতি লাভ করেন। প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার দৌলতে রাজপরিবারের সর্বত্রই তার কর্তৃত্ব ছিল। উদ্দীপকের জুলেখা বেগমের ক্ষেত্রেও অনুরূপ দেখা যায়। নূরগঞ্জ এলাকার জমিদার মি. কাইমউদ্দীনের স্ত্রী জুলেখা বেগম যেমন অপরূপা সুন্দরী তেমনি বুদ্ধিমতী ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জমিদার মি. কাইমউদ্দীনের প্রিয়পাত্রী হয়ে ওঠেন। ফলে তিনি সহজেই আরামপ্রিয় জমিদার স্বামীর ওপর প্রভাব বিস্তার করেন এবং পর্দার আড়ালে প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারিণী হন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের ওপরও তার স্ত্রী নূরজাহানের অপরিসীম প্রভাব ছিল। জাহাঙ্গীর আরামপ্রিয় ছিলেন। এ সুযোগে সম্রাটকে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে নূরজাহান তার আত্মীয়-স্বজনদের রাজ্যের উচ্চপদে নিয়োগ দেন। তার পিতা মির্জা গিয়াস বেগ এবং ভাই আসফ খানকে জাহাঙ্গীরের উজির নিযুক্ত করা হয়। নূরজাহান সাম্রাজ্যে অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার ক্ষমতা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, জাহাঙ্গীর নামমাত্র সম্রাটে পরিণত হয়েছিলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে উদ্দীপকের জুলেখা বেগম এবং মুঘল মহীয়সী নূরজাহান একে অন্যের প্রতিরূপ। (ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহান ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, গভীর জ্ঞান এবং অনন্য প্রতিভার অধিকারী, যার ফলশ্রুতিতে তিনি প্রায় ১৫ বছর নেপথ্যে থেকে মুঘল সাম্রাজ্যকে পরিচালিত করেন। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের প্রেম ও পরে স্ত্রী হিসেবে শাসনকাজে প্রভাব বিস্তার মুঘল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নূরজাহানের পিতা পারস্যের অধিবাসী মির্জা গিয়াস বেগ ভাগ্যান্বেষণে ভারতে এসেছিলেন। নানা ঘটনার পর ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের বিয়ে হয়। নূরজাহান স্বামীর ওপর এতটাই প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, অনেকে বলতে বাধ্য হন জাহাঙ্গীর নন, নূরজাহানই ছিলেন সাম্রাজ্যের প্রকৃত শাসক। নূরজাহান তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও আকর্ষণীয় গুণের বলে সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। নূরজাহানের অসামান্য রূপ ও গুণে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট তাকে প্রধান মহিষীর মর্যাদা দিয়ে প্রথমে নূরমহল (প্রাসাদের আলো) এবং পরে নূরজাহান (পৃথিবীর আলো) উপাধি দেন। বিয়ের পর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যে প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তিনি। তিনি শাসনক্ষমতা নিজ হাতে গ্রহণ না করলেও সম্রাটকে হাতের পুতুলে পরিণত করেন। মুদ্রায় সম্রাটের সাথে তার নামও অঙ্কিত হতো। নূরজাহানের ছিল প্রখর বুদ্ধি ও অসাধারণ জ্ঞান। শিল্প-সাহিত্যের প্রতিও প্রবল আকর্ষণ ছিল তার। নূরজাহানের এ গুণাবলি মুঘল দরবারকে গৌরব ও প্রশাসনিক সাফল্য এনে দিয়েছে। তবে তিনি এর মূল্য হিসেবে রাজপরিবার ও সাম্রাজ্যের মানুষের কাছে কূটকৌশলী ও ছলনাময়ীরূপেও পরিচিতি লাভ করেন। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান তার রূপ ও অসাধারণ যোগ্যতাবলে জাহাঙ্গীরের সময় মুঘল সাম্রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ তাকে সিংহাসনের 'নেপথ্যের শক্তি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2019)

মি. কাইমউদ্দীন নূরগঞ্জ এলাকার জমিদার ছিলেন। তার স্ত্রী জুলেখা বেগম ছিলেন যেমন অপরূপা সুন্দরী' তেমনি বুদ্ধিমতী ও সুনিপুণা। অল্প সময়ের মধ্যেই জুলেখা বেগম জমিদার মি. কাইমউদ্দীনের প্রিয়পাত্রী হয়ে ওঠেন। ফলে আরামপ্রিয় জমিদারের ওপর তার স্ত্রী প্রভাব বিস্তার করেন এবং পর্দার আড়ালে প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারিণী হন।

ক. কত খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন?

খ. মনসবদার প্রথা সম্পর্কে লেখো।

গ. উদ্দীপকের জুলেখা বেগমের সাথে মুঘল আমলের কোন মহীয়সী নারীর মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত মহীয়সী নারীর কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আজম খান পৈতৃক সূত্রে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয...

আশরাফ চৌধুরী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার ...

আশরাফ চৌধুরী পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হ...

ইতিহাসে যুদ্ধে প্রথম কামান ব্যবহার করেন কে?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: মধ্যগড়ের রাজা ভূমি সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রজাদের জমির মালিকানা সত্ব স্বীকার করে তাদের ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: মধ্যগড়ের রাজা ভূমি সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রজাদের জমির মালিকানা সত্ব স্বীকার করে তাদের ...

উসমানের পূর্ব পুরুষরা গোবি মরুভূমির একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের শাসক ছিলেন। যেখানে শত্রুপক্ষের শক্তির কারণে সুবিধা করতে না পেরে...

এক মুঘল সম্রাটের নামের অর্থ ছিল সৌভাগ্যবান। সম্রাট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি প্রথম জীবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ...

এক সাম্রাজ্যের শাসক তার জ্যেষ্ঠপুত্রকে অধিক ভালোবাসতেন। তার কনিষ্ঠ পুত্র শিক্ষাদীক্ষা, জ্ঞান-গরিমায জ্যেষ্ঠপুত্র অপেক্ষা...

একটি ছোট রাজ্যের রাজার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ফাহমিদ সিংহাসনে বসেন। ফাহমিদ অল্প বয়সী ও অনভিজ্ঞ হওয়ার কারণে নিকটাত্মীয় ও ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।