(ক)
তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, আধুনিকীকরণ ও বিতরণের জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবস্থাকে তথ্য প্রযুক্তি বলে।
(খ)
মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ব্যাংকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, তথ্য সংগ্রহ এবং আর্থিক লেনদেন করার পদ্ধতিকে মোবাইল ব্যাংকিং বলে।
বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হওয়ার কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দ্রুত লেনদেন: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খুব দ্রুত অর্থ জমা, উত্তোলন ও স্থানান্তর করা যায়।
২. সহজলভ্যতা: ব্যাংকের শাখায় সশরীরে উপস্থিত না হয়েই যেকোনো স্থান থেকে লেনদেন করা সম্ভব হয়।
৩. সময় সাশ্রয়: দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না, ফলে গ্রাহকের মূল্যবান সময় বাঁচে।
৪. ২৪ ঘণ্টা সেবা: দিন বা রাত যেকোনো সময় এই সেবার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা যায়।
এই সুবিধাগুলোর কারণেই বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত পোশাক কেনাকে অনলাইন ব্যবসা বা ই-কমার্স বলে।
যে ধরনের ব্যবসায় ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্যের অর্ডার প্রদান, পেমেন্ট এবং লেনদেনের কাজ সম্পন্ন করা হয়, তাকে অনলাইন ব্যবসা বলে। এই ব্যবসায় বিক্রেতার নিজস্ব ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (যেমন: ফেসবুক পেজ) থাকে, যেখানে ক্রেতা পণ্যের বিবরণ ও মূল্য দেখে পছন্দমতো পণ্য অর্ডার করতে পারেন।
উদ্দীপকের বেগম লায়লা একজন আধুনিক গৃহিণী, যিনি তার মোবাইলের মাধ্যমে পোশাক কেনাকাটা করেন। তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন পোশাকের ডিজাইন ও মূল্য জানতে পারেন এবং ঘরে বসেই অর্ডার প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন অনলাইনে সম্পন্ন করেন। এখানে কোনো শারীরিক দোকানের প্রয়োজন হয়নি এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। তাই বলা যায়, বেগম লায়লা অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে পোশাক কেনাকাটা করছেন।
(ঘ)
বেগম লায়লার সফল হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ের 'প্রযুক্তিগত সহায়তা' ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে আমি মনে করি।
প্রযুক্তিগত সহায়তা বলতে বোঝায় আধুনিক যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে ব্যবসায়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা। এর মধ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের বেগম লায়লা আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছেন। তিনি মোবাইল ফোন এবং ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পণ্যের খোঁজ নিচ্ছেন এবং অর্ডার করছেন। এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিল পরিশোধ করছেন। এই প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সেবার সহজলভ্যতা তাকে সময় ও অর্থ সাশ্রয় করতে সাহায্য করেছে, যা তার জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও সফল করেছে। তার এই সফলতার প্রভাব এতটাই বেশি যে, প্রতিবেশী ও অন্যরাও এখন একই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
সুতরাং, বেগম লায়লার এই আধুনিক জীবনযাপন এবং কেনাকাটার সফলতার পেছনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তাই মূল ভূমিকা পালন করেছে।