Facebook Pixel

মি. আলেক্স উত্তরাধিকারসূত্রে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি লক্ষ করলেন অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণে সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তিনি নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' বলে ঘোষণা করেন। সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি অবলম্বন করেন। তার এ পদক্ষেপ সাম্রাজ্যের সংহতির জন্য সহায়ক হয়। তিনি দীর্ঘদিন দাপটের সাথে শাসনকার্য পরিচালনায় সক্ষম হন। ক. কার নামানুসারে কুতুব মিনার নামকরণ করা হয়? খ. মালিক কাফুরের খ্যাতির কারণ কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে দাস বংশের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত শাসকের পদক্ষেপ সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল মন্তব্য কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

উৎস: Test Exam Question CVGC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে কুতুব মিনারের নামকরণ করা হয়। (খ) আলাউদ্দিন খলজির অন্যতম সেনাপতি মালিক কাফুর একজন খোজা হিন্দু ছিলেন। এক হাজার দিনারের বিনিময়ে ক্রীত হয়ে তিনি গুজরাটে আসেন বলে তাকে হাজার দিনারিও বলা হয়। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি তার বহুবিধ গুণ ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তাকে মালিক নায়েব ঘোষণা করেন এবং মালিক-তাজ-উল-মালিক কাফুর উপাধিতে ভূষিত করেন। মূলত সুলতানের প্রিয়ভাজন ব্যক্তি হিসেবে মালিক কাফুর দক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেন। (গ) উদ্দীপকের সাথে দাস বংশের শাসক গিয়াসউদ্দিন বলবনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। মি. আলেক্স উত্তরাধিকারসূত্রে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি লক্ষ করলেন অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণে সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তিনি নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' বলে ঘোষণা করেন, সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন এবং রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি অবলম্বন করেন। অনুরূপ বলবন গিয়াসউদ্দিন উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। বলবন সিংহাসনে আরোহণ করে প্রায় শূন্য রাজকোষ, আমীর-ওমরাহ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান ঔদ্ধত্য, দ্বন্দ্ব-কলহ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপ, দিল্লির সন্নিকটস্থ মেওয়াটি দস্যুদের ক্রমবর্ধমান উপদ্রব, উপর্যুপরি মোঙ্গলদের আক্রমণে সাম্রাজ্যের সংকটাপন্ন অবস্থা প্রভৃতি সমস্যার সম্মুখীন হন। এসব সমস্যার প্রতিরোধে বলবন নিজেকে আল্লাহর প্রতিনিধি (জিল-আল্লাহ) হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সংস্কার কার্য গ্রহণ করেন। রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি ধর্ম রক্ষা ও শরিয়তের শাসন কায়েম, পাপাচার ও দুর্নীতি বিলোপ, ধার্মিক ও সদ্বংশীয় লোকদের রাজকার্যে নিয়োগ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি সুলতানের শাসনের জন্য ক্ষতিকর চল্লিশচক্র দমন করেন, মেওয়াটি দস্যুদের দমন, দোয়াবের বিদ্রোহ দমন, রোহিলাখণ্ডের বিদ্রোহ দমন, গোয়েন্দা ব্যবস্থার প্রণয়ন প্রভৃতির মাধ্যমে এক কঠোর শাসননীতি চালু করেন। মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করে সুলতান সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করার প্রয়াস পান। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মি. আলেক্স-এর সাথে দিল্লি সালতানাতের গিয়াসউদ্দিন বলবনের শাসনব্যবস্থাই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। (ঘ) উক্ত শাসক অর্থাৎ সুলতান বলবনের শাসনব্যবস্থায় গৃহীত পদক্ষেপ সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল, মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, "চল্লিশ বছরব্যাপী বলবনের দীর্ঘ কঠোর কার্যক্রমসংবলিত রাজত্বকাল ভারতবর্ষের মধ্যযুগের ইতিহাসে অনন্যসাধারণ।" একজন নগণ্য ক্রীতদাস হিসেবে জীবন শুরু করে সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ পদটি লাভ করে স্বীয় প্রতিভা ও কর্মদক্ষতাবলে সাম্রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সংহতি বিধান করে তিনি অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দেন। রাজ্য জয় করা সম্ভব না হলেও আমির-কর্মচারীদের ক্রমাগত বিদ্রোহ, উপজাতীয়দের বিদ্রোহ, চল্লিশ চক্রের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে নস্যাৎ করে এবং মোঙ্গলদের হাত থেকে সাম্রাজ্যকে রক্ষা করে তিনি দিল্লি সালতানাতের সংহতি আনয়ন করেন। ড. ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "বলবনের চল্লিশ বছরব্যাপী পরিপূর্ণ সংগ্রাম জীবনের কার্যক্রম মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা।" বলবন শাসকের গুণ ও প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সব বিদ্রোহাত্মক এবং অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ, গুপ্তচর নিয়োগ, সীমান্ত প্রদেশ গঠন এবং দুর্গ প্রতিষ্ঠা দ্বারা তিনি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তার শাসনব্যবস্থার ভিত্তি একনায়কতান্তিক ও স্বেচ্ছাচারী হলেও তা ছিল জনকল্যাণকর। কেননা শাসনক্ষেত্রে যদিও তিনি কঠোরতা অবলম্বন করতেন, তথাপি তদানীন্তন শাসকদের মধ্যে তিনি ছিলেন দয়ালু, শিক্ষিত ও উদার।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Comilla Victoria Govt. College (2026)

মি. আলেক্স উত্তরাধিকারসূত্রে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি লক্ষ করলেন অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণে সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তিনি নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' বলে ঘোষণা করেন। সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি অবলম্বন করেন। তার এ পদক্ষেপ সাম্রাজ্যের সংহতির জন্য সহায়ক হয়। তিনি দীর্ঘদিন দাপটের সাথে শাসনকার্য পরিচালনায় সক্ষম হন। ক. কার নামানুসারে কুতুব মিনার নামকরণ করা হয়? খ. মালিক কাফুরের খ্যাতির কারণ কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে দাস বংশের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত শাসকের পদক্ষেপ সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল মন্তব্য কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

'আইবেক' শব্দের অর্থ কী?

আলাউদ্দিন খলজির শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল-

আলী ইমাম খুবই বুদ্ধিমান ও সুন্দর দেহের অধিকারী ছিলেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ভ্রাতাগণ তাকে ক্রী...

ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন-ব্যাখ্যা কর।

ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার কারণ তিনি-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।