ক.
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয় ৩ ডিসেম্বর।
খ.
খাদ্যে ভেজাল বলতে সাধারণত বিশুদ্ধ বা খাঁটি নয়, এমন খাদ্যদ্রব্যকে বোঝায়। কিংবা উৎকৃষ্ট দ্রব্যের সাথে নিকৃষ্ট দ্রব্যের মিশ্রণকে ভেজাল খাদ্য বলা হয়। অর্থাৎ খাদ্যে ভেজাল বলতে বোঝায়, যেসব খাদ্যদ্রব্য প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক উপায়ে প্রস্তুত না করে ক্ষতিকর, নিম্নমানের, অকেজো ও অস্বাস্থ্যকর জিনিস দিয়ে তৈরি করা হয়। খাদ্যে ভেজাল মেশানো 'যেমন একটি সামাজিক অপরাধ তেমনি এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ বটে।
গ.
উদ্দীপকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে নানাবিধ দুর্যোগ। পরিবর্তিত হচ্ছে প্রকৃতি ও আবহাওয়া। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে উদ্দীপকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার কথা বলা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার ফলে বাংলাদেশের বন্যার ভয়াবহতার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের পরিবর্তনে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সম্প্রতি বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয় ২০৫০ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা ১ মিটার বাড়বে। এর ফলে বাংলাদেশের উপকূলের ১৭ শতাংশ ভূমি পানিতে ডুবে যাবে, ৫ কোটি মানুষ বাস্তুভিটা ছাড়া হবে। IPCC সমীক্ষা অনুযায়ী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১০০ সে. মি. বৃদ্ধির সাথে সাথে খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, বরগুনা প্রভৃতি জেলার আবাদি জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সুপেয় পানির উৎস হারিয়ে যাবে। দেশের নদ-নদীগুলোতে লোনা পানির অনুপ্রবেশের ফলে বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে। জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন মারাত্মকভাবে বিপন্ন হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার ফলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ব্যাপকভাবে হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের পূর্ব পেশা হারাবে। বাংলাদেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে যা আমাদের জন্য ক্রমান্বয়ে হুমকির মাত্রা বাড়ছে।
ঘ.
উক্ত পরিবর্তনজনিত সমস্যা তথা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় অনতি বিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
যেহেতু বন পরিবেশ রক্ষা করে, তাই সর্বত্র বিশেষ করে উপকূলে বনায়ন বৃদ্ধি করতে হবে। উপকূলে অবশ্যই শক্ত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ আমাদের জানমাল রক্ষা করতে পারে। খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা কাটিয়ে ওঠার কৌশল বা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবিত উপায় কার্যকর করতে হবে। প্রথম কথা হলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে এর জন্য জীবাশ্ম জ্বালানী কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দিকে অধিক মনোযোগ দিতে হবে।
পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলে পরিবেশ দূষণ কমাতে সাহায্য করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ ও শিল্পায়ন করে কারখানা, ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া কৃষি উৎপাদনে ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সার-বিষ ব্যবহার রোধ করতে হবে। স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না করে জলাধার নির্মাণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষ সমন্বয় করেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এসব পদক্ষেপের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।