(ক)
যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি কম ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে।
(খ)
লৌকিক ব্যাখ্যার কোনো সর্বজনীন রূপ না থাকায় এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।
লৌকিক ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় না। এ জাতীয় ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃতিক, কাল্পনিক ও মনগড়া কারণ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। তাই লৌকিক ব্যাখ্যার কোনো সর্বজনীন রূপ নেই, এটি ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও কল্পনার ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু একেক ব্যক্তি একেক রকম বিশ্বাস পোষণ করেন, তাই লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
(গ)
উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য-১ এ 'ব্যাখ্যা'র ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিচে ব্যাখ্যার গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
প্রকৃতিতে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে এবং কিছু ঘটনা এত জটিল অবস্থায় থাকে যে, সেগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কোনো কিছু বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ব্যাখ্যার মাধ্যমে ঐ ঘটনাগুলো আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় এবং আমরা এগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারি। এভাবে ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমরা কোনো বিষয়ের বা ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পারি। কেননা একটি ঘটনার কারণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। এসব বিষয়ের সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা এবং অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করার জন্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ অনেক সময় অতিপ্রাকৃতিক কারণ উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করে, কিন্তু প্রকৃত ব্যাখ্যায় এসব অলৌকিকতার কোনো স্থান নেই। তাই চূড়ান্তভাবে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করতে ব্যাখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম।
পাশাপাশি জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির জন্যও ব্যাখ্যার গুরুত্ব রয়েছে। সাধারণত মানুষ কোনো বিষয় সম্পর্কে খুব বেশি জানতে আগ্রহী হয় না, কিন্তু যখন কেউ কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করেন, তখন তাকে অনেক তথ্য ও উপাত্ত উপস্থাপন করতে হয়। এতে করে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের সামগ্রিক জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কুসংস্কার দূর করে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির জন্য ব্যাখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম।
(ঘ)
উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য-২ এ 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং বৈশিষ্ট্য-৩ এ 'লৌকিক ব্যাখ্যা'-এর দিকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যার বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংজ্ঞা ও ভিত্তি: কোনো ঘটনার অন্তর্নিহিত প্রকৃত কারণ আবিষ্কার করার জন্য প্রাকৃতিক নিয়মের সাহায্যে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। এটি কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কোনো প্রাকৃতিক ঘটনাকে অতিপ্রাকৃতিক বা অদৃশ্য শক্তির সাহায্যে ব্যাখ্যা করাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। এটি কাল্পনিক ও মনগড়া ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
২. যাচাইযোগ্যতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাস্তব প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, তাই এটি যেকোনো সময় যাচাই করা সম্ভব। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে একে পরীক্ষা বা যাচাই করা সম্ভব নয়।
৩. সর্বজনীনতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সর্বজনীন এবং নৈর্ব্যক্তিক। স্থান, কাল ও পাত্রভেদে এর রূপ একই থাকে (যেমন: মাধ্যাকর্ষণ শক্তি)। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিনিষ্ঠ। একেক মানুষের বিশ্বাস ও কল্পনা একেক রকম হওয়ায় এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়।
৪. প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় আবিষ্কার, অনুমান এবং সংযুক্তিকরণের মতো যৌক্তিক প্রক্রিয়া জড়িত থাকে, যার উদ্দেশ্য হলো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় অদৃশ্য ও অপ্রাকৃতিক শক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়, যার উদ্দেশ্য কেবল সাময়িকভাবে মানুষের কৌতূহল নিবৃত্ত করা।
পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও লৌকিক ব্যাখ্যার মধ্যে মৌলিক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। একটি বিজ্ঞান, যুক্তি ও প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল, আর অন্যটি সম্পূর্ণ অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তব জীবনে সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পন্থা।