Facebook Pixel

মুসা বিন ইব্রাহিম প্রজাহিতৈষী , জনদরদি ও আদর্শ শাসক ছিলেন। শাসন ব্যবস্থা অধিকতর কল্যাণধর্মী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনি কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও বিদ্রোহ দমন , প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের বদলি , রাজধানী স্থানান্তর , অর্থনৈতিক সংস্কারসহ কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে তিনি তার অধস্তন একজন প্রাদেশিক গভর্নরের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। ক. খুলাফায়ে রাশেদিনের তৃতীয় খলিফার নাম কী ? খ. আবুজর আল গিফারি কে ছিলেন ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পঠিত খলিফার প্রশাসনিক সংস্কার ব্যবস্থার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফার প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে ইসলামে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল — উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. খুলাফায়ে রাশেদিনের তৃতীয় খলিফার নাম হযরত ওসমান ( রা )। খ. আবু জর গিফারি ছিলেন একজন সাধুপুরুষ ও মহানবি ( স )- এর প্রিয় সাহাবা । আবুজর গিফারি মুসলমানদের জাঁকজমক ও বিলাসবহুল জীবনযাপন পছন্দ করতেন না। তার মতে , যারা সম্পদ জমা করবে তারা জাহান্নামে যাবে। ধনসম্পদ জমা করার জন্য নয় , এগুলো জনকল্যাণে ব্যয় করা উচিত । প্রথমে তিনি সিরিয়াতে এ মতবাদ প্রচার করে জনগণকে উত্তেজিত করে তোলেন। সেখানকার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া তাকে মদিনায় পাঠিয়ে দেন। হযরত ওসমান ( রা ) তাকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে জাকাত প্রদানের পর ধনসম্পদ সঞ্চয় করা বৈধ। কিন্তু মদিনাতেও তিনি নিজের মতবাদ প্রচার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য খলিফা তাকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ ' রাবাদায় ' ' পাঠিয়ে দেন। রাবাদায় বসবাসের সময় তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে আমার পঠিত ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি ( রা )- এর প্রশাসনিক সংস্কার ব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। হযরত আলি ( রা ) ইসলামের চতুর্থ খলিফা। ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে হযরত ওসমান ( রা ) বিদ্রোহীদের হাতে শাহাদাতবরণ করলে খিলাফতের সর্বত্র বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরূপ পরিস্থিতিতে ৬৫৬ সালের ২৩ জুন হযরত আলি ( রা ) ইসলামের চতুর্থ খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি খলিফা নির্বাচিত হয়ে প্রাথমিক কিছু সংস্কার সাধন করেন। যার অনুরূপ সংস্কার উদ্দীপকেও লক্ষণীয় । উদ্দীপকের মুসা বিন ইব্রাহিম একজন প্রজাহিতৈষী , জনদরদি ও আদর্শ শাসক ছিলেন। শাসনব্যবস্থা অধিকতর কল্যাণধর্মী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনি কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেমন : রাজ্যের বিদ্রোহ দমন , প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের বদলি , রাজধানী স্থানান্তর , অর্থনৈতিক সংস্কার ইত্যাদি। তার এরূপ পদক্ষেপের সাদৃশ্য পাওয়া যায় হযরত আলি ( রা ) - এর পদক্ষেপে। হযরত আলি ( রা ) খলিফা নির্বাচিত হয়ে মদিনা থেকে কুফায় ইসলামি খিলাফতের রাজধানী স্থানান্তর করেন। এছাড়া তিনি অরাজক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই বিদ্রোহীদের সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রশাসনের নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কুফা , বসরা , মিসর ও সিরিয়ায় প্রাদেশিক শাসনকর্তা পদে নতুন লোক নিয়োগ দেন । পাশাপাশি , রাষ্ট্রের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন । তাই বলা যায় , উদ্দীপকের শাসকের সাথে হযরত আলি ( রা )- এর প্রশাসনিক সংস্কারের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফা অর্থাৎ হযরত আলি ( রা )- এর প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে ইসলামে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল - উক্তিটি যথার্থ ৷ খলিফা হযরত ওসমান ( রা )- এর হত্যাকাণ্ডের কারণে মুসলিম সমাজে মারাত্মক অন্তঃকলহ সৃষ্টি হয়। তাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়। উন্মোচিত হয় গৃহযুদ্ধের দ্বার। হযরত আলি ( রা )- এর শাসনামলে পরপর তিনটি গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এগুলো হলো উষ্ট , সিফফিন ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধ। এগুলোর মধ্যে উষ্ট্রের যুদ্ধকে ইসলামের প্রথম গৃহযুদ্ধ বলা হয় । উদ্দীপকের মুসা বিন ইব্রাহিম তার রাজ্যে নানাবিধ সংস্কার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তার অধস্তন একজন প্রাদেশিক গভর্নরের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এরূপ ঘটনা দেখা যায় হযরত আলি ( রা )- এর শাসনামলে। হযরত আলি ( রা ) শাসনক্ষমতা গ্রহণ করার পর বিদ্রোহীদের সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রশাসনে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক সংস্কার করেন। এ সংস্কারের বিষয়টি মুয়াবিয়া মেনে না নেওয়ার কারণে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে যতগুলো দ্বন্দ্ব - সংঘাত হয় , তার মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে বেশি অপ্রত্যাশিত। এ যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য অশনি সংকেত। এর মাধ্যমে মুসলমানদের সম্প্রীতি ভেঙে যায় এবং ইসলামে চিরস্থায়ী বিভক্তির সৃষ্টি হয়। তাছাড়া খলিফা হযরত আলি ( রা )- এর দল ত্যাগ করে খারেজিরা হযরত আলি ( রা )- কে পুনরায় মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণের অনুরোধ জানায়। কিন্তু খলিফা তাতে সম্মত না হওয়ায় তারা আলি ( রা ) ও মুয়াবিয়া উভয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং বাগদাদের নিকটবর্তী নাহরাওয়ান নামক স্থানে দলপতি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের মতবিরোধী মুসলমানদের হত্যা , গৃহে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনা শুরু করে। তাদের এরুপ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হযরত আলি ( রা ) তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেন। নাহরাওয়ানে উভয় পক্ষের মধ্যকার যুদ্ধে খারেজিরা পরাজিত হয় । যা নাহরাওয়ানের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় , উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফা হযরত আলি ( রা )- এর প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে ইসলামে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মুসা বিন ইব্রাহিম প্রজাহিতৈষী, জনদরদি ও আদর্শ শাসক ছিলেন। শাসন ব্যবস্থা অধিকতর কল্যাণধর্মী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনি কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও বিদ্রোহ দমন, প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের বদলি, রাজধানী স্থানান্তর, অর্থনৈতিক সংস্কারসহ কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে তিনি তার অধস্তন একজন প্রাদেশিক গভর্নরের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

ক.

খুলাফায়ে রাশেদিনের তৃতীয় খলিফার নাম কী ?

খ.

আবুজর আল গিফারি কে ছিলেন ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পঠিত খলিফার প্রশাসনিক সংস্কার ব্যবস্থার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফার প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে ইসলামে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।