(ক)
অর্থায়ন হলো অর্থ সংগ্রহ এবং সংগৃহীত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজ।
(খ)
বন্ড হলো এক ধরনের ঋণপত্র যা বিক্রি করে সরকার অথবা কোনো প্রতিষ্ঠান জনগণের নিকট থেকে তহবিল সংগ্রহ করে। বন্ডের ক্রেতা প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে সুদের মাধ্যমে আয় করে থাকে। বন্ডের মালিকগণ কারবারের কোনো দায় বহন করে না এবং কারবারে লাভ বা লোকসান যাই হোক না কেন তারা সুনির্দিষ্ট হারে সুদ পেয়ে থাকে। তাই বন্ড বিনিয়োগে ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
(গ)
উদ্দীপকে মিজান সাহেব ২০ টাকা মূল্যে সরাসরি কোম্পানি থেকে যে শেয়ারটি কিনেছেন তা হলো প্রাথমিক শেয়ার এবং বর্তমানে বাজারে যে ৯০ বা ১৫০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে তা হলো মাধ্যমিক শেয়ার। নিচে এই দুই প্রকার শেয়ারের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: কোম্পানি যখন মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রথমবার জনসাধারণের কাছে শেয়ার ইস্যু করে, তখন তাকে প্রাথমিক শেয়ার বলে। অন্যদিকে, প্রাথমিক শেয়ার যখন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেনাবেচা হয়, তখন তাকে মাধ্যমিক শেয়ার বা সেকেন্ডারি শেয়ার বলে।
২. উৎস বা প্রাপ্তিস্থান: প্রাথমিক শেয়ার সরাসরি কোম্পানি বা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা হয়। কিন্তু মাধ্যমিক শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জ বা ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে অন্য কোনো বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কিনতে হয়।
৩. মূল্য নির্ধারণ: প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য সাধারণত কোম্পানি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত থাকে। পক্ষান্তরে, মাধ্যমিক শেয়ারের মূল্য বাজারের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে।
৪. ঝুঁকির মাত্রা: প্রাথমিক শেয়ারে লোকসানের ঝুঁকি তুলনামূলক অনেক কম থাকে। কিন্তু মাধ্যমিক বাজারে শেয়ারের দাম দ্রুত ওঠানামা করার কারণে এখানে বিনিয়োগ ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
উদ্দীপকে মিজান সাহেবের ক্রয়কৃত ২০ টাকা মূল্যের শেয়ারটি প্রাথমিক শেয়ারের বৈশিষ্ট্য বহন করে। পক্ষান্তরে, শেয়ারটির দাম ১৫০ টাকা থেকে ৯০ টাকায় নেমে আসা মূলত মাধ্যমিক বাজারের অস্থিতিশীল প্রকৃতিকে নির্দেশ করে।
(ঘ)
শেয়ার এবং বন্ড, উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের হাতিয়ার হলেও এদের মূল্য পরিবর্তন, ঝুঁকি এবং আয়ের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। উদ্দীপকে শেয়ারের মূল্যে যে ব্যাপক পরিবর্তন বা অস্থিতিশীলতা লক্ষ করা গেছে, বন্ড মার্কেটের চিত্র সাধারণত তার বিপরীত হয়।
সাধারণত শেয়ারের বাজারমূল্য কোম্পানির ব্যবসায়িক সাফল্য, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দ্রুত ওঠানামা করে। শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির মালিকানার অংশীদার, তাই তাদের আয় অনিশ্চিত এবং পরিবর্তনশীল। অন্যদিকে, বন্ড হলো কোম্পানির ঋণপত্র। বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির পাওনাদার হিসেবে নির্দিষ্ট হারে সুদ পান। কোম্পানির লাভ বা ক্ষতি যাই হোক না কেন, বন্ডের সুদের হার এবং মেয়াদ শেষে আসল টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। ফলে বন্ডের বাজারমূল্য শেয়ারের মতো দ্রুত পরিবর্তিত হয় না। বন্ডের দামের সামান্য পরিবর্তন ঘটে মূলত ব্যাংক সুদের হারের পরিবর্তনের সাথে, যা সাধারণত ধীরলয়ে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'Y' কোম্পানির শেয়ারের দাম এক বছরের ব্যবধানে ১৫০ টাকা থেকে কমে ৯০ টাকায় নেমে এসেছে। শেয়ার মার্কেটে এ ধরনের অস্থিতিশীলতা বা ধস খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, যা বিনিয়োগকারীর জন্য উচ্চ ঝুঁকির সৃষ্টি করে। বন্ডের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সুদের হার স্থির থাকত এবং মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী তার আসল টাকা ফেরত পেতেন।