Facebook Pixel

মঙ্গল পান্ডের নেতৃত্বে ব্যারাকপুরে এ বিদ্রোহের শুরু হয় এবং ক্রমে তা ভারতবর্ষের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে এ আন্দোলন পরিচালিত হলেও এটি ভারতের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে। এ আন্দোলনের ফলে ভারতে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ক. বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন? খ. 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল কেন?

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

উৎস: Test Exam Question DC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা। (খ) ইংরেজি ১৭৭০ এবং বাংলা ১১৭৬ সালে উপমহাদেশে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এ দুর্ভিক্ষে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ না খেয়ে মারা যায়। ক্ষুধার যন্ত্রণায় জীবিত মানুষ মৃত মানুষের মাংস ভক্ষণ করে। অনাহারজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রতি ষোলজনের মধ্যে ছয়জন। যেখানে ১ টাকায় ১ মণ চাল পাওয়া যেত, সেখানে দুর্ভিক্ষের সময় ১ টাকায় ৩ সের চাল পাওয়া ছিল দুষ্কর। বাংলা ১১৭৬ সালে ঘটে যাওয়া এ মহা দুর্ভিক্ষই ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহ তথা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে। পলাশি যুদ্ধের পর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজ্য বিস্তার, একের পর এক দেশীয় রাজ্য দখল দেশীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে ভীতি, অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। কোম্পানি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের আগেই এদেশের শিল্প ধ্বংস করেছিল এবং রাজস্ব নীতির নামে দরিদ্র কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য এনফিল্ড রাইফেলের প্রচলন করা হয়, যার টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকের ভেতরে প্রবেশ করতে হতো। সৈন্যদের মধ্যে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, টোটায় গরু ও শুকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয় সম্প্রদায় ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে মঙ্গল পান্ডে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে বিদ্রোহের সূচনা করেন। শুরু হয় ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। দ্রুত এ বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়। এ সময় বাহাদুর শাহ পার্কে অনেক বিদ্রোহী সিপাহিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। উদ্দীপকে মঙ্গল পান্ডে এবং ব্যারাকপুরের কথা উল্লেখ থাকায় এটি সিপাহি বিদ্রোহকেই নির্দেশ করে। (ঘ) ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহ তথা মহাবিদ্রোহ নানা কারণে ব্যর্থ হয়। যেমন: প্রথমত, বিদ্রোহীদের পূর্বপরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য না থাকায় এটি উত্তর প্রদেশ, রোহিলাখণ্ড, অযোধ্যা, দিল্লি, বাংলা এবং বিহারে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বিদ্রোহমুক্ত এলাকার জনগণ ব্রিটিশ সরকারকে সমর্থন করে বিপ্লবকে ব্যাহত করে। দ্বিতীয়ত, এ মহাবিদ্রোহে ঝাঁসির রানি, অযোধ্যার বেগম এবং অপর কয়েকজন ক্ষুদ্ররাজ্যের রাজা, তালুকদার এবং জমিদার ছাড়া অপর কেউই অংশগ্রহণ করেনি। ফলে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তৃতীয়ত, বিদ্রোহীদের মধ্যে সংহতি ও আদর্শের অভাব তাদের বিফলতার অন্যতম কারণ। নেতৃবর্গের মধ্যে আদর্শ ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকায় সমগ্র ভারতে একই নীতি এবং কর্মপন্থা অনুসৃত হয়নি। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ, মারাঠা নেতা নানাসাহেব এবং ঝাঁসির রানি নিজ নিজ এলাকায় ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে সঠিক নির্দেশনার অভাবে এ বিদ্রোহ দ্বিধাগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। চতুর্থত, সিপাহিদের পতনের অন্যতম কারণ ছিল সমগ্র ভারতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো তাদের মধ্যে কোনো কেন্দ্রীয় নেতা ছিল না। পঞ্চমত, ভারতীয়দের তুলনায় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী উন্নত এবং সুসজ্জিত ছিল। ভারতীয় সিপাহিদের পুরাতন গাদা বন্দুকের বিপরীতে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করা অসম্ভব ছিল। ষষ্ঠত, লর্ড ক্যানিং ছিলেন বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ শাসক। তিনি বিদ্রোহীদের প্রতি কঠোর এবং দমনমূলক নীতি গ্রহণ না করে বরং উদার এবং শান্তির নীতি অবলম্বন করেন। ফলে শীঘ্রই বিদ্রোহ প্রশমিত হয়। অতএব বলা যায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব, ইংরেজদের উন্নত রণকৌশল ও দমননীতি এবং সিপাহিদের দুর্বলতার কারণে সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Dhaka College (2026)

মঙ্গল পান্ডের নেতৃত্বে ব্যারাকপুরে এ বিদ্রোহের শুরু হয় এবং ক্রমে তা ভারতবর্ষের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে এ আন্দোলন পরিচালিত হলেও এটি ভারতের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে। এ আন্দোলনের ফলে ভারতে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ক. বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন? খ. 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল কেন?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবি কোন শব্দ হতে 'ফরায়েজি' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে?

ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে তিতুমীরের পরাজয়ের কারণ ছিল- i. তিতুমীরের সমর্থকদের অসহযোগিতা ii. ইংরেজদের উন্নত যুদ্ধ কৌশল iii. তিত...

ইনসান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ। ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শ...

ইমরান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শা...

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত খ্রিষ্টাব্দে দিওয়ানি লাভ করে?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সালে গঠিত হয়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়েছিল কেন?

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবত চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণক...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।