(ক)
ই-কমার্স (e-commerce) হলো ইন্টারনেট ও ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় এবং তথ্যের আদান-প্রদান বা বিনিময় প্রক্রিয়া।
(খ)
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) হলো সেই প্রযুক্তি যার মাধ্যমে তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে প্রেরণ করা হয়। আধুনিক ব্যবসায়ের প্রসারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সঠিক তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হয়।
২. খরচ ও সময় হ্রাস: অনলাইন লেনদেন ও যোগাযোগের ফলে যাতায়াত খরচ ও সময় সাশ্রয় হয় এবং কাজের অপচয় হ্রাস পায়।
৩. বাজার সম্প্রসারণ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসার পরিধি বিশ্বব্যাপী বাড়ানো সম্ভব হয়, যা বিক্রয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৪. দক্ষতা বৃদ্ধি: ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনার ফলে কাজের নির্ভুলতা ও জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
(গ)
উদ্দীপকের সুমির ব্যবহৃত কার্ডটি হলো ডেবিট কার্ড (Debit Card)।
ডেবিট কার্ড হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক কার্ড, যা ব্যাংক তার গ্রাহককে প্রদান করে যাতে গ্রাহক তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের সমপরিমাণ টাকা ইলেকট্রনিক উপায়ে উত্তোলন করতে পারে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সের বাইরে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করতে পারেন না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমি ঢাকা EPZ-এর পাশে একটি ব্যাংকের অনুমোদিত বুথ (ATM) থেকে কার্ডের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে তার অ্যাকাউন্টে থাকা বেতনের টাকা উত্তোলন করতে পারে। যেহেতু সে তার অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকা উত্তোলন করছে, তাই এটি একটি ডেবিট কার্ড।
(ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি মনোয়ারার গ্রামে সম্প্রসারিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সাহায্যে তার সমস্যার সমাধান সম্ভব।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা যেমন অর্থ জমা দেওয়া, উত্তোলন, বিল পরিশোধ এবং বেতন বা ভাতা প্রদান করার প্রক্রিয়াকে মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বলা হয়।
উদ্দীপকের মনোয়ারা ঢাকা EPZ-এর একটি কারখানায় কাজ করে। তার গ্রামে ব্যাংক বা পোস্ট অফিস না থাকায় বাড়িতে বেতনের টাকা পাঠানো কষ্টসাধ্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে তার গ্রামটি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। এখন মনোয়ারা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার (যেমন: বিকাশ, নগদ বা রকেট) মাধ্যমে খুব সহজেই তার বেতনের টাকা গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে পারবে। তার পরিবারের সদস্যরা নিকটস্থ মোবাইল এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সেই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এর ফলে তাকে আর কষ্ট করে পোস্ট অফিস বা ব্যাংকের খোঁজ করতে হবে না এবং দ্রুত ও নিরাপদে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে।
অতএব, মোবাইল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ মনোয়ারার আর্থিক লেনদেনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।