Facebook Pixel

মি. আলেক্স উত্তরাধিকারসূত্রে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি লক্ষ করলেন অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণে সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তিনি নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' বলে ঘোষণা করেন। সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি অবলম্বন। করেন। তার এ পদক্ষেপ সাম্রাজ্যের সংহতির জন্য সহায়ক হয়। তিনি দীর্ঘদিন দাপটের সাথে শাসনকার্য পরিচালনায় সক্ষম হন।' ক. কার নামানুসারে কুতুব মিনার নামকরণ করা হয়? খ. ক্ষমতা গ্রহণের পর ইলতুৎমিশের সমস্যা চিহ্নিত কর। গ. উদ্দীপকের সাথে দাস বংশের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত শাসকের পদক্ষেপ সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল- মন্তব্য কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question Combined 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) প্রখ্যাত সুফি সাধক কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে কুতুব মিনারের নামকরণ করা হয়। (খ) সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যুর পর তার পুত্র আরামশাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু আরামশাহের অকর্মণ্যতার কারণে সালতানাতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এই সংকটময় মুহূর্তে ইলতুৎমিশ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: ১. সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া বিদ্রোহ দমন করা। ২. সামন্ত রাজাদের দিল্লি সুলতানের কর্তৃত্ব মানতে অস্বীকৃতি এবং কর প্রদানে বাধা। ৩. অভিজাতবর্গের ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতা। ৪. বহিঃশত্রু হিসেবে মোঙ্গলদের উপর্যুপরি আক্রমণ। সুলতান ইলতুৎমিশ তার দৃঢ় সংকল্প ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে এসব সমস্যা মিটিয়ে সালতানাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। (গ) উদ্দীপকের মি. আলেক্সের কর্মকাণ্ডের সাথে দাস বংশের শাসক গিয়াসউদ্দিন বলবনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আলেক্স উত্তরাধিকারসূত্রে সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়ে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলা করেন এবং নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' বলে ঘোষণা করে সেনাবাহিনী পুনর্গঠন ও কঠোর নীতি অবলম্বন করেন। অনুরূপভাবে, সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন যখন দিল্লির সিংহাসনে উপবিষ্ট হন, তখন তিনি প্রায় শূন্য রাজকোষ, অভিজাত সম্প্রদায়ের ঔদ্ধত্য, মেওয়াটি দস্যুদের উপদ্রব এবং মোঙ্গল আক্রমণের মতো ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বলবন নিজেকে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন। রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য তিনি শরিয়তের শাসন কায়েম, দুর্নীতি বিলোপ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি প্রভাবশালী 'চল্লিশ চক্র' দমন করেন, মেওয়াটি দস্যু ও দোয়াব ও রোহিলাখণ্ডের বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করেন এবং একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করে তিনি সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করার চেষ্টা করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মি. আলেক্সের শাসনপদ্ধতি ও পদক্ষেপগুলো দিল্লি সালতানাতের সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের শাসনব্যবস্থার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। (ঘ) সুলতান বলবনের শাসনব্যবস্থায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল, এই মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। ইতিহাসবিদ ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, বলবনের দীর্ঘ চল্লিশ বছরের কঠোর রাজত্বকাল ভারতবর্ষের মধ্যযুগের ইতিহাসে অনন্যসাধারণ। একজন সাধারণ ক্রীতদাস হিসেবে জীবন শুরু করে সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়ে তিনি স্বীয় প্রতিভা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সংহতি বিধান করেন। যদিও তিনি বিশাল রাজ্য জয় করতে পারেননি, তবে আমির-কর্মচারীদের বিদ্রোহ, উপজাতীয়দের অশান্তি এবং চল্লিশ চক্রের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে নস্যাৎ করে তিনি দিল্লি সালতানাতের অভ্যন্তরীণ সংহতি আনয়ন করেন। বলবনের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল প্রশংসনীয়। মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য তিনি সীমান্ত প্রদেশ গঠন, দুর্গ নির্মাণ এবং দক্ষ গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেন। তার শাসনব্যবস্থা একনায়কতান্ত্রিক ও কঠোর হলেও তা ছিল জনকল্যাণকর, কারণ তিনি পাপাচার ও দুর্নীতি বিলোপ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তৎকালীন শাসকদের মধ্যে অত্যন্ত শিক্ষিত ও উদার ছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, সুলতান বলবন তার কঠোর শাসননীতি, সামরিক সংস্কার এবং রাজকীয় মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের ভিত্তিকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেন এবং সুলতানের পদকে আরও বেশি মর্যাদাবান করে তোলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2019)

মি. আলেক্স উত্তরাধিকারসূত্রে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি লক্ষ করলেন অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণে সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তিনি নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' বলে ঘোষণা করেন। সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি অবলম্বন। করেন। তার এ পদক্ষেপ সাম্রাজ্যের সংহতির জন্য সহায়ক হয়। তিনি দীর্ঘদিন দাপটের সাথে শাসনকার্য পরিচালনায় সক্ষম হন।'

ক. কার নামানুসারে কুতুব মিনার নামকরণ করা হয়?

খ. ক্ষমতা গ্রহণের পর ইলতুৎমিশের সমস্যা চিহ্নিত কর।

গ. উদ্দীপকের সাথে দাস বংশের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত শাসকের পদক্ষেপ সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল- মন্তব্য কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

'আইবেক' শব্দের অর্থ কী?

আলাউদ্দিন খলজির শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল-

আলী ইমাম খুবই বুদ্ধিমান ও সুন্দর দেহের অধিকারী ছিলেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ভ্রাতাগণ তাকে ক্রী...

ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন-ব্যাখ্যা কর।

ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার কারণ তিনি-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।