(ক)
যে সাদৃশ্যানুমানে অমৌলিক, গুরুত্বহীন ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়, তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
(খ)
অবৈধ সামান্যীকরণ হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহের এক প্রকার ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত।
অবৈজ্ঞানিক আরোহে অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে কোনো অবস্থায় যদি একটি প্রতিকূল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, তবে সিদ্ধান্তটি ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। এ জাতীয় ভ্রান্ত সিদ্ধান্তকে অবৈধ সামান্যীকরণ বা সার্বিকীকরণ বলে। যেমন: সকল কাক হয় কালো। কিন্তু যে সময় অস্ট্রেলিয়ায় সাদা কাকের সন্ধান পাওয়া যায়, সে সময় উক্ত সিদ্ধান্তটি ভ্রান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়। এরূপ ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে অবৈধ সামান্যীকরণ বলে।
(গ)
উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি হলো সাদৃশ্যানুমান।
দুটি বস্তু বা ঘটনার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্যের প্রেক্ষিতে যদি অনুমান করা হয় যে, তারা একটি বিশেষ গুণের অধিকারী হলে অন্যটিও ঐ গুণের অধিকারী হবে, এরূপ অনুমান প্রক্রিয়াকে সাদৃশ্যানুমান বলে। যেমন: পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য আছে। অর্থাৎ উভয় গ্রহে মাটি, পানি, বায়ু ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া আছে। পৃথিবীতে জীব বাস করে। অতএব, মঙ্গল গ্রহেও জীব বাস করে। এভাবে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তু বা ঘটনার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য দেখানো হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত, মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণীর জন্ম, বৃদ্ধি ও মৃত্যু আছে। মানুষের প্রাণ আছে। অতএব, অন্যান্য প্রাণীরও প্রাণ আছে। এখানে মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণীর কিছু সাদৃশ্যের ভিত্তিতে নতুন একটি বিষয় অনুমান করা হয়েছে। এ কারণে বলা যায়, উদ্দীপকটি সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত।
(ঘ)
উদ্দীপকে প্রতিফলিত আরোহ সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।
দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে যে অনুমান করা হয়, তাই সাদৃশ্যানুমান। সাদৃশ্যানুমান কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ছাড়াই জ্ঞাত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অজ্ঞাত সাদৃশ্য অনুমান করে। যেহেতু এই আরোহে অসম্পূর্ণ সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা হয়, সেহেতু এটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। ফলে এর সিদ্ধান্ত হয় সম্ভাব্য। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতার মাত্রা বেশি হয়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর মাত্রা কম হয়। অর্থাৎ সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা কোনো শর্তের ওপর নির্ভর করে। সাদৃশ্যানুমান কয়েকটি বিষয়ের সংখ্যা ও গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে। সাদৃশ্যানুমানে বিষয়ের সংখ্যা ও গুরুত্ব যদি বেশি হয়, তবে সাদৃশ্যানুমানের গুরুত্ব বেড়ে যায়; আবার সাদৃশ্যানুমানের বিষয়ের সংখ্যা ও গুরুত্ব কম হলে সাদৃশ্যানুমানের গুরুত্ব কমে যায়। পাশাপাশি সাদৃশ্যানুমানে বিষয়গুলো যত বেশি প্রাসঙ্গিক হয়, ক্ষেত্রে সাদৃশ্যানুমানের সম্ভাবনার মাত্রাও তত বেশি হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যানুমানে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোর সাদৃশ্য দেখাতে পারলে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বেড়ে যায়।
সাদৃশ্যানুমানের সুস্পষ্ট গুরুত্ব প্রকাশ পায় সাধু সাদৃশ্যানুমানে। কারণ এই অনুমানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়ের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে কার্যকারণ নীতির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাই সাধু সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
পরিশেষে বলা যায়, প্রকৃত আরোহের প্রকরণ হিসেবে উদ্দীপকে পরিলক্ষিত সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।