Facebook Pixel

বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু কৃষি শ্রমশক্তি নিয়োগের জন্য এখনো একক বৃহত্তম খাত। শস্য বহুমুখীকরণ, জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে কৃষির মোট উৎপাদনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তবে বাজার ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্বল অবকাঠামো, পর্যাপ্ত ঋণের অভাব ইত্যাদি কারণে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়নি। ক. কৃষিপণ্যের বিপণন কী? খ. কৃষি পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল— ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়সমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার প্রেক্ষিতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় বলে তুমি মনে কর?

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

উৎস: Board Exam Question DiB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কৃষিপণ্যের বিপণন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে প্রকৃত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। (খ) বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃষিকাজ প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর অধিকমাত্রায় নির্ভরশীল। ভূ-প্রকৃতি, মাটি, জলবায়ু, আবহাওয়া, আলো, বাতাস, পানি এবং জীববৈচিত্র্য ইত্যাদি নিয়েই প্রাকৃতিক পরিবেশ গঠিত হয়। বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে মাটির উর্বরতার ওপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত আধুনিক সেচ ব্যবস্থার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা চাষাবাদের জন্য বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে থাকে। এছাড়া পরাগায়নের কাজে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পশু-পাখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা বা ঘূর্ণিঝড় কৃষি উৎপাদনের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা মূলত প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। (গ) উদ্দীপকের আলোকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়সমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: পরিকল্পিত উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। উদ্দীপকে উল্লিখিত উপায়গুলো হলো: ১. শস্য বহুমুখীকরণ: অনেক কৃষক বছর পরম্পরায় একই শস্য চাষ করেন, যা জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করলে অর্থাৎ শস্য বহুমুখীকরণের ব্যবস্থা নিলে জমির উর্বরতা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ২. জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার: জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ-প্রতিরোধী এবং অধিক উৎপাদনক্ষম উদ্ভিদের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব, যা উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ৩. উন্নত বীজ ও সার ব্যবহার: উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করলে ফলন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সঠিক পরিমাণে রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে উৎপাদন বাড়ানো যায়। ৪. কীটনাশক প্রয়োগ: পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং শস্যরোগের বিরুদ্ধে সময়মতো কার্যকর কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে ফসল রক্ষা করা যায়, যা পরোক্ষভাবে মোট উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বাজার ব্যবস্থার ত্রুটি, দুর্বল অবকাঠামো এবং ঋণের অভাব কৃষকদের আর্থিক উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায়। এই সমস্যাগুলোর প্রেক্ষিতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি: ১. বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন: বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য বেশি। কৃষকরা পণ্যের উপযুক্ত দাম পায় না। বাজারগুলোকে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে গ্রামভিত্তিক নির্বাচিত বাজার কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে চাঁদা, টোল এবং অহেতুক আড়তদারি ফি দূর করা সম্ভব হবে। ২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং মালামাল পরিবহনের জন্য উন্নত যানবাহনের সুব্যবস্থা করতে হবে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে, কম খরচে এবং দ্রুত বাজারে পৌঁছে দিতে পারবে, ফলে পণ্যের গুণগত মান বজায় থাকবে এবং লাভ বৃদ্ধি পাবে। ৩. সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা: কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে ফসল বিক্রয়ের আগে যেন তারা মহাজনদের উচ্চ সুদের ঋণের জালে আটকা না পড়ে, সেজন্য স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণের প্রসার ঘটাতে হবে। ৪. সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন: পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করতে হবে। এতে কৃষকরা ফসল কাটার পরপরই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবে না, বরং দাম বাড়লে বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবে। উপযুক্ত এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে কৃষিপণ্য বিপণনের সমস্যা দূর হবে এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পেয়ে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2019)

বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু কৃষি শ্রমশক্তি নিয়োগের জন্য এখনো একক বৃহত্তম খাত। শস্য বহুমুখীকরণ, জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে কৃষির মোট উৎপাদনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তবে বাজার ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্বল অবকাঠামো, পর্যাপ্ত ঋণের অভাব ইত্যাদি কারণে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়নি।

ক. কৃষিপণ্যের বিপণন কী? খ. কৃষি পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল— ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়সমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার প্রেক্ষিতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় বলে তুমি মনে কর?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' ও 'B' ব্যক্তির প্রত্যেকের একটি করে খামার রয়েছে। 'A' ব্যক্তির খামারে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন না পড়লেও 'B' ব্যক্...

'B' একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের প্রায় ৭৫% জনসাধারণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি ব্যবস্থা এখনও উন্নত...

beginarray|l|c| hline textbfকৃষি খামার 'A' & textbfকৃষি খামার 'B' hline rightarrow text সীমিত জমির ব্যবহার rightarrow t...

Biotechnology ধারণাটি সর্বপ্রথম প্রদান করেন কে?

Biotechnology শব্দটি কত সালে প্রথম ব্যবহৃত হয়?

Biotechnology শব্দের অর্থ কী?

BRRI-এর পূর্ণরূপ কী?

GDP-তে সার্বিক খাতসমূহের অবদান- beginarray|l|c|c| hline textbfখাত & textbfসাল ১৯৮০-৮১ & textbfসাল ২০২২-২৩ hline textকৃষ...

GDP-তে সার্বিক খাতসমূহের অবদান— beginarray|l|c|c| hline textbfখাত & textbf১৯৮০-১৯৮১ & textbf২০২৪-২০২৫ hline textকৃষি & ...

HYV Technology বলতে কী বোঝায়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।