Facebook Pixel

অসহায় ও দুর্বলদের প্রতি অত্যাচার এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে হযরত মুহাম্মদ (স.) ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে 'হিলফুল ফুজুল' নামে শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আরবে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। তাঁর এ সংগঠনের মাধ্যমে আরবে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠন প্রায় পঞ্চাশ বছর স্থায়ী হয়। ক. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন? খ. উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের 'হিলফুল ফুজুল'-এর সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত সংগঠন কতটুকু কার্যকর ছিল? তোমার মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস

উৎস: Board Exam Question BB 2025, Board Exam Question DB 2025, Board Exam Question RB 2025, Board Exam Question JB 2025, Board Exam Question CB 2025, Board Exam Question ChB 2025, Board Exam Question SB 2025, Board Exam Question Combined 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন উড্রো উইলসন। (খ) উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে এমন এক চরম ও অন্ধ জাতীয়তাবাদী চেতনাকে বোঝায়, যেখানে নিজ জাতিকে শ্রেষ্ঠ এবং অন্য জাতিকে হীন মনে করা হয়। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে জার্মানিতে এই মতবাদের উদ্ভব ঘটে। জার্মান দার্শনিক ও ঐতিহাসিকগণ প্রচার করতে থাকেন যে, জার্মানরাই বিশুদ্ধ আর্য এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি। এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের নেশায় তারা অন্যের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ধারণা ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও রাশিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়লে জাতিগত বিদ্বেষ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের জন্ম হয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (গ) উদ্দীপকের 'হিলফুল ফুজুল'-এর সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গঠিত 'লীগ অব নেশনস' (League of Nations) বা জাতিপুঞ্জের আদর্শগত সাদৃশ্য রয়েছে। হিলফুল ফুজুল ছিল হযরত মুহাম্মদ (স.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘ, যার মূল লক্ষ্য ছিল আরবে শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং অসহায় ও দুর্বলদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করা। অন্যদিকে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে বিশ্বনেতারা যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের 'চৌদ্দ দফা নীতি'-র ভিত্তিতে ১৯১৯ সালে প্যারিস শান্তি সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সংস্থা হিসেবে 'লীগ অব নেশনস' গঠিত হয়। উদ্দীপকের হিলফুল ফুজুল যেমন আরবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছিল, তেমনি লীগ অব নেশনস-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সকল জাতির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান করা। উভয় সংগঠনেরই মূল দর্শন ছিল মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা। (ঘ) তৎকালীন বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় লীগ অব নেশনস বা জাতিপুঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পরবর্তী এক দশককে লীগের 'সুবর্ণ যুগ' বলা হয়। এ সময় বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে বড় ধরনের কোনো স্বার্থের সংঘাত না থাকায় লীগ আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সফলতার পরিচয় দেয়। সংস্থাটি অ্যালান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংকট, জার্মানি-পোল্যান্ড সীমান্ত বিরোধ, গ্রিস-আলবেনিয়া ও গ্রিস-বুলগেরিয়া বিরোধ এবং ফিনল্যান্ড-লিথুনিয়া সংকট সফলভাবে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে এটি সত্য যে, পরবর্তী সময়ে হিটলারের নাৎসিবাদ, মুসোলিনির ফ্যাসিবাদ এবং জাপানের সমরবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে লীগ অব নেশনস তার কার্যকারিতা হারাতে থাকে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তোষণনীতির ফলে সংস্থাটি আগ্রাসী শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। তবুও, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ধারণা জনপ্রিয় করতে এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে লীগ অব নেশনস তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2025)Dhaka Board (2025)Rajshahi Board (2025)Jessore Board (2025)Cumilla Board (2025)Chattogram Board (2025)Sylhet Board (2025)Combined Board (2025)

অসহায় ও দুর্বলদের প্রতি অত্যাচার এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে হযরত মুহাম্মদ (স.) ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে 'হিলফুল ফুজুল' নামে শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আরবে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। তাঁর এ সংগঠনের মাধ্যমে আরবে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠন প্রায় পঞ্চাশ বছর স্থায়ী হয়। ক. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন? খ. উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের 'হিলফুল ফুজুল'-এর সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত সংগঠন কতটুকু কার্যকর ছিল? তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের একটি বিপ্লব ইউরোপের অনেক দেশের পণ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজার...

আমেরিকার একটি অঞ্চলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে। তখন শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে এক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। উক্ত আ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : 'X' রাষ্ট্র ও তার সহযোগী শক্তিসমূহ এক বড় যুদ্ধে পরাজিত হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে বিজয়...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : 'X' রাষ্ট্র ও তার সহযোগী শক্তিসমূহ এক বড় যুদ্ধে পরাজিত হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে বিজয়...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : চৌদ্দগ্রাম শহরে ভ্রমণে এসে কমল সস্ত্রীক নিহত হন। কুড়িগ্রাম শহর কর্তৃপক্ষ হত্যার বিচ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : চৌদ্দগ্রাম শহরে ভ্রমণে এসে কমল সস্ত্রীক নিহত হন। কুড়িগ্রাম শহর কর্তৃপক্ষ হত্যার বিচ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : বিংশ শতকের প্রথমদিকে দুটি বিবদমান পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : বিংশ শতকের প্রথমদিকে দুটি বিবদমান পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : মি. রবিন তার স্ত্রীকে নিয়ে 'ক' দেশে বেড়াতে গেলে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন। বিচার চে...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : মি. রবিন তার স্ত্রীকে নিয়ে 'ক' দেশে বেড়াতে গেলে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন। বিচার চে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।