Facebook Pixel

ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবক ইরফান। পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য আক্রমণ করেন। উন্নত রণনীতি ও সমরাস্ত্রের সাহায্যে প্রতিবেশীর বিশাল সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। অতঃপর ঐ রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করার গৌরব অর্জন করেন। ক. 'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ কী? খ. মুঘলদের পরিচয় ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উক্ত শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

উৎস: Board Exam Question Combined 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) 'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ হলো ভাগ্যবান। (খ) 'মোঙ্গ' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে। (গ) উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তিনি তাঁর দুই পিতৃব্য, আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের বিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করলেও ভাগ্যবিপর্যয়ে তা হারান এবং ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ফারগানাও তাঁর হাতছাড়া হয়ে যায়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। তবে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন এবং ১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে তিনি পুনরায় ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিষ্টাব্দে বাবর কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিষ্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি; ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবক ইরফান এবং ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের জীবনসংগ্রাম ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সম্রাট বাবর কেবল একজন নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাদক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক এবং প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না, বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানোয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তাঁর সাফল্য তাঁকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি এর ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য তিনি প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালী (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতোয়াল (নগরকর্তা) নিয়োগ করেছিলেন। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু এবং অট্টালিকা নির্মাণ করেন। পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ ছিল, এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2018)

ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবক ইরফান। পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য আক্রমণ করেন। উন্নত রণনীতি ও সমরাস্ত্রের সাহায্যে প্রতিবেশীর বিশাল সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। অতঃপর ঐ রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করার গৌরব অর্জন করেন। ক. 'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ কী? খ. মুঘলদের পরিচয় ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উক্ত শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আজম খান পৈতৃক সূত্রে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয...

আশরাফ চৌধুরী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার ...

আশরাফ চৌধুরী পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হ...

ইতিহাসে যুদ্ধে প্রথম কামান ব্যবহার করেন কে?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: মধ্যগড়ের রাজা ভূমি সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রজাদের জমির মালিকানা সত্ব স্বীকার করে তাদের ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: মধ্যগড়ের রাজা ভূমি সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রজাদের জমির মালিকানা সত্ব স্বীকার করে তাদের ...

উসমানের পূর্ব পুরুষরা গোবি মরুভূমির একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের শাসক ছিলেন। যেখানে শত্রুপক্ষের শক্তির কারণে সুবিধা করতে না পেরে...

এক মুঘল সম্রাটের নামের অর্থ ছিল সৌভাগ্যবান। সম্রাট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি প্রথম জীবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ...

এক সাম্রাজ্যের শাসক তার জ্যেষ্ঠপুত্রকে অধিক ভালোবাসতেন। তার কনিষ্ঠ পুত্র শিক্ষাদীক্ষা, জ্ঞান-গরিমায জ্যেষ্ঠপুত্র অপেক্ষা...

একটি ছোট রাজ্যের রাজার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ফাহমিদ সিংহাসনে বসেন। ফাহমিদ অল্প বয়সী ও অনভিজ্ঞ হওয়ার কারণে নিকটাত্মীয় ও ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।