Facebook Pixel

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবিসংবাদিত নেতা প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাসপ্রথা বিলোপ এবং গণতন্ত্রের নবজাগরণের উদ্দেশ্যে গেটিসবার্গ নামক স্থানে এক যুগান্তকারী ভাষণ প্রদান করেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে ' গ্যাটিসবার্গ এড্রেস ' নামে খ্যাত। তার এ ভাষণের ব্যাপ্তি ছিল মাত্র তিন মিনিট। ভাষণে তিনি গণতন্ত্র , শোষিত মানুষের মুক্তি ও অধিকারের কথা বলেছেন । পৃথিবীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দাস প্রথা বিলোপে ' এটি একটি মাইলফলক। ক. লাহোর প্রস্তাব কত সালে পেশ করা হয় ? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায় ? গ. আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের সাথে বাংলাদেশের কোন মহান নেতার ভাষণের সামঞ্জস্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় উভয় নেতার ভাষণ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বাংলার মহান নেতার ভাষণ ছিল আরও দিক নির্দেশনামূলক ও চেতনায় উদ্দীপ্ত — বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্বাধীন ও সার্ভভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০ সালে পেশ করা হয়। খ. হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি - কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এ ধারণাই দ্বিজাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত। ১৯৪০ সালের ২২ - ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের ২৭তম অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন। এ তত্ত্বের মূলকথা হলো হিন্দু - মুসলিম আলাদা জাতি। তাদের ধর্মীয় ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি , সামাজিক রীতি - প্রথা এবং ইতিহাস - ঐতিহ্য সম্পূর্ণ আলাদা। সুতরাং সাম্প্রদায়িক জটিলতা নিরসনে ভারতের দুই প্রধান সম্প্রদায়ের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। এ মতামতই দ্বিজাতি তত্ত্ব নামে পরিচিতি। গ. আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের সাথে বাংলাদেশের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সামঞ্জস্য রয়েছে। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এ ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করা হয়েছিল। ৭ মার্চ বিকেলে রেসকোর্স ময়দানের ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) সমাবেশে লাখো মানুষের ঢল নামে। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান । উদ্দীপকেও এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাস প্রথা বিলোপ এবং গণতন্ত্রের নবজাগরণের উদ্দেশ্যে গেটিসবার্গ নামক স্থানে এক যুগান্তকারী ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণে তিনি গণতন্ত্র , শোষিত মানুষের মুক্তি ও অধিকারের কথা বলেছেন। ইতিহাসে এটি গেটিসবার্গ ভাষণ নামে বিখ্যাত হয়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের দিক - নির্দেশনামূলক ভাষণ বিশ্বের ইতিহাসে একই রকম বিখ্যাত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল : চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবি , গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি , নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান ও সর্বোপরি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া তথা স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এ ভাষণে বাঙালি জাতির তখনকার আশা - আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল। এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাই বলা যায় , উদ্দীপকের ভাষণের সাথে বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের মিল রয়েছে। ঘ. গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট লিংকন এবং বাংলাদেশের মহান নেতা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উভয়ের ভাষণ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল অধিক দিকনির্দেশনামূলক ও চেতনায় উদ্দীপ্ত — কথাটি যথার্থ । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণটি আব্রাহাম লিংকনের ভাষণটির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৬৩ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ৩ মিনিটের ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয়ই ইতিহাসের মূল্যবান দলিল। লিংকনের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো গণতন্ত্র সম্বন্ধে তার বিখ্যাত উক্তি , 'Democracy is the Government of the people, by the people and for the people will never perish from the earth.' আর বঙ্গবন্ধু বললেন , ' সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। ' ৭ মার্চের এ ৭টি শব্দ বাঙালিকে দুর্বার করে তুলেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একটি ভাষণ একটি জাতিকে কতটা উদ্দীপ্ত করতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। অনেকে এই ভাষণকে বাংলাদেশের জন্মের প্রাক্কালে সাধারণ জনগণের সাথে তাদের অবিসংবাদিত নেতার সংলাপ হিসেবে আখ্যা দেন। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ভাষণগুলোর একটি বলে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে বাঙালির | আশা - আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়। যদিও বঙ্গবন্ধু এ ভাষণে এদেশের মানুষকে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মুক্তিপাগল বাঙালি এ আহ্বানেই উদ্বেলিত হয়েছিল। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন , ‘ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ' তার এ ঘোষণা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করে। পরবর্তী সময়ে বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে এ ভাষণটি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। এ ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য উপলব্ধি করে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর একে “ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পরিশেষে বলা যায় , ৭ মার্চের ভাষণের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে যে অসহযোগ আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছিল , তা থেকেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সূচনা হয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয় । আর এদিক থেকেই আব্রাহাম লিংকনের চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ অধিক দিকনির্দেশনামূলক ও গুরুত্ববহ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবিসংবাদিত নেতা প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাসপ্রথা বিলোপ এবং গণতন্ত্রের নবজাগরণের উদ্দেশ্যে গেটিসবার্গ নামক স্থানে এক যুগান্তকারী ভাষণ প্রদান করেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে 'গ্যাটিসবার্গ এড্রেস' নামে খ্যাত। তার এ ভাষণের ব্যাপ্তি ছিল মাত্র তিন মিনিট। ভাষণে তিনি গণতন্ত্র, শোষিত মানুষের মুক্তি ও অধিকারের কথা বলেছেন । পৃথিবীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দাস প্রথা বিলোপে 'এটি একটি মাইলফলক।

ক.

লাহোর প্রস্তাব কত সালে পেশ করা হয় ?

খ.

দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায় ?

গ.

আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের সাথে বাংলাদেশের কোন মহান নেতার ভাষণের সামঞ্জস্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় উভয় নেতার ভাষণ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বাংলার মহান নেতার ভাষণ ছিল আরও দিক নির্দেশনামূলক ও চেতনায় উদ্দীপ্ত — বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c|c| hline textbfদলের নাম & textbfপূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা & textbfপশ্চিম পাকিস্তানের প্রাপ্ত আ...

ক. বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় ? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐ...

ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক ক...

“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ক. মহান মুক্তিযুদ্ধের সর...

‘ ক ’ অঞ্চলের জনগণ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেলেও প্রয়োজন ছিল যৌক্তিকভাবে যুদ্ধ পরিচাল...

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের কতটি আসন লাভ করে?

অটোমান তুর্কী সুলতানদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে বুলগেরিয়ার জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। অটোমান সুলতান এ আ...

অটোমান শাসনাধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মানুষ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ...

অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?

অপারেশন সার্চলাইট কত তারিখে পরিচালিত হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।