ক.
'Utopia' গ্রন্থের লেখক টমাস ম্যুর।
খ.
রাশিয়ার জারতন্ত্রের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে যোগদান দেশটিতে গভীর সংকটের সৃষ্টি করে । এ সংকটে ভি. ই লেনিনের নেতৃত্বে এগিয়ে আসে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। আর সংখ্যাগরিষ্ঠদের অংশগ্রহণ বোঝানোর জন্যই রুশ বলশেভিক বিপ্লব হিসেবে উক্ত বিপ্লবকে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯১৭ সালে ধনতন্ত্রের বিপরীত ধর্মী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে এ আন্দোলন পরিচালিত হয়।
গ.
উদ্দীপকের '??' চিহ্নিত স্থানে বলশেভিক বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে। বলশেভিক বিপ্লবে কার্ল মার্কস, অ্যাঙ্গেলস এবং লেনিনের ভূমিকা অতুলনীয়।
উনিশ শতকের শেষ দিকে রাশিয়া রাজনৈতিকভাবে বিপ্লবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হতে থাকে। বিভিন্ন বৈপ্লবিক সংগঠন তৈরি হতে থাকে। রাশিয়ার অধীনে সমাজতন্ত্রের আদর্শ জনপ্রিয় হতে থাকে। মূলত সমাজতন্ত্রের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডারিক অ্যাঙ্গেলস। তাদের এ ধারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে। কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডারিক অ্যাঙ্গেলস-এর লেখনী রাশিয়ায় অবহেলিত ও বঞ্চিত শ্রমিকদের মধ্যে সকল ক্ষেত্রে অসাম্য দূর করে সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রেরণা দেয়। তাদের লেখার প্রভাবে স্বৈরাচারী জারতন্ত্রের অসংগতিগুলো শিক্ষিত সমাজের মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিকদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং জারতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করে, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন বলশেভিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
বলশেভিক উপদলের প্রতিষ্ঠাতা এবং নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন । লেনিনের বিপ্লবী আদর্শ ছিল বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপান্তর করা। এই বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি জমিদার ও পুঁজিপতিদের উচ্ছেদ ঘটায়। এবং রাশিয়ার কৃষকদের হাতে জমি হস্তান্তর করে। রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সাফল্য লেনিনের মতো একজন শক্তিশালী নেতা ছাড়া সম্ভব ছিল না। তিনি দেশে অবস্থান করে এবং অনেক সময় বিদেশে অবস্থান করে বলশেভিক বিপ্লবের কাঠামো এঁকে নিয়েছিলেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি যে, পৃথিবীতে প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটনের ক্ষেত্রে কার্ল মার্কস, অ্যালেস ও লেনিন মূখ্য ভূমিকা পালন করেন ।
ঘ.
উক্ত বিপ্লব অর্থাৎ বলশেভিক বিপ্লব পৃথিবীকে এক নতুন রাষ্ট্রদর্শন উপহার দিয়েছিল।
রাশিয়ায় সংঘটিত ১৯১৭ সালের এ ঘটনা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । এর মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাশিয়ার শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের নেতা লেনিন রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে যে আলোড়ন তুলেছিলেন, তাতে আলোড়িত হয়েছিল গোটা বিশ্বের রাজনীতি। সমাজ বিকাশের ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর জাতিসমূহ বিংশ শতাব্দীতে সমাজতন্ত্রের ভাবধারায় আলোড়িত হয়েছিল। রুশ বিপ্লবের পর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশসহ এশিয়ার চীন, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং লাতিন আমেরিকার কিউবায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল পৃথিবীর সব দেশ ও জাতি রুশ বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হবে। কিন্তু রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। এ বিপ্লব মানুষের সামগ্রিক চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। তদুপরি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি। তবে রুশ বিপ্লবের প্রভাবে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে উপনিবেশবাদ ভেঙে পড়ে এবং জাতীয় সংগ্রাম তীব্রতর হয়েছিল।
পরিশেষে বলা যায়, বলশেভিক বিপ্লব/ রুশ বিপ্লব পৃথিবীকে এক নতুন রাষ্ট্রদর্শনের উপহার দিয়েছিল।