Facebook Pixel

মধ্য এশিয়ায় বসবাসরত তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি জাতিগোষ্ঠী হলো উইঘুর জাতি। বর্তমান উইঘুররা চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলে বাস করে। এরা চীনাদের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে শোষিত ও নিষ্পেষিত হয়ে আসছে। তারা দীর্ঘদিনের অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে স্বাধীনতার ডাক দিলে চীন সরকার তাদের ওপর গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের মতো পাশবিক নির্যাতন চালায়। ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের চীনা বাহিনীর সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের উইঘুরদের মতো বাঙালিদেরও পাকিস্তানিরা শোষণ করেছে- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্বাধীন ও সার্ভভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুক্তিযুদ্ধে ১১টি সেক্টর ছিল। খ. মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় তাতে নারীদের বিশেষত ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তারা পুরুষের পাশাপাশি মিটিং মিছিল করতেন। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, সেবা দিয়ে, খাবার দিয়ে এবং প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেন। তারামন বিবি, ডা. সেতারা বেগম বীর প্রতীক উপাধি পান। প্রায় দু লক্ষ নারী পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত হন যারা বীরাঙ্গনা খেতাব লাভ করেন। গ. উদ্দীপকের চীনা বাহিনীর সাথে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সময়ের গণহত্যা ও পাকিস্তানিদের নৃশংসতার সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী পূর্ব পাকিস্তানে তথা বাংলাদেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ১১ চৈত্রের বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানি বাহিনী ট্যাংক ও সামরিক যানসহ শহরের মূলকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ঢাকা পিলখানায় হামলা চালায়। প্রথমে ফার্মগেটে বাঙালি জনতাকে হত্যা করে এবং পিলখানায় অসংখ্য ইপিআর সদস্য শহিদ হন। বালুচ ও পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বাছাইকৃত কসাই সেনারা প্রতিটি হলে ঢুকে ছাত্রদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। জগন্নাথ হলের সিঁড়ি, বারান্দা ও রাস্তায় শত শত ছাত্রের লাশের স্তূপ তৈরি হয়। ছাত্রীদের রোকেয়া হলেও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। সমগ্র ঢাকা শহরে তাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ফলে লাশ আর লাশ পড়ে থাকে। নয়া বাজার কাঠের আড়ত, বস্তি, শাঁখারি বাজার, রায়ের বাজার সব জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের শিখায় আকাশ লাল হয়ে ওঠে। তাদের হাত থেকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। ঢাকার বাইরে রংপুর, সৈয়দপুর, জয়দেবপুরসহ নানা স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে বহু নিরস্ত্র বাঙালি নিহত হয়। তারা অসংখ্য বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। তাদের নৃশংসতায় ৩০ লক্ষ নর-নারী শহিদ হন এবং ২ লক্ষ মা-বোন তাদের ইজ্জত হারান। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের ঘটনা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে ইতিহাসের জঘন্যতম ও নিমর্ম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ঘ. উদ্দীপকের উইঘুরদের মতো বাঙালিদেরও পাকিস্তানিরা শোষণ করেছে। – মন্তব্যটি যথার্থ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও প্রশাসনে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা অবহেলা দেখাতে থাকে এবং উদাসীনতার পরিচয় দেয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর হতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। এরই প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ পূর্ব বাংলায় স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর দমননিপীড়ন চালিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ অচল করে রাখে। পাকিস্তানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পশ্চিম পাকিস্তানিদের ছিল একচেটিয়া আধিপত্য। সামরিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয় পূর্ব পাকিস্তান। সামরিক বাহিনীর নিয়োগে ৬০% পাঞ্জাবি, ৩৫% পাঠান এবং ৫% বাঙালি ও অন্যান্য অংশ কোটা পেত। শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রেও চরম বৈষম্য দেখানো হয়, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, ডাকঘর প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাঙালিদের তুলনায় পশ্চিম পাকিস্তানিরা বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। এছাড়া সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ লক্ষ করা যায়। সুতরাং, উদ্দীপকের চীনের উইঘুরদের মতো বাঙালিরা রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক, সামরিকসহ সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মধ্য এশিয়ায় বসবাসরত তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি জাতিগোষ্ঠী হলো উইঘুর জাতি। বর্তমান উইঘুররা চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলে বাস করে। এরা চীনাদের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে শোষিত ও নিষ্পেষিত হয়ে আসছে। তারা দীর্ঘদিনের অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে স্বাধীনতার ডাক দিলে চীন সরকার তাদের ওপর গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের মতো পাশবিক নির্যাতন চালায়।

ক.

মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল?

খ.

মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের চীনা বাহিনীর সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের উইঘুরদের মতো বাঙালিদেরও পাকিস্তানিরা শোষণ করেছে- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c|c| hline textbfদলের নাম & textbfপূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা & textbfপশ্চিম পাকিস্তানের প্রাপ্ত আ...

ক. বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় ? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐ...

ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক ক...

“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ক. মহান মুক্তিযুদ্ধের সর...

‘ ক ’ অঞ্চলের জনগণ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেলেও প্রয়োজন ছিল যৌক্তিকভাবে যুদ্ধ পরিচাল...

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের কতটি আসন লাভ করে?

অটোমান তুর্কী সুলতানদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে বুলগেরিয়ার জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। অটোমান সুলতান এ আ...

অটোমান শাসনাধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মানুষ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ...

অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?

অপারেশন সার্চলাইট কত তারিখে পরিচালিত হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।