Facebook Pixel

মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে পূর্বে কৃষ্ণসাগর থেকে পশ্চিমে তিউনিসিয়া এবং উত্তরে ভিয়েনা হতে দক্ষিণে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। তিনি সাম্রাজ্য আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন। ক. ইসলামের প্রথম খলিফার নাম কি? খ. ' খুলাফায়ে রাশেদি ' বলতে কি বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মহামতি সুলাইমানের সাথে তোমার পঠিত কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে আলোকে উক্ত খলিফার শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইসলামের প্রথম খলিফার নাম হল হযরত আবু বকর (রাঃ)। খ. খুলাফায়ে রাশেদিন বলতে বোঝায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর যে চারজন সাহাবী তাঁর প্রতিনিধিরূপে আরব রাষ্ট্র ও মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন তারাই ইসলামের ইতিহাসে খুলাফায়ে রাশেদিন নামে পরিচিত। আর খুলাফায়ে রাশিদিনের চারজন খলিফা হলেন হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ), হযরত ওসমান (রাঃ) এবং হযরত আলী (রাঃ)। এ চারজন খলিফা আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) নির্দেশিত পথ অনুসারে খিলাফত পরিচালনা করেছেন বলে তাদের খুলাফায়ে রাশেদিন তথা সত্য বা ন্যায়পথগামী খলিফা বলা হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মহামতি সুলাইমানের সাথে খলিফা হযরত ওমর (রা.) এর সাদৃশ্য রয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : উদ্দীপকের সুলাইমাম একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্যকে বিশালভাবে বিস্তৃত করেন। তার সাম্রাজ্যে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। মহানবী (সা.) সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে আরবে ইসলামী সাধারণতন্ত্রের যে সূচনা করেছিলেন, হযরত ওমর (রা.) এটিকে একটি শক্তিশালী ও বৃহৎ সাম্রাজ্যের রূপ দিয়েছিলেন। হযরত ওমর (রা.) সাম্রাজ্য বিস্তার করে অর্ধজাহানের বাদশা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তিনি পারস্য ও রোমান দখল করে বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করেন। হযরত ওমর (রা.) ছিলেন অসাধারণ সামরিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক যোগ্যতা সম্পন্ন, যা বলে তিনি আরবদের একটু সুশৃঙ্খল সামরিক জাতি হিসেবে গড়ে তোলেন। এতে করে হযরত ওমর (রা.) এর আমলে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমানা পারস্য সিরিয়া ও মিশর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল। শুধু সাম্রাজ্য বিস্তার নয় বড় অংশ আমরা যে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। অপরাধী যেই হোক না কেন তিনি তাকে যথাযথ শাস্তি দিতেন। মদ্যপানের অপরাধে তিনি নিজের চেয়ে ছেলে আবু শাহমাকে দোররা মেরে হত্যা করেছিলেন। তাছাড়া অপরাধ করায় তিনি বিখ্যাত বীর খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণ করেছিলেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত মহামতি সুলাইমানের সাথে খলিফা হযরত ওমর (রা.) এর সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে হযরত ওমর (রা.) এর শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হলো: হযরত ওমর (রা.) অসাধারণ সামরিক দক্ষতা এবং সাংগঠনিক যোগ্যতা সম্পন্ন। তার অসাধারণ সাংগঠনিক যোগ্যতা বলে উশৃঙ্খলা রোগ জাতিকে একটি সুশৃঙ্খল সামরিক জাতিতে রূপান্তর করেন। তিনি মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমানা পারস্য সিরিয়া ও মিশর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। উদ্দীপকের সুলাইমানও তার সাম্রাজ্যকে বিস্তৃতি দেন। তাছাড়া বিভক্ত আরববাসীদের তিনি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। তিনি মনে করতেন ভাষাধর্ম সংস্কৃতি ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে মুসলমানরা একটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই তিনি আরব জাতীয়তাবাদ গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়াও বিশাল সাম্রাজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের সুলাইমান এর মত তিনিও সাম্রাজ্যে ন্যায় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সমগ্র সাম্রাজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি ১৪ টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। সবগুলো প্রদেশকে আবার জেলা এবং জেলা কে মহাকুমা বিভক্ত করেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বের প্রথম শাসক হিসেবে তিনি শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করেন। হযরত ওমর (রা.) এর প্রতিষ্ঠিত মজলিস উস শুরা বা উপদেষ্টা পরিষদ আজও বিশ্ব গণতন্ত্রের জয়গান করছে। অসহায়দের অভাব দূর করার জন্য তিনি বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং অসহায়দের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেন। সাম্রাজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তিনি প্রথমবারের মতো আদমশুমারি প্রচলন করেন। উপযুক্ত আলোচনা সাপেক্ষে তাই বলা যায়, হযরত ওমর (রা.) একটি জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন যা সকল শাসকের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে পূর্বে কৃষ্ণসাগর থেকে পশ্চিমে তিউনিসিয়া এবং উত্তরে ভিয়েনা হতে দক্ষিণে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। তিনি সাম্রাজ্য আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন। 

ক.

ইসলামের প্রথম খলিফার নাম কি?

খ.

'খুলাফায়ে রাশেদি' বলতে কি বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত মহামতি সুলাইমানের সাথে তোমার পঠিত কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে আলোকে উক্ত খলিফার শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।