Facebook Pixel

ভাষা আন্দোলনে সৃষ্ট ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক জাতীয়তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলা যায়। এই চেতনাই ছিল এদেশের সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেরণা শক্তি। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী চেতনা। ক. ‘Natus' শব্দের অর্থ কী? খ. জাতি রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়? গ. জাতি গঠনে ভাষার গুরুত্ব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখপূর্বক আলোচনা করো। ঘ. “বর্তমানে জাতি গঠনের উপাদান হিসেবে ধর্মের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে” – তোমার মতামত দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ দেশপ্রেম ও জাতীয়তা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. Natus শব্দের অর্থ 'Birth' বা জন্ম। খ. জাতীয়তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রকে জাতি রাষ্ট্র বলে। সাধারণত ‘এক জাতি এক রাষ্ট্র' তত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রসমূহই জাতি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। ইতালিয়ান রাষ্ট্র দার্শনিক ম্যাকিয়াভেলি জাতি রাষ্ট্র সম্পর্কে প্রথম ধারণা দিয়েছিলেন। বর্তমান ধারণা অনুযায়ী রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে গড়ে ওঠে জাতীয়তাবাদ আর পরবর্তীতে এ জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রই হলো জাতি রাষ্ট্র। বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রই হলো জাতি রাষ্ট্র। গ. বাঙালি জাতি গঠনে ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত ভাষাই বাঙালি জাতিকে ঐক্যের আওতায় নিয়ে আসার প্রধান উপাদান । ভাষা হলো মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন । কোনো জনসমষ্টির সকল মানুষের ভাষা যদি একই হয় এবং তাদের সাহিত্যও যদি এক হয় তাহলে স্বভাবতই তারা নিজেদের মধ্যে দৃঢ় ঐক্য অনুভব করে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি হয়। এছাড়া একই জনসমষ্টির মধ্যে একই ধরনের আচরণ ও রীতিনীতি গড়ে উঠলে তারা নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি থেকে স্বতন্ত্র মনে করে। আচরণ ও রীতিনীতিগত এ ঐক্য জনসমষ্টিকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে। উদ্দীপকে এ বিষয়েরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ আরও অনেকে তাদের জীবন উৎসর্গ করেন । ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত্তিতেই ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয় এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা জীবন উৎসর্গ করে ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা করে। তাই বলা যায়, জাতি গঠনের ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যই ভূমিকা রেখেছে। ঘ. বর্তমানে জাতি গঠনের পেছনে ধর্মের গুরুত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মকে জাতি গঠনের প্রধান উপাদান হিসেবে মনে করা হতো। একই ধর্মে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যের মানসিকতা গড়ে ওঠে। মুসলিম জাতি ও ইহুদি জাতি মূলত ধর্মের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। গিলক্রিস্টের মতে, “ধর্মবিশ্বাসের পার্থক্য যেখানে প্রবল, সেখানে জাতিগত ঐক্য স্বল্পস্থায়ী হতে বাধ্য।” কিন্তু বর্তমানে জাতি গঠনে ধর্মের ওপর খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ধর্মের ওপর ভিত্তি করে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ধর্মীয় ঐক্য পাকিস্তানের দুটি অংশকে একত্রিত রাখতে পারে নি। পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ভৌগোলিক, মানসিক বা ভাবগত ঐক্য ছিল না। এজন্য শুধু ধর্মীয় ঐক্য পাকিস্তানকে অখণ্ড রাখতে পারে নি। একই ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নামে দুটি আলাদা জাতি সৃষ্টি হয়েছে। আরব রাষ্ট্রগুলো একই ধর্মের অনুসারী। কিন্তু সেখানেও ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তা বিরাজমান। সুতরাং বলা যায়, জাতি গঠনে ধর্মের ভূমিকা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভাষা আন্দোলনে সৃষ্ট ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক জাতীয়তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলা যায়। এই চেতনাই ছিল এদেশের সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেরণা শক্তি। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী চেতনা। 

ক.

‘Natus' শব্দের অর্থ কী?

খ.

জাতি রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়?

গ.

জাতি গঠনে ভাষার গুরুত্ব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখপূর্বক আলোচনা করো।

ঘ.

“বর্তমানে জাতি গঠনের উপাদান হিসেবে ধর্মের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে” – তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।