Facebook Pixel

ভারতের পাঞ্জাবের কাদিয়ান থেকে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেছে। গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা। সে ১৮৮৯ সালে প্রথমবার দাবি করেন তিনি ইসলামের একজন নবি ঈসা ও ইমাম মাহদি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার এই দাবি কে বিভিন্ন দেশে ভণ্ড আখ্যা দিয়ে কাদিয়ানিদের সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। ক. খলিফা শব্দের অর্থ কী? খ. আবুবকর (রা.) কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকের সাথে খলিফা আবু বকর (রা.) এর সময়ের কোন সমস্যার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত সমস্যা মোকাবিলায় আবু বকর (রা.)-এর অবদান বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. খলিফা শব্দের অর্থ প্রতিনিধি। খ. ত্রাণকর্তা অর্থ বিপদ থেকে উদ্ধারকারী। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইসলামকে প্রাথমিক সকল বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন বিধায় ইসলামের ইতিহাসে খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়। রাসুল (সা.)-এর তিরোধানের পর মুসলিম জাহানের সঙ্কটকালীন সময়ে ত্রাণকর্তা হিসেবে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে, দৃঢ় মনোবল ও ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্বের সঙ্কট মোচন, জাকাত অস্বীকারকারীদের কঠোর হাতে দমন, মুনাফিকদের দমন, ভণ্ডনবিদের দমন, কুরআন সংকলন এবং স্বধর্মত্যাগীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে সদ্যগঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে বিরাট বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন। এজন্যই আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়। গ. উদ্দীপকের সাথে খলিফা আবু বকর (রা.) এর সময়ের ভন্ডনবিদের আবির্ভারের সমস্যার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ভারতের পাঞ্জাবের কাদিয়ান থেকে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেছে। গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা। নিজেকে নবি হিসেবে দাবি করে। তার এই দাবি কে বিভিন্ন দেশে ভন্ড আখ্যা দিয়ে কাদিয়ানিদের সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। যা হযরত আবু বকর (রা.) সময় ভণ্ডনবিদের আবির্ভাবের অনুরূপ। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হয়ে নানা সমস্যা ও বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হন। যেমন-তিনি খিলাফতে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ভণ্ডনবিদের আবির্ভাব ঘটে। এসব ভন্ডনবিদের মধ্যে তোলায়হা, মাজাহ, আসাদ আনসি, মুসায়লামা প্রমুখ অন্যতম ছিলেন। তারা নিজেদের নবি বলে দাবি করে জনগণকে প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করতে শুরু করে। কিছু গোত্র বিশেষ করে বেদুইন সম্প্রদায় ইসলামের বিধি মোতাবেক জাকাত দিতে অস্বীকার করে। মহানবি (সা.)-এর ইন্তেকালে মুসলমানদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার সুযোগ নিয়ে সুবিধাবাদী কতিপয় লোক তাদের পূর্বের ধর্মে ফিরে যায়। এ লোকগুলো মুসলিম সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। হযরত আবু বকর (রা.) এসব বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমন করে মুসলিম সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময় ভন্ডনবিদের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উক্ত সমস্যা তথা ভণ্ডনবীদের মোকাবিলায় হযরত আবু বকর (রা.)-এর অবদান অপরিসীম। হযরত আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হলে কিছু ভণ্ডনবির উদ্ভব' ঘটে। কতিপয় লোক নিজেদের নবি ঘোষণা করে, কেউ কেউ জাকাত দিতে অস্বীকার করে, আবার কিছু লোক ইসলাম ত্যাগ করে আগের ধর্মে ফিরে যায়। এমন ভয়ানক সংকটে হযরত আবু বকর (রা.) অল্প সংখ্যক সৈন্যের সাহায্যে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকরের ফলশ্রুতিতে তিনি দক্ষতার সাথে ভণ্ডনবিদের পরাজিত করেন, তিনি সেনাবাহিনীকে ১১টি ভাগে বিভক্ত করেন। প্রত্যেক সেনাদলকে একজন অভিজ্ঞ সেনাপতির অধীনে ন্যস্ত করে আরবের বিভিন্ন অংশে বিদ্রোহ দমনে প্রেরণ করেন। খলিফা নিজে সামগ্রিক অভিযানের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। আসওাদের বিদ্রোহ দমনের জন্য মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মুয়াজ ইবনে জাবালকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। কিন্তু মহানবি (সা.)-এর ইন্তেকালের এক বা দুই দিন আগে তার আত্মীয় ফিরোজ দাইলামীর হাতে আনসি নিহত হয়। ভণ্ডনবি তোলায়হা সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদের কাছে বুঝাখারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে স্ত্রীসহ সিরিয়ায় পালিয়ে যায়। কিন্তু কিছু দিন পর মদিনায় এসে সে পুনরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ভণ্ডনবি সাজাহকে দমনের জন্য খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করা হলে সাজাহ পরাজিত হয়ে ভন্ডনবি মুসায়লামার সাথে বিবাহ কন্ধনে আবদ্ধ হয়। ভন্ডনবি মুসায়লামা ছিল সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। সাজাহকে বিবাহ করার পর ৪০ হাজার লোকের বাহিনী নিয়ে বনু হানিফ গোত্রের সহায়তায় সে ইসলামকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়। খলিফা আবু বকর (রা.) তাদের এই যৌথ বাহিনীকে দমনের জন্য প্রথমে ইকরামা ও সুরাহবিলকে প্রেরণ করেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে খালিদ বিন ওয়ালিদকে তাদের সাহায্যে পাঠানো হয়। ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে ইয়ামামার প্রান্তরে তুমুল যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মুসায়লামার যৌথ বাহিনী পরাজিত হয় এবং ভণ্ডনবি মুসায়লামাসহ হাজার হাজার লোক নিহত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভারতের পাঞ্জাবের কাদিয়ান থেকে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেছে। গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা। সে ১৮৮৯ সালে প্রথমবার দাবি করেন তিনি ইসলামের একজন নবি ঈসা ও ইমাম মাহদি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার এই দাবি কে বিভিন্ন দেশে ভণ্ড আখ্যা দিয়ে কাদিয়ানিদের সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।

ক.

খলিফা শব্দের অর্থ কী?

খ.

আবুবকর (রা.) কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকের সাথে খলিফা আবু বকর (রা.) এর সময়ের কোন সমস্যার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত সমস্যা মোকাবিলায় আবু বকর (রা.)-এর অবদান বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।