Facebook Pixel

'B' একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের প্রায় ৭৫% জনসাধারণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি ব্যবস্থা এখনও উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল নয়। এর অন্যতম কারণ হলো এখানকার কৃষি পরিবেশ দূষণের শিকার। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তন, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কৃষি পরিবেশকে দূষিত করছে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় দেশটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন নীতি, চুক্তি ও প্রটোকলে স্বাক্ষর করাসহ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিতে পরিবেশ দূষণের সাথে অভিযোজনের জন্য। উল্লিখিত পদক্ষেপের সাথে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি পরিবেশকে সংরক্ষণ করতে হবে, তবেই সফলতা আসবে। ক. পরিবেশ দূষণ কী? খ. কৃষকরা ঋণ গ্রহণ করে কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপক অবলম্বনে কৃষিতে, পরিবেশ দূষণের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। ঘ. 'জনগণের সচেতনতা কৃষি পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে তুমি কি একমত? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

উৎস: Board Exam Question JB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পরিবেশের উপাদানগুলোর (যেমন: মাটি, পানি, বায়ু) মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানের মিশ্রণ বা পরিবর্তনের ফলে যখন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং মানুষের জীবন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে। (খ) কৃষিকাজ একটি পুঁজি নির্ভর প্রক্রিয়া, কিন্তু অধিকাংশ কৃষকের নিজস্ব পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব থাকে। তাই কৃষিকাজের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর জন্য তারা ঋণ গ্রহণ করে। কৃষকরা সাধারণত নিম্নলিখিত কারণে ঋণ গ্রহণ করে থাকে: ১. কৃষি উপকরণ ক্রয়: উন্নত মানের বীজ, সার এবং কীটনাশক কেনার জন্য ঋণের প্রয়োজন হয়। ২. কৃষি কাজ পরিচালনা: জমি প্রস্তুত করা, সেচ প্রদান এবং শ্রমিক মজুরি পরিশোধের জন্য ঋণ নেওয়া হয়। ৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা: বন্যা, খরা বা ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ফসল নষ্ট হলে পুনরায় চাষাবাদের জন্য ঋণের প্রয়োজন হয়। ৪. গবাদিপশু পালন: গবাদিপশুর মড়ক হলে নতুন পশু ক্রয় বা পশুখাদ্য কেনার জন্য ঋণ নেওয়া হয়। ৫. অন্যান্য কারণ: পৈতৃক ঋণ পরিশোধ, উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, গুদামঘর নির্মাণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য কৃষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে। (গ) উদ্দীপক অবলম্বনে কৃষিতে পরিবেশ দূষণের প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: পরিবেশ হলো মানুষের চারপাশের সেই অবস্থা যার মধ্যে মানুষ বসবাস করে এবং জীবনধারণ করে। পরিবেশের উপাদানগুলোর নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো পরিবেশ দূষণ। উদ্দীপকের 'B' দেশে বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং রাসায়নিক সারের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে কৃষি পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর প্রভাবগুলো নিম্নরূপ: ১. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ২. মাটি ও পানির দূষণ: অধিক পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে মাটি ও পানির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নদী ও সাগরের পানি দূষিত করছে। ৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘন ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ৪. আঞ্চলিক প্রভাব: দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলে খরার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। Таким образом, পরিবেশ দূষণের ফলে 'B' দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। (ঘ) হ্যাঁ, আমি একমত যে জনগণের সচেতনতা কৃষি পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ কেবল সরকারি নীতি বা আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়, এর জন্য তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অপরিহার্য। বিশ্লেষণ: অভিযোজন বলতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলাকে বোঝায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় অভিযোজন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। যেমন: লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতের ফসল চাষ করা বা খরাপ্রবণ এলাকায় সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। তবে এই অভিযোজন প্রক্রিয়া সফল করতে হলে কৃষকদের সচেতন হতে হবে। উদ্দীপকের 'B' দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন: ১. আন্তর্জাতিক চুক্তি: বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে ১৯৯৭ সালে কিয়েটো প্রটোকল এবং Conference of the Parties 16 (COP-16)-এর সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা। ২. জাতীয় নীতি: ১৯৯২ সালে প্রণীত জাতীয় পরিবেশনীতি, মৎস্য সংরক্ষণ আইন এবং ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। তবে এই আইন ও নীতিগুলো তখনই কার্যকর হবে যখন জনগণ সচেতন হবে। মানুষ যদি রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়, তবে তারা জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি করবে, যা মাটির উর্বরতা রক্ষা করবে। একইভাবে বনায়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস পাবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমবে। পরিশেষে বলা যায়, সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং অভিযোজন পদ্ধতির সাথে জনগণের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে কৃষি পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2021)

'B' একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের প্রায় ৭৫% জনসাধারণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি ব্যবস্থা এখনও উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল নয়। এর অন্যতম কারণ হলো এখানকার কৃষি পরিবেশ দূষণের শিকার। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তন, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কৃষি পরিবেশকে দূষিত করছে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় দেশটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন নীতি, চুক্তি ও প্রটোকলে স্বাক্ষর করাসহ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিতে পরিবেশ দূষণের সাথে অভিযোজনের জন্য। উল্লিখিত পদক্ষেপের সাথে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি পরিবেশকে সংরক্ষণ করতে হবে, তবেই সফলতা আসবে।

ক. পরিবেশ দূষণ কী? খ. কৃষকরা ঋণ গ্রহণ করে কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপক অবলম্বনে কৃষিতে, পরিবেশ দূষণের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। ঘ. 'জনগণের সচেতনতা কৃষি পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে তুমি কি একমত? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।