ক.
আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত।
খ.
নেপোলিয়নের পতনের ২টি কারণ হলো-
১. স্পেনীয় নীতি: স্পেনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং সিংহাসনে নিজ ভাই যোসেফ বোনাপার্টকে প্রতিষ্ঠিত করা নেপোলিয়নের জীবনে মারাত্মক এক ভুল ছিল। তিনি স্পেনবাসীর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের ওপর চরম আঘাত হেনে কূটনৈতিক অদূরদর্শিতার পরিচয় দেন। নেপোলিয়ন নিজেই বলেছেন, "স্পেনের ক্ষতেই আমার সর্বনাশ হয়।".
২. মস্কো অভিযান: মস্কো অভিযান নেপোলিয়নের পতনের একটি বড় কারণ। মস্কো অভিযানে ব্যর্থতা নেপোলিয়নের পতনের পথ প্রশস্ত করে।
সর্বোপরি বেলজিয়ামের ওয়াটার লু যুদ্ধে ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ন পরাজিত হন। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে তাকে নির্বাসন দেওয়া হয় এবং এ দ্বীপেই ১৮২১ সালে তার মৃত্যু হয়।
গ.
উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনের বিপ্লবী জীবনের ঘটনার মিল রয়েছে।
ভ্লাদিমির ইলিচ ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২২ এপ্রিল রাশিয়ার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা উলিয়ানভ ছিলেন একজন স্কুল পরিদর্শক। জার শাসকদের ফাঁকি দেবার জন্য তিনি ছদ্মনাম নেন লেনিন। লেনিনের ভাই আলেকজান্ডার ছিলেন সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। লেনিনের পরিবার বিপ্লবী হিসেবেই খ্যাত ছিল। জার তৃতীয় আলেকজান্ডারকে হত্যা করার গোপন ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে লেনিনের বড় ভাই আলেকজান্ডারের ফাঁসি হয়। এ সময় লেনিনের বয়স ১৭ বছর। "প্রিয়ভাজন বড় ভাইয়ের মৃত্যু কার্যকরের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তখন তিনি বলেছিলেন, 'I'll make them pay for it. I swear it. (আমি তাদের এ পাওনা পরিশোধ করে দেব। এটা আমার শপথ)। তিনি মনস্থির করলেন বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত হবেন। রাজদ্রোহীর ছোট ভাই হওয়ার অপরাধে লেনিনকে কাজান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ভর্তি হতে পারলেও ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে তাকে আবার বহিষ্কার করা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোর। শুনতে পেল বড় ভাইয়ের ফাঁসির খবর। তার চোখ যেন খুলে গেল এই ফাঁসির খবরে। জড়ালেন ছাত্র আন্দোলনে, হলেন নির্বাসিত। নির্বাসিত অবস্থায় তিনি প্রচুর পড়াশোনা করেন, খুঁজে বেড়ান শ্রমিক মুক্তির সঠিক পথ। আত্মগোপনে থাকাবস্থায় 'রাষ্ট্র ও বিপ্লব' নামে বই লিখেন। তাতে উল্লেখ করেন শুধু বিপ্লব দিয়ে নয়, শাসকশ্রেণির নির্মিত রাষ্ট্রতন্ত্রকে ধ্বংস না করে নিপীড়িত শ্রেণির মুক্তির সম্ভব নয়। এসব ঘটনার সাথে রুশ বিপ্লবের নেতা লেনিনের জীবনের ঘটনার মিল রয়েছে।
ঘ.
উক্ত নেতা অর্থাৎ ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন ছাত্রাবস্থায় আন্দোলনে জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হলেও পরবর্তীতে তিনি শ্রমিক মুক্তি ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিবর্তনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
তীক্ষ্ণ মেধা এবং নেতৃত্বগুণে তিনি বলশেভিক দলের দায়িত্ব হাতে নেন। বলশেভিক নেতৃত্বেই ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে লেনিন পেট্রোগ্রাডে সর্ব রুশীয় সোভিয়েত কংগ্রেসের অধিবেশন ডাকেন। পেট্রোগ্রাড সোভিয়েতের অনুকরণে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে ও গ্রামে যেসব স্থানীয় সোভিয়েত (অর্থাৎ পরামর্শ সভা) স্থাপিত হয় তাদের প্রতিনিধিরা এ কংগ্রেসে যোগ দেয়। এ প্রতিনিধিরা পেট্রোগ্রাড সোভিয়েতের প্রধান লেনিনকেই সোভিয়েত রাষ্ট্রের বৈধ প্রধান বলে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে বলশেভিকরা ও তাদের সমর্থকগোষ্ঠী শ্রমিক ও সেনারা জুলাই মাসের মাঝামাঝি পেট্রোগাডে (সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী) এক অভ্যুত্থান ঘটায়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়। অতঃপর লেনিন ফিনল্যান্ডে পলায়ন করেন। বলশেভিকদের মধ্যে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়। অক্টোবর মাসে লেনিনের সমর্থক ট্রটস্কি পেট্রোগ্রাড সোভিয়েতের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বলশেভিক দল ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি নেয়। ফিনল্যান্ড থেকে লেনিন চিঠি লিখে দলকে বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুত। হওয়ার জরুরি নির্দেশ দেন। বলশেভিক দল গোপনে সকলের সাথে যোগাযোগ করে সশস্ত্র পন্থায় ক্ষমতা দখলের রোড ম্যাপ তৈরি করে। অক্টোবর মাসের মধ্যে ৬২টি শহরে প্রায় দুই লাখ 'লালফৌজ' প্রস্তুত হয়। পেট্রোগ্রাডে (রাজধানী) মূল শক্তির সমাবেশ ঘটানো হয়। ১৯১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সরকার বলশেভিক কার্যালয় ও অফিস আক্রমণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ খবরে চারদিকে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক, নৌ এবং সৈনিকদের ব্রিগেডগুলো রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ দখল করে নেয়। ২৫ অক্টোবর (পুরানো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ নভেম্বর) রাশিয়ার ক্ষমতা শ্রমিকদের হাতে চলে আসে। বলশেভিক পার্টি ক্ষমতা গ্রহণ করে। লেনিন ক্ষমতার এ পরিবর্তনকে 'সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব' বলে আখ্যায়িত করেন। অতঃপর লেনিন বলশেভিক শাসনব্যবস্থার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে রাশিয়ার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনেক মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়।
অতএব বলা যায়, উক্ত নেতা অর্থাৎ লেনিন শ্রমিক মুক্তি ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিবর্তনে অত্যন্ত সফল হয়েছিলেন।