Facebook Pixel

মিসেস পারমিতা শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাংলাদেশের শোষণ-বঞ্চনার ঐতিহাসিক পটভূমি পড়াতে গিয়ে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী দুটি শাসনামল (ক) ১৭৫৭-১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত এবং (খ) ১৯৪৭-১৯৭১ খ্রি. পর্যন্ত এর বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শক্তি ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধিসহ পূর্বপেক্ষা। শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ক. সামাজিক পরিবেশ কী? খ. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনুকূল? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসনামলের নামসহ অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্লেষণ করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পদার্পণের সম্ভাবনা তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে?

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মানুষের দ্বারা সৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশই হলো সামাজিক পরিবেশ। খ. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ নানাভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনুকূল। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের মূল উপাদান হলো ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা, নদ-নদী, জলবায়ু, খনিজ সম্পদ, তাপমাত্রা প্রভৃতি। এদেশের বেশির ভাগ এলাকা উর্বর পলি গঠিত সমভূমি অঞ্চল। তাই এখানে ধান, পাট, ইক্ষু ও অন্যান্য কৃষিজাত ফসল প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। আবার এদেশ নদীমাতৃক হওয়ায় ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। পাশাপাশি পণ্যসামগ্রীর পরিবহণ ও সহজতর হয়েছে; যা সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। সুতরাং, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিভিন্নভাবে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনুকূল ভূমিকা পালন করেছে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসনামল দুটি হলো ব্রিটিশ শাসনামল এবং পাকিস্তানি শাসনামল। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে সমগ্র উপমহাদেশে শুরু হয়েছিল ইংরেজ শাসন। ইংরেজ শাসকরা প্রায় ২০০ বছর ধরে বাংলাদেশকে শাসন ও শোষণ করে। আর ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তান ভোগ করত। এটি চরম বৈষম্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে মিসেস পারমিতা শ্রেণিকক্ষে শোষণ-বঞ্চনার ঐতিহাসিক পটভূমি পড়াতে গিয়ে দুটি শাসনামল ক. ১৭৫৭-১৯৪৭ খ্রি. ও খ. ১৯৪৭-১৯৭১ খ্রি.-এর ব্যাখ্যা করেন। এখানে প্রথমটি মূলত ব্রিটিশ ও দ্বিতীয়টি পাকিস্তানি শাসনামলের অর্থনৈতিক বৈষম্যকে নির্দেশ করে। ব্রিটিশ শাসনামলে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের নামে এদেশের চাষিদের ওপর জুলুম করত। ফলে ১৭৭০ সালের (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) সময়ে দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। ফলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ লোক খাদ্যের অভাবে মৃত্যুবরণ করে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি শাসনামলে বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পূর্ব পাকিস্তান অর্জন করত। কিন্তু মোট আমদানিকৃত দ্রব্যের শতকরা ৭০ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তান ভোগ করত। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামলে এ অঞ্চলের জনগণ অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পদার্পণের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছে। আবার, দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য 'রূপকল্প-২০৪১' ঘোষণা করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং শক্তি ও জ্বালানি খাতে সমৃদ্ধি অর্জনের ওপর জোর দিয়েছে। এটি একটি উন্নত অর্থনীতির পূর্বশর্ত। উদ্দীপকে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। যেমন: গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শক্তি ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধি এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন। এগুলো উন্নত দেশে পদার্পণের মূল ভিত্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কৃষির কাঠামোগত পরিবর্তন, শিল্প ও সেবা খাতের ভূমিকা বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। একটি দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে হলে কেবল মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিই। যথেষ্ট নয়। এর জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন মানবসম্পদকে উন্নত করছে। তথ্য ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতের দ্রুত অগ্রগতি উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে। এই গতিধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে পারবে। অতএব, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কারণে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নত দেশে পদার্পণের সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মিসেস পারমিতা শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাংলাদেশের শোষণ-বঞ্চনার ঐতিহাসিক পটভূমি পড়াতে গিয়ে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী দুটি শাসনামল (ক) ১৭৫৭-১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত এবং (খ) ১৯৪৭-১৯৭১ খ্রি. পর্যন্ত এর বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শক্তি ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধিসহ পূর্বপেক্ষা। শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

ক.

সামাজিক পরিবেশ কী?

খ.

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনুকূল?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসনামলের নামসহ অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্লেষণ করো।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পদার্পণের সম্ভাবনা তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Capitalism and Material Life' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'Industry and Empires' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

M' দেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। 'M' দেশের ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যালোচনা করে তিনটি সময়কাল পাওয়া যায়। যথা- ক. ১২০০-১৭৫...

'X' দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা নিম্নরূপ:- 'X' দেশে সম্প্রতি সরকার খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিতে পারমাণবিক...

SDG কী?

'textX' এবং 'textY' দুইটি দেশ। 'textX' দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত। শতভাগ শিক্ষিত এ দেশটির আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো...

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

আজিম স্যার ক্লাসে প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ছাত্রদের বললেন, গাছ পরিবেশ রক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। ব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।