Facebook Pixel

মামুন ও শফিক দুই বন্ধু ব্যাংকে চাকরি করেন। মামুনের ব্যাংক জনগণের নিকট হতে আমানত গ্রহণ করে। অন্যদিকে, শফিকের ব্যাংক খোলা বাজার নীতির সাহায্য ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। ক. বাণিজ্যিক ব্যাংক কী? খ. অর্থের প্রয়োজন হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মামুনের ব্যাংকের কার্যাবলি বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শফিকের ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো বাংলাদেশে কি ভূমিকা রাখছে? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: অর্থনীতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মুদ্রা ও ব্যাংক

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে ব্যাংক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনসাধারণের কাছ থেকে তাদের সঞ্চয় বা উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদেরকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয় তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। খ. মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ কাজের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। অর্থের কাজ চারটি। যথা- মাধ্যম, পরিমাপক, মান ও ভান্ডার। অর্থের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করা। অর্থ দ্রব্য ও সেবার পরিমাপক হিসেবে কাজ করে। অর্থ স্থগিত লেনদেনের মান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অর্থ সঞ্চয়ের ভান্ডার হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক অর্থনীতিবিদরা অর্থকে সর্বাপেক্ষা তারল্য সম্পদ হিসেবে গণ্য করেছেন। গ. উদ্দীপকে মামুনের ব্যাংকটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। কেননা তার ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল রয়েছে। এ ব্যাংকের কার্যাবলি বর্ণনা করা হলো- ১. আমানত গ্রহণ: সঞ্চয়ী, চলতি ও স্থায়ী আমানত গ্রহণ করে। ২. ঋণ প্রদান: ব্যবসায়িক, কৃষি, শিল্প, গৃহ ও ভোক্তা ঋণ প্রদান করে। ৩. মুদ্রা লেনদেন ও বিনিময়: দেশি-বিদেশি মুদ্রার লেনদেন ও বিনিময় হার নির্ধারণ করে। ৪. তহবিল স্থানান্তর: চেক, ডিমান্ড ড্রাফট, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করে। ৫. বিনিয়োগ কার্যক্রম: সরকারি ও বেসরকারি বন্ড, শেয়ার বাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ করে। ৬. ব্যবসায়িক সেবা প্রদান: এলসি, রেমিট্যান্স ও ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা দেয়। ৭. ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা: মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং ও এটিএম সেবা প্রদান করে। ৮. অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা: সুদের হার ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। এই কার্যাবলির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক আর্থিক ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ঘ. উদ্দীপকে শফিকের ব্যাংকটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যাংক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ঋণ নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ করে। এই নীতিগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ্ধতি বাংলাদেশে কীভাবে ভূমিকা রাখছে তা বিশ্লেষণ করা হলো- ১. ব্যাংক হারের নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে। যখন মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়, তখন ব্যাংক হার বাড়িয়ে ঋণ গ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হয়, ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে। আবার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সুদের হার কমিয়ে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো হয়। ২. খোলা বাজার কার্যক্রম: বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি বন্ড ও ট্রেজারি বিল কেনাবেচার মাধ্যমে অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। যখন অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ হয়, তখন ব্যাংক বন্ড বিক্রি করে বাজার থেকে অর্থ টেনে নেয়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বিপরীতে মন্দার সময় ব্যাংক বন্ড কিনে বাজারে অর্থ প্রবাহ বাড়ায়। ৩. নগদ জমার অনুপাত: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন নগদ জমার অনুপাত বাড়ায়, তখন ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমে, ফলে বাজার মুদ্রাস্ফীতি কমে। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মামুন ও শফিক দুই বন্ধু ব্যাংকে চাকরি করেন। মামুনের ব্যাংক জনগণের নিকট হতে আমানত গ্রহণ করে। অন্যদিকে, শফিকের ব্যাংক খোলা বাজার নীতির সাহায্য ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে।

ক.

বাণিজ্যিক ব্যাংক কী?

খ.

অর্থের প্রয়োজন হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত মামুনের ব্যাংকের কার্যাবলি বর্ণনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শফিকের ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো বাংলাদেশে কি ভূমিকা রাখছে? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।