ক.
মাঠকর্ম প্রশিক্ষণে সমাজকর্মের যে নীতিমালা অনুসৃত হয় তাই মাঠকর্ম নীতিমালা।
খ.
শ্রেণিকক্ষে অর্জিত সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা ও কৌশলের প্রয়োগ করে কোনো সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়াকে বলা হয় মাঠকর্ম। সমাজকর্ম শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মাঠকর্ম। ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে সমাজকর্মের ধারণাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য মাঠকর্মের ব্যতিক্রম নেই। অর্থাৎ মাঠকর্ম হলো তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ।
গ.
চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের মতো সমাজকর্মের ছাত্রছাত্রীদের মাঠকর্ম বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।
মানুষের মনো-সামাজিক সমস্যার প্রকৃতি উদঘাটন ও সমাধানের রূপকল্পে সমাজকর্ম আজ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। সমাজকর্মের এই অবস্থানের অন্যতম কারণ হলো এর তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ। সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান। এজন্য সমাজকর্মের ব্যবহারিক বিষয়কে ফুটিয়ে তোলার জন্য মূলত মাঠকর্ম পরিচালনা করা হয়। উদ্দীপকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের এই দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের মাহি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র। চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করার পর তাকে এক বছরের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশীপ করতে হবে। এর মাধ্যমে সে তার অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান রোগীর নিরাময়ে" ব্যবহার করতে পারে। সমাজকর্মের মাঠকর্ম বিষয়টিও তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ। অর্থাৎ মাঠকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি দিক যেখানে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়। একজন শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান, পদ্ধতি ও কৌশলকে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়। এর ফলে সে একজন দক্ষ সমাজকর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে । তাই বলা যায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইন্টার্নশীপের মতো সমাজকর্মে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বটি হলো মাঠকর্ম অনুশীলন করা।
ঘ.
সমাজকর্ম শিক্ষায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দায়িত্বটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ।
আধুনিক সমাজকর্ম একটি ফলিত সামাজিক বিজ্ঞান। এর মূল লক্ষ্য হলো সমাজকর্ম সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা এর মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করা সম্ভব হয়। আর এ লক্ষ্য অর্জন করার জন্য একজন সমাজকর্মীকে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠকর্মের অর্থাৎ ব্যবহারিক জ্ঞানও অর্জন করতে হয়। কেননা ব্যবহারিক জ্ঞানের মাধ্যমেই একজন সমাজকর্মী পেশাদার সেবাদানকারী হিসেবে পরিচিত লাভ করে। এজন্য সমাজকর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানেরও গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হোক না কেন তা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ছাড়া এর যথার্থ কার্যকারিতা ও উপযোগিতা লাভ করা যায় না। সেজন্যই তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সংমিশ্রণ সমাজকর্মে ঘটানো হয় । যা একজন পেশাদার সমাজকর্মীর থাকতে হয়। এই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণই সমাজকর্মীকে বাস্তবক্ষেত্রে কর্ম উপযোগী করে তোলে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমস্যা সমাধান করে একটি সুখী-সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আধুনিক সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। যা যুগোপযোগী ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার কারণে সম্ভব হয়। এই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দ্বারা একদিকে যেমন ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব অন্যদিকে এই জ্ঞান সমাজকর্ম পেশার তাত্ত্বিক দিককে আরো বেশি সমৃদ্ধ করে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষদিকে শিল্পবিপ্লবোত্তর শিল্পায়ন ও শহরায়নের কারণে মানবসভ্যতার উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়েছে; হয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কিন্তু এর অনিবার্য ফলাফল হিসেবে নানারকম সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক প্রগতিকে সঠিক দিকে প্রবাহিত করার জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মূলত সমাজকর্ম যেহেতু সাহায্যকারী একটি প্রক্রিয়া তাই এখানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তাত্ত্বিক জ্ঞান দ্বারা স্বীকৃত কোনো সমস্যা সমাধান করা গেলেও মাঝে মধ্যে এমন কোনো নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেখানে ব্যবহারিক জ্ঞান বেশি কাজে আসে। তাই আমরা বলতে পারি আধুনিক সমাজকর্ম পেশায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।