ক.
জাতি হলো জাতীয়তাবাদের উদ্বুদ্ধ জনসমাজ যারা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী।
খ.
দেশপ্রেম জাতি, জাতীয়তা রাষ্ট্র গঠন এবং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার মূলমন্ত্র। একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রভৃতি বৃহদংশে নির্ভর করে জাতির দেশপ্রেমের উপর। নাগরিক এবং রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলো যদি দেশপ্রেমকে অগ্রাধিকার দেয় তবেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।দেশ প্রেমের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি। দেশপ্রেম মানুষকে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ নয় বরং নিঃস্বার্থভাবে জাতির কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করে। আর এর বহুবিক কারণে দেশপ্রেম অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষা জাতীয়তাবোধের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট জাতীয়তা বোধ বাঙালি জাতীয়তার অন্যতম ভিত্তি। বিভিন্নভাবে জাতীয়তার এ উপাদানটি তথা ভাষা জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ভাষাগত ঐক্য জাতীয়তা গঠনের অন্যতম একটি অনুসর্গ। ভাবের আদান-প্রদান দিয়ে মানুষ সমাজে যোগাযোগ স্থাপন করে ও মনের ভাব প্রকাশ করে। ভাষার মাধ্যমে একজন অন্যজনকে সহজে বুঝতে পারে, চাহিদা ও স্বার্থ সম্পর্কে সহজে জানতে পারে এবং তা মেটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এভাবে একই ভাষাভাষী জনসাধারণ নিজেদের ভাব চিন্তা চেতনা ইত্যাদির সাদৃশ্যের কারণে নিজেদেরকে অন্য জাতি থেকে পৃথক মনে করে। ফলে সহজে তাদের মধ্যে ঐক্যবোধ, একাত্মবোধ, তথা জাতীয়তা বোধের সৃষ্টি হয়। বাংলা জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এর গ্রথিত হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন পূর্ব সময়ে বাংলা ভাষাভাষী সবাইকে অভিন্ন ভেবে ঊর্ধ্ব ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়নি। আর তাই সংবিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভাষাগত ও সংস্কৃতি গত একক স্বত্তা বিশিষ্ট যে বাঙালি জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে সেই ঐক্য বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।আর এভাবেই ভাষা জাতীয়তাবাদের সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
ঘ.
না, আমি মনে করি,বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টিতে শুধু উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষাভিত্তিক উপাদান কাজ করেনি।
উদ্দীপকের প্রসঙ্গে বলা যায় , বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্র ভাষা হলেও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে আরও অসংখ্য উপাদান। উদ্দীপকে ও শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বান ও নয় মাসব্যাপী যুদ্ধের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এমনিভাবে, বাঙালি জাতির বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টিতে শুধু ভাষা নয় বরং আরও বিভিন্ন উপাদানের ভূমিকা রয়েছে।
একই স্বার্থ যেমন -অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ কোনো দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাসের প্রেরণা দেয়।জনগণের স্বার্থ অভিন্ন হলে ঐক্যবদ্ধভাবে বশ করা ও নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রচেষ্টা করে মানুষ বাংলাদেশ সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অসামাজিক চাহিদার অমিল, রাজনৈতিক নিগ্রহ প্রভৃতি উপরে উল্লেখিত কারণে নিজেদের পশ্চিম পাকিস্তানীদের থেকে পৃথক ভাবতে বাধ্য করেছিল। জাতীয়তা গঠন ও বিকাশে অন্যান্য উপাদানের সাথে ভূগোলিক সান্নিধ্যতা ও বিশেষ ভূমিকা রাখে। শুধু ভৌগলিক অখণ্ডতার অভাবে 'ভবঘুরে জনসমষ্টি 'জাতি গঠনে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের জন্ম লগ্নে নিজেদের অক্ষণটাতাকে বৃদ্ধমূল ধরে অন্য স্থানে অবস্থিত পশ্চিম পাকিস্তানিদের তাই বাঙালিরা নির্দিষ্ট জাতি হিসেবে স্বীকার করতে পারেননি। তাই শেখ মুজিবুর রহমানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়
স্পষ্টত, উদ্দীপকে ইঙ্গিত পূর্ণ উপাদান তথা ভাষার বাইরে আরও বিভিন্ন উপাদান বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। আর তাই আমি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সাথে একমত নই।