Facebook Pixel

অষ্টম শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতে পাল বংশ বাংলা ও বিহারে, প্রতিহার রাজবংশ মালব ও রাজস্থানে এবং রাষ্ট্রকুট রাজার দাক্ষিণাত্যে শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিহার রাজ্যে সাম্রাজ্য লিপ্সা ছিল পূর্বমুখী, ধর্মপালের লিপ্সা ছিল পশ্চিমমুখী এবং রাষ্ট্রকূটদের লিপ্সা ছিল মালব ও রাজপুতনায়। এভাবে উত্তর ভারতের আধিপত্য বিস্তারের জন্য তিন বংশের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। ক. আলসেস-লোরেন ফ্রান্সের হস্তচ্যুত হয় কোন যুদ্ধের ফলে? খ. জার্মানির রাশিয়া ভীতি 'ত্রিশক্তি চুক্তি' এর অন্যতম কারণ বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে প্রাচীন ভারতের অবস্থা পাঠ্যবইয়ের যে অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা কর। ঘ. "আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ সংঘর্ষের ক্ষতি ছিল অপরিমেয়"-পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আলসেস-লোরেন ফ্রান্সের হস্তচ্যুত হয় সেডানের যুদ্ধের ফলে। খ. রাশিয়া সম্পর্কে জার্মানির নিরাপত্তা বিষয়ে সন্দিহান সৃষ্টি হয়। ফলে স্বাক্ষরিত হয় ত্রিশক্তি চুক্তি। জার্মানির নিরাপত্তা বিষয়টি বার্লিন কংগ্রেসের পরবর্তীকালে বিসমার্কের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিসমার্কের প্রতি রাশিয়ার মনোভাব খুব খারাপ হয়েছিল। বিসমার্ক রাশিয়া থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৈত্রীচুক্তির জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সাথে চুক্তির আলোচনা করতে থাকে। অবশেষে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিশেষ মন্ত্রীদের সাথে আলোচনার পর জার্মানির সাথে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তা 'ত্রিশক্তিচুক্তি' নামে পরিচিত। মূলত এ চুক্তি রশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মান ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির মৈত্রীচুক্তি। গ. উদ্দীপকের প্রাচীন ভারতের অবস্থা পাঠ্যবইয়ের সাম্রাজ্যবাদের বিস্তারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে যে, পাল বংশ বাংলা ও বিহারে, প্রতিহার রাজবংশ মালব ও রাজস্থানে এবং রাষ্ট্রকুট রাজারা দাক্ষিণাত্যে শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিহার রাজ্যের সাম্রাজ্য লিপ্সা ছিল পূর্বমুখী, ধর্মপালের লিপ্সা ছিল পশ্চিমমুখী এবং রাষ্ট্রকুটদের লিপ্সা ছিল মালব ও রাজপুতনায়। এভাবে তারা উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য একে উপরের মধ্যে অর্থাৎ তিন বংশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অন্যদিকে পাঠ্যবইয়ের জার্মান, অস্ট্রিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে সাম্রাজ্যবাদের উত্থান ঘটে। এসময় জার্মান শক্তিশালী হয়ে উঠলে তার মধ্যে সাম্রাজ্য বিস্তারে লিপ্সা জেগে ওঠে। জার্মানি ইউরোপে তার বাজার বিস্তারের জন্য চেষ্টা করে। তারা আলসেস ও লরেন অংশ ফ্রান্সের কাছ থেকে দখল করলে ফ্রান্সের কয়লা সম্পদ কমে যায়। এই সময় ফ্রান্স ব্যাপক সাম্রাজ্য বিস্তার করে। তারা ইউরোপের বাইরে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তারা উপনিবেশ বিস্তার করেন। সারা রাশিয়া এই সময় দুর্বল হলেও তার তুর্কি সাম্রাজ্যের দিকে দৃষ্টি ছিল। কেননা তুর্কি সাম্রাজ্যের বেশকিছু অঞ্চল তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু অস্ট্রিয়া ছিল তার জন্য ভয়ের কারণ। কারণ অস্ট্রিয়া, গ্রীস, রুমানিয়া ও সার্বিয়াদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এ পরিস্থিতিতে জার্মানির প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া হলেও তারা একে অপরের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করে। এভাবে ইউরোপে সাম্রাজ্যবাদের উত্থান পুঁজিবাদী দেশগুলোকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ দাঁড় করিয়ে দেয়। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের সাম্রাজ্যবাদের বিস্তারের সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। ঘ. সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ সংঘর্ষের ক্ষতি ছিল অপরিমেয়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: নিজেদের শক্তিমত্তা, পুঁজিবাদীর বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এক তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যা শেষপর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। যার ফলে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আঁতাত গঠন করা হয় নিজেদের শক্তিমত্তা বৃদ্ধির জন্য। একদিকে জার্মান, অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে আঁতাত অন্যদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে আঁতাত গঠন করলে পরস্পর বিরোধী জোট যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নামে অভিহিত করা হয়। এই সংঘর্ষের ফলে ইউরোপ তথা বিশ্বের ব্যাপক ক্ষতি হয় যা ছিল, অপরিমেয়। এর ফলে বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। অস্ত্র, রসদ সংগ্রহের জন্য তারা অনেক সম্পদ ব্যয় করেন। এর ফলে ব্যাপক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ইউরোপের বিভিন্ন স্থান ধ্বংসে পরিণত হয়। চারদিকে ছাইভস্ম, পোড়ামাটি, ক্ষতিবিক্ষত শহর, কলকারখানা সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। ঘরে ঘরে স্বজন হারানোর বেদনায় ইউরোপের বাতাসে তখন আর্তনাদের চিৎকার আর কান্না ভেসে বেড়ায়। মানুষের মধ্যে যুদ্ধে বিভীষিকাময় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করে। তাই বলতে পারি সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল তার ক্ষতি ছিল অপরিমেয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

অষ্টম শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতে পাল বংশ বাংলা ও বিহারে, প্রতিহার রাজবংশ মালব ও রাজস্থানে এবং রাষ্ট্রকুট রাজার দাক্ষিণাত্যে শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিহার রাজ্যে সাম্রাজ্য লিপ্সা ছিল পূর্বমুখী, ধর্মপালের লিপ্সা ছিল পশ্চিমমুখী এবং রাষ্ট্রকূটদের লিপ্সা ছিল মালব ও রাজপুতনায়। এভাবে উত্তর ভারতের আধিপত্য বিস্তারের জন্য তিন বংশের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

ক.

আলসেস-লোরেন ফ্রান্সের হস্তচ্যুত হয় কোন যুদ্ধের ফলে?

খ.

জার্মানির রাশিয়া ভীতি 'ত্রিশক্তি চুক্তি' এর অন্যতম কারণ বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকে প্রাচীন ভারতের অবস্থা পাঠ্যবইয়ের যে অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

"আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ সংঘর্ষের ক্ষতি ছিল অপরিমেয়"-পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'X' একটি দেশ। তাদের নিজস্ব জাতি ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব ছিল। তারা মনে করত সারা পৃথিবীতে তারা বিশুদ্ধ জাতি। অথচ অন্যান্য দেশ...

ক. ডেভিড লয়েড জর্জ কে ছিলেন? খ. ত্রিশান্তি চুক্তি বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্...

ক. কোন শাসনামলে ফ্রান্সে ভোটাধিকার সংকুচিত হয়? খ. সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের? চিহ্নিত স্থানে কী বসবে?...

ক. লীগ অব নেশনস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ? খ. ভাইমার (Weimer) সরকার বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে ‘?' চিহ্নিত স্থানে তোম...

ক. লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হয়েছিল? খ. উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থান...

অধিকাংশ মনীষী ভার্সাই সন্ধির মূল্যায়নে মন্তব্য করেছেন- i. এটি একটি আরোপিত ও একতরফা চুক্তি ii. এ চুক্তি পরবর্তী যুদ্ধের প...

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের অনেক দেশে রাজতন্ত্র কায়েম ছিল। ফরাসি বিপ্লব এ সকল রাজতন্ত্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেয়। একজন যুবর...

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের একটি বিপ্লব ইউরোপের অনেক দেশের পণ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজার...

অস্ট্রিয়ার যুবরাজ কোথায় আততায়ীর হাতে নিহত হন?

অসহায় ও দুর্বলদের প্রতি অত্যাচার এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে হযরত মুহাম্মদ (স.) ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে 'হিলফুল ফুজুল' না...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।