Facebook Pixel

মনি ও মুক্তা দুই বোন, চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার কয়েকদিন পর তারা দু'জনই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তাদের জ্বরের প্রকৃতি এক নয়। মনির কাঁপুনিসহ জ্বর আসলেও মুক্তার হঠাৎ করেই প্রচণ্ড জ্বর এসেছিল। রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় যে, মনি রক্তস্বল্পতা আর মুক্তার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ক. আদিকোষ কী? খ. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে কী বুঝ? গ. মনি ও মুক্তার জ্বরের লক্ষণের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর। ঘ. মনি ও মুক্তার জ্বর নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ অণুজীব

উৎস: Board Exam Question DB 2015

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস অনুপস্থিত, তাকে আদিকোষ বলে। (খ) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হলো আধুনিক জীবপ্রযুক্তির এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে কোনো জীব থেকে নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA খণ্ড পৃথক করে অন্য কোনো জীবের DNA-এর সাথে যুক্ত করে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটানো হয়। এর মাধ্যমে উন্নত জাতের উদ্ভিদ বা প্রাণী তৈরি করা সম্ভব। (গ) উদ্দীপকের লক্ষণ অনুযায়ী, মনির কাঁপুনিসহ জ্বর এবং রক্তস্বল্পতা নির্দেশ করে যে সে ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত। অন্যদিকে, মুক্তার হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর এবং অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো: ১. জ্বরের প্রকৃতি: ম্যালেরিয়া জ্বরে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর (যেমন ৪৮ ঘণ্টা) জ্বর ফিরে আসে। ডেঙ্গু জ্বরে হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আসে এবং সাধারণত কাঁপুনি থাকে না। ২. রক্তে প্রভাব: ম্যালেরিয়া জ্বরে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। ডেঙ্গু জ্বরে রক্তে অণুচক্রিকার (Platelet) সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ৩. রক্তক্ষরণ: ম্যালেরিয়া জ্বরে সাধারণত রক্তক্ষরণ হয় না। ডেঙ্গু জ্বরে নাক, মুখ, মাড়ি বা ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হতে পারে। (ঘ) মনি ও মুক্তার জ্বর নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ম্যালেরিয়া (মনি): ম্যালেরিয়া নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কুইনাইন বা ক্লোরোকুইন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে, তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশারি ব্যবহার করা জরুরি। ডেঙ্গু (মুক্তা): ডেঙ্গু জ্বরে এসপিরিন বা ডিসপ্রিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এতে রক্তক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে। জ্বর ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। রোগীকে প্রচুর তরল খাবার, ডাবের পানি ও ফলের রস খাওয়াতে হবে। অণুচক্রিকার সংখ্যা খুব কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্লেটলেট ট্রান্সফিউশন প্রয়োজন হতে পারে। শরীর স্পঞ্জ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পরিশেষে, মনি ও মুক্তার রোগের ধরন ভিন্ন হওয়ায় তাদের চিকিৎসার পদ্ধতিও ভিন্ন। সঠিক সময়ে রক্ত পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে উভয়ই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2015)

মনি ও মুক্তা দুই বোন, চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার কয়েকদিন পর তারা দু'জনই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তাদের জ্বরের প্রকৃতি এক নয়। মনির কাঁপুনিসহ জ্বর আসলেও মুক্তার হঠাৎ করেই প্রচণ্ড জ্বর এসেছিল। রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় যে, মনি রক্তস্বল্পতা আর মুক্তার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

ক. আদিকোষ কী?

খ. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে কী বুঝ?

গ. মনি ও মুক্তার জ্বরের লক্ষণের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।

ঘ. মনি ও মুক্তার জ্বর নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।