Facebook Pixel

মুসলিম সমাজে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক, বিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ প্রভৃতি বিষয়ের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার একটি সামাজিক আইন প্রণয়ন করেন। ক. আধুনিক সমাজকর্মের সূত্রপাত হয় কোন ক্ষেত্রে? খ. সামাজিক সমস্যা বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে কোন আইনটির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত আইনটি মুসলিম নারীদের 'রক্ষা করত' –কথাটির তাৎপর্য বর্ণনা কর।

বিষয়: সমাজকর্ম ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আধুনিক সমাজকর্মের সূচনা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। খ. সামাজিক সমস্যা হচ্ছে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সমাজ কাঠামো, সমাজের বিদ্যমান রীতিনীতি ও আদর্শের পরিপন্থী অবস্থা। সমাজের সাথে এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত, অবাঞ্ছিত, অপ্রত্যাশিত এবং ত্রুটিপূর্ণ অবস্থা বা আচরণ, যা সমাজের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে, তাই হলো সামাজিক সমস্যা। সমাজবিজ্ঞানী এল. এ ফ্রাঙ্ক-এর মতে, সামাজিক সমস্যা হলো কোনো অসুবিধাজনক অবস্থা যা সমাজস্ব অনেক মানুষের অবাঞ্ছিত আচরণ, যা আমরা সংশোধন, বা দূর করতে চাই। সামাজিক সমস্যা সমাজের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সমাজের মানুষের প্রাত্যহিক, বা নিত্যদিনের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। গ. উদ্দীপকে মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে মুসলমান নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা প্রদানে প্রণীত হয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন। এ আইনটি বিশেষ করে মুসলিম সমাজে বহুবিবাহ , তালাক , ভরণপোষণ , উত্তরাধিকার ইত্যাদি পারিবারিক বিষয়াদি বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়। দীর্ঘদিন মুসলিম পারিবারিক ক্ষেত্রে আইনগত কাঠামোর শূন্যতা অনুভব হচ্ছিল। বহুবিবাহ , তালাক , ভরণপোষণ , উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে দিকনির্দেশক আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। ফলে বিবাহ ও পাারিবারিক আইন কমিশনের কতিপয় সুপারিশ কার্যকরীকরণের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে এ অধ্যাদেশ প্রণীত হয়। উদ্দীপকের ছকে বিবাহ রেজিস্ট্রিকরণ , তালাক , বহুবিবাহ , দেনমোহর , বিবাহ বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে ; যা এ আইনের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বলা যায় , উদ্দীপকে মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. উক্ত আইনটি তথা মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ মুসলিম নারীদের রক্ষা করত। মন্তব্যটি যথাযথ বলে আমি মনে করি। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহ , রেজিস্ট্রি , তালাক ও বিবাহ বিচ্ছেদ , খোরপোশও দেনমোহর , বহুবিবাহ উত্তরাধিকারসহ নারী অধিকার ও কল্যাণবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূণ ক্ষেত্রে বাস্তব - প্রয়োজনে আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ আইন অবহেলিত নারী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাপক লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এ আইন প্রবর্তনের পূর্বে অনেক বিবাহ , তালাক শব্দটি উচ্চারণের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে শেষ হয়ে যেত এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়ে দেনমোহর ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরূপ ক্ষেত্রে আইন বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নারী সমাজের নিরাপত্তা লাভের ব্যবস্থা করেছে। আবার , এ আইনে স্বামীর ইচ্ছামতো স্ত্রী ত্যাগ করার ও গ্রহণ করার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বহুবিবাহকে রোধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিবাহকে একটি চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করায় স্ত্রীর মতামত স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়েছে। এছাড়াও উক্ত আইনে স্ত্রীগণের ভরণপোষণ এবং এতিম শিশুদের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিকানা স্বীকার করে তাদের নিরাপত্তা দানের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিধবা মহিলাদের অনিশ্চিত অবস্থা থেকে আশ্রয় লাভে সুযোগ করে দেওয়া হয়। অতএব বলা যায় , নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মুসলিম পারিবারিক ১৯৬১ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মুসলিম সমাজে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক, বিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ প্রভৃতি বিষয়ের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার একটি সামাজিক আইন প্রণয়ন করেন।

ক.

আধুনিক সমাজকর্মের সূত্রপাত হয় কোন ক্ষেত্রে?

খ.

সামাজিক সমস্যা বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে কোন আইনটির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত আইনটি মুসলিম নারীদের 'রক্ষা করত' –কথাটির তাৎপর্য বর্ণনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।