Facebook Pixel

মগধ শাসনামলে 'ক' রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নত ছিল। শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুবিধা এবং পূর্বাঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য 'ক' রাজ্যকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করলে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জনগণের একটি অংশের প্রবল আন্দোলনের মুখে 'ক' রাজ্যকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়। ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা দাও। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের কোন ঘটনার সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'ক' রাজ্যের বিভক্তিকরণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছিল- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

উৎস: Test Exam Question GCC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। (খ) দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের ২৭তম অধিবেশনে তিনি দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন। নেহেরু রিপোর্টের প্রেক্ষাপটে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, ভারতে হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি। উভয়ের ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পূর্ণ পৃথক। তাই মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন অপরিহার্য। এই ধারণাই ইতিহাসে দ্বিজাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯০৫ সালে তৎকালীন ইংরেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন বাংলাকে বিভক্ত করেন। বঙ্গভঙ্গের পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণ বিদ্যমান ছিল। তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে বাংলা প্রদেশ ছিল সবচেয়ে বড়। ফলে একজন গভর্নরের পক্ষে এত বিশাল এলাকা শাসন করা অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তাই প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইংরেজ সরকার বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন বাংলা প্রদেশের পূর্ব অংশ ছিল অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত। তাই পূর্ববঙ্গের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য ইংরেজ সরকার এই বিভক্তির উদ্যোগ নেয়। তবে এর পেছনে সুচতুর ইংরেজ সরকারের 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule Policy) নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ছিল, যাতে ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা যায়। এসব প্রেক্ষাপটে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা দেন। এর ফলে আসাম, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগ নিয়ে 'পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ' গঠিত হয় এবং এর রাজধানী করা হয় ঢাকা। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে 'বাংলা প্রদেশ' গঠিত হয়, যার রাজধানী ছিল কলকাতা। উদ্দীপকের শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক সুবিধা এবং পূর্বাঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য 'ক' রাজ্যকে বিভক্ত করে, যা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ঘটনার সাথে হুবহু মিলে যায়। (ঘ) 'ক' রাজ্যের বিভক্তিকরণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছিল- মন্তব্যটি যথার্থ। বঙ্গভঙ্গ বাংলার ঔপনিবেশিক শাসনামলের একটি যুগান্তকারী ঘটনা। যদিও এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবে এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ তাদের ভাগ্যোন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা দেখেছিল। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার অর্থনীতির চাকা যে নতুন গতি পেয়েছিল, তা তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ১৯০৬ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের 'ইরা' পত্রিকায় প্রদেশ প্রতিষ্ঠার ৮টি সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো: ১. ঢাকা নগরের পুনর্জন্ম ও চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি। ২. নদী ও খালের সংস্কার, রেল লাইনের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের সাথে এর সংযোগ স্থাপন। ৩. নতুন প্রাদেশিক পরিষদ গঠিত হওয়ার ফলে জমিদার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসাধারণের অভাব-অভিযোগ সরকারের দৃষ্টিতে আনা। ৪. সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা এবং জনসাধারণের জানমালের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৫. পূর্ব বাংলার শিক্ষিত শ্রেণির সংস্পর্শে আসার ফলে অনুন্নত আসামের অধিবাসীদের উন্নয়ন। ৬. পূর্ব বাংলার জন্য দক্ষ পুলিশ বাহিনীর ব্যবস্থা করা। ৭. প্রদেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি। ৮. প্রদেশের প্রধান কর্মকর্তার সাথে সাধারণ মানুষের সান্নিধ্য বৃদ্ধি। এছাড়া বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলায় শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন শুরু হয়। পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের ফলে 'ক' অঞ্চলের মতো পূর্ব বাংলায় উন্নয়নের জোয়ার আসতে শুরু করেছিল, কিন্তু বর্ণবাদী হিন্দু সমাজ ও কংগ্রেসের তীব্র বিরোধিতার কারণে এই উন্নয়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Govet City College, Chottogram (2026)

মগধ শাসনামলে 'ক' রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নত ছিল। শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুবিধা এবং পূর্বাঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য 'ক' রাজ্যকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করলে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জনগণের একটি অংশের প্রবল আন্দোলনের মুখে 'ক' রাজ্যকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়। ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা দাও। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের কোন ঘটনার সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'ক' রাজ্যের বিভক্তিকরণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছিল- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবি কোন শব্দ হতে 'ফরায়েজি' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে?

ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে তিতুমীরের পরাজয়ের কারণ ছিল- i. তিতুমীরের সমর্থকদের অসহযোগিতা ii. ইংরেজদের উন্নত যুদ্ধ কৌশল iii. তিত...

ইনসান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ। ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শ...

ইমরান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শা...

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত খ্রিষ্টাব্দে দিওয়ানি লাভ করে?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সালে গঠিত হয়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়েছিল কেন?

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবত চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণক...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।