Facebook Pixel

বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য দেশীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সাহায্য করে। তবে বেশিরভাগ ঋণ ও সাহায্যের সাথে কঠিন। শর্ত থাকে। দাতা দেশসমূহ বিভিন্ন অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রচুর বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য এসেছে যার বেশিরভাগই অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে। তাই আমাদের উচিত বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিত্যনতুন রপ্তানিমুখী দ্রব্যসমূহ উৎপাদন করা। ফলে এদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে। ক. বিশ্বায়ন কী? খ. অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করো। ঘ. আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকসমূহ আলোচনা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Board Exam Question RB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির মধ্যে আন্তঃসংযোগ ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং পণ্য, সেবা ও মূলধনের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হয়। (খ) অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য বলতে এমন সব পণ্যকে বোঝায় যা অতীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হতো না, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে চাহিদা থাকায় রপ্তানি করা শুরু হয়েছে। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটের তৈরি পণ্য বা চামড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাইরে যেসব নতুন পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে, সেগুলোই অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য। যেমন: তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্যসামগ্রী, হোসিয়ারি দ্রব্য, রাসায়নিক দ্রব্য, কৃষিজাত পণ্য ইত্যাদি। এই পণ্যগুলো রপ্তানি করে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। (গ) উদ্দীপকে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তার আলোকে এর ক্ষতিকর দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. কঠিন শর্তাবলি: বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের সাথে প্রায়ই দাতা দেশ বা সংস্থাগুলো কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়, যা অনেক সময় দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ২. রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: দাতা দেশসমূহ তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। ৩. অপচয় ও দুর্নীতি: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বাধীনতার পর প্রাপ্ত বৈদেশিক ঋণের একটি বড় অংশ অপচয় ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। ঋণ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করে অনুৎপাদনশীল বা অলাভজনক খাতে ব্যয় করলে তা দেশের অর্থনীতির ওপর ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দেয়। ৪. নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি: বৈদেশিক সাহায্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশের নিজস্ব শিল্পায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করে। পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য যদি সহজ শর্তে না হয় এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা না যায়, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (ঘ) আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানিমুখী অর্থনীতির দিকে নজর দেওয়া অপরিহার্য। উদ্দীপকের আলোকে স্বনির্ভরতা অর্জনের উপায়সমূহ নিচে আলোচনা করা হলো: ১. রপ্তানিমুখী দ্রব্য উৎপাদন: উদ্দীপকে সঠিকভাবেই বলা হয়েছে যে, নিত্যনতুন রপ্তানিমুখী দ্রব্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। কেবল ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ওপর নির্ভর না করে অপ্রচলিত পণ্য যেমন: ইলেকট্রনিক্স, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং আইটি সেবা রপ্তানির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে। বাণিজ্য ঘাটতি কমলে বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায় এবং দেশ স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যায়। ৩. প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষতা বৃদ্ধি: বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব। এর ফলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনে সহায়ক। ৪. অপচয় ও দুর্নীতি রোধ: বৈদেশিক ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করে ঋণ যদি অবকাঠামো উন্নয়ন বা শিল্পায়নের মতো উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হয়, তবে তা জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। উপসংহারে বলা যায়, বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে আমাদের দেশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2022)

বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য দেশীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সাহায্য করে। তবে বেশিরভাগ ঋণ ও সাহায্যের সাথে কঠিন। শর্ত থাকে। দাতা দেশসমূহ বিভিন্ন অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রচুর বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য এসেছে যার বেশিরভাগই অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে। তাই আমাদের উচিত বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিত্যনতুন রপ্তানিমুখী দ্রব্যসমূহ উৎপাদন করা। ফলে এদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।

ক. বিশ্বায়ন কী? খ. অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করো। ঘ. আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকসমূহ আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।