Facebook Pixel

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সানজিদা তার ইতিহাস বইয়ের একটি অধ্যায় পড়ে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন তারিখে স্বাক্ষরিত একটি সন্ধি সম্পর্কে জানতে পারে। সানজিদা বুঝতে পারে যে , এ সন্ধি পরে পরাজিত শক্তিসমূহকে তেমন কোন ছাড় দেয়া হয়নি। বরং এ সন্ধির সকল শর্ত পরাজিত দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সে আরো জানতে পারে যে , এ সন্ধির মাধ্যমে ইউরোপের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে যায় ৷ ক. প্যারিস শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের কয়টি দেশ মিলিত হয়েছিল ? খ. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানের কারণ কী ? ব্যাখ্যা করো । গ. উদ্দপিকে সানজিদার পঠিত সন্ধির সাথে তোমার পঠিত কোন সন্ধির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় ? উক্ত সন্ধির শর্তাবলি ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শেষ বক্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. প্যারিস শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের ৩২টি দেশ মিলিত হয়েছিল। খ. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণের কারণ আটলান্টিক মহাসাগরে জার্মানি কর্তৃক আমেরিকার সাবমেরিন ডুবিয়ে দেয়া। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে যুদ্ধরত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চায় কোনো বাধা ছাড়া। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো মার্কিনীদের অস্ত্রের প্রধান ক্রেতা মিত্রপক্ষ। এসব অস্ত্র দ্বারা অক্ষশক্তির ক্ষতি হওয়ায় তারা আমেরিকান সাবমেরিন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবিয়ে দিতে থাকে। আমেরিকা প্রথমে জার্মানিকে সাবধান করার পরও জার্মানি না শোনায় আমেরিকা মিত্রপক্ষের হয়ে ১৯১৭ সালে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। গ. উদ্দীপকে সানজিদার পঠিত সন্ধির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ভার্সাই সন্ধির সাদৃশ্য পাওয়া যায় । প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী জোট জার্মানিকে ১৯১৯ সালে যে সন্ধি করতে বাধ্য করে তা ভার্সাই সদি নামে পরিচিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় শক্তিবর্গ এবং জনসাধারণের মা জার্মানির বিরুদ্ধে যে তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে ভার্সাই সন্ধি হয়। এছাড়া পরাজিত শত্রুর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের প্রতি ইউরোপীয় বিজয়ী রাষ্ট্রগুলো বিবেচনায় আনেনি। ভবিষ্যতে যাতে জার্মানি আরও শক্তি অর্জন করে ইউরোপে শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে , সেজন্যই ভার্সাই সন্ধির ধারা রচিত হয়। জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে শত্রুতা ছিল বহু পুরানো। প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধি জার্মানিকে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পঙ্গু করে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। ব্রিটেন চেয়েছিল একটি আগ্রাসী সামরিক রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানির পুনরুত্থান ঠেকিয়ে ইউরোপে তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে। অন্যদিকে , জার্মানির উপনিবেশগুলো করায়ত্ত করার জন্য ইতালি তার স্বার্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এছাড়া মিত্র শক্তির ক্ষতি পূরণ আদায়ের নামে জার্মানির খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো দখল করা ছিল ভার্সাই সন্ধির অন্যতম কারণ। আর এ সন্ধির শর্তাবলি ছিল জার্মানির জন্য খুবই অমানবিক ও আবমাননাকর। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে। পরিশেষে বলা যায় , উদ্দীপকে আলোচিত সন্ধি দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের ভার্সাই সন্ধিকেই নির্দেশ করে । ঘ. হ্যাঁ , আমি মনে করি এ সন্ধির মাধ্যমে ইউরোপের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে যায় । প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন জার্মানির কাঁধে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এ সন্ধিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বাধ্য করা হয়। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানির নিকট থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা আদায় করা হয়। জার্মানির সৈন্যসংখ্যা এক লক্ষ সীমিত করা হয়। যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন , আমদানি - রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। রাইন নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সকল জার্মান দুর্গ ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সন্ধি অনুযায়ী জার্মানি তার আলসাস , লোরেন ও খনিসমৃদ্ধ সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয় ৷ জার্মানি বেলজিয়ামকে ইউপেন , মরিসনেট , ম্যামেডি নামক জেলা ছেড়ে দেয়। জার্মানি ভার্সাই সন্ধির কঠোরতায় ন্যূব্জ হয়ে পড়েছিল জার্মানবাসী ভেতরে ভেতরে ফুসছিলও সন্ধির নাগপাশ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। এমন সময় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিটলারের আবির্ভাব ঘটে। হিটলার ভার্সাই সন্ধির নিষ্ঠুরতা থেকে জার্মানবাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং বিশ্বে জার্মানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। পরিশেষে বলা যায় , ভার্সাই সন্ধির কঠোরতা ও নিষ্ঠুর বিধানই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল। ফলে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ও ধ্বংসযজ্ঞ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে অনেক বেশী ও ভয়াবহ। এজন্য সংঘটিত এ যুদ্ধ ইউরোপ তথা পুরো বিশ্বের চেহারা পাল্টে দিয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সানজিদা তার ইতিহাস বইয়ের একটি অধ্যায় পড়ে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন তারিখে স্বাক্ষরিত একটি সন্ধি সম্পর্কে জানতে পারে। সানজিদা বুঝতে পারে যে, এ সন্ধি পরে পরাজিত শক্তিসমূহকে তেমন কোন ছাড় দেয়া হয়নি। বরং এ সন্ধির সকল শর্ত পরাজিত দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সে আরো জানতে পারে যে, এ সন্ধির মাধ্যমে ইউরোপের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে যায় ৷

ক.

প্যারিস শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের কয়টি দেশ মিলিত হয়েছিল?

খ.

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানের কারণ কী? ব্যাখ্যা করো ।

গ.

উদ্দপিকে সানজিদার পঠিত সন্ধির সাথে তোমার পঠিত কোন সন্ধির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়? উক্ত সন্ধির শর্তাবলি ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত শেষ বক্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'X' একটি দেশ। তাদের নিজস্ব জাতি ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব ছিল। তারা মনে করত সারা পৃথিবীতে তারা বিশুদ্ধ জাতি। অথচ অন্যান্য দেশ...

ক. ডেভিড লয়েড জর্জ কে ছিলেন? খ. ত্রিশান্তি চুক্তি বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্...

ক. কোন শাসনামলে ফ্রান্সে ভোটাধিকার সংকুচিত হয়? খ. সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের? চিহ্নিত স্থানে কী বসবে?...

ক. লীগ অব নেশনস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ? খ. ভাইমার (Weimer) সরকার বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে ‘?' চিহ্নিত স্থানে তোম...

ক. লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হয়েছিল? খ. উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থান...

অধিকাংশ মনীষী ভার্সাই সন্ধির মূল্যায়নে মন্তব্য করেছেন- i. এটি একটি আরোপিত ও একতরফা চুক্তি ii. এ চুক্তি পরবর্তী যুদ্ধের প...

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের অনেক দেশে রাজতন্ত্র কায়েম ছিল। ফরাসি বিপ্লব এ সকল রাজতন্ত্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেয়। একজন যুবর...

অষ্টম শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতে পাল বংশ বাংলা ও বিহারে, প্রতিহার রাজবংশ মালব ও রাজস্থানে এবং রাষ্ট্রকুট রাজার দাক্ষিণাত্যে...

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের একটি বিপ্লব ইউরোপের অনেক দেশের পণ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজার...

অস্ট্রিয়ার যুবরাজ কোথায় আততায়ীর হাতে নিহত হন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।