Facebook Pixel

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের চেয়ে পূর্বাঞ্চলের জনগণ অনুন্নত ও অবহেলিত ছিল। পশ্চিমাঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর বৈরী মনোভাব আর পূর্বাঞ্চলের জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র জন্মলাভ করে। এ বিভক্তির ফলে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জনগণের একটি অংশ এ বিভক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। অবশেষে প্রবল আন্দোলনের মুখে দুই জার্মানিকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়। ক. বেঙ্গল প্যাক্ট কী? খ. খেলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই জার্মানির বিভক্তি ব্রিটিশ বাংলার কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. জার্মানির পুনরায় একত্রীকরণ ও উক্ত ঘটনার পরিণতি কি একই ছিল? ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বেঙ্গল প্যাক্ট হলো ১৯২৩ সালে সি.আর. দাস ও মুসলিম নেতৃত্বদের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি, যার মূল লক্ষ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব নিরসন করা এবং রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা। (খ) খিলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অটোমান খেলাফতের মর্যাদা রক্ষা করা এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে তোলা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও খেলাফতের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে ভারতীয় মুসলমানরা খেলাফতকে সুসংহত রাখার জন্য এই আন্দোলন গড়ে তোলে। ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ বিকাশে এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ক্ষেত্রে এই আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম ছিল। (গ) উদ্দীপকের দুই জার্মানির বিভক্তি ব্রিটিশ বাংলার 'বঙ্গভঙ্গ' (১৯০৫) ঘটনাটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। লর্ড কার্জনের শাসনকালে বঙ্গভঙ্গ ছিল অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তৎকালীন বঙ্গ প্রদেশটি বিহার, উড়িষ্যা ও আসাম নিয়ে গঠিত ছিল এবং এর আয়তন ছিল অত্যন্ত বিশাল। এত বড় ভূভাগ এককভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। তাই ১৯০৫ সালে শাসনব্যবস্থার সুবিধা এবং উন্নয়নের উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন বঙ্গদেশকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। এর ফলে পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে একটি প্রদেশ গঠিত হয়, যার রাজধানী হয় কলকাতা। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে 'পূর্ব বাংলা ও আসাম' প্রদেশ গঠিত হয়, যার রাজধানী করা হয় ঢাকা। এই বিভক্তির ফলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মুসলমান নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও হিন্দুরা মনে করে এতে তাদের স্বার্থহানি ঘটেছে, ফলে তারা তীব্র আন্দোলন শুরু করে। উদ্দীপকের জার্মানির বিভক্তির মতো এখানেও জনগণের একটি অংশ বিভক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ার সাথে উদ্দীপকের ঘটনার গভীর মিল রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকের দুই জার্মানির পুনরায় একত্রীকরণের পরিণতির সাথে বঙ্গভঙ্গ রদের পরিণতি এক ছিল না। জার্মানির ক্ষেত্রে দেখা যায়, দীর্ঘ বিভক্তির পর দুই জার্মানি একত্র হওয়ার পর তা আর বিচ্ছিন্ন হয়নি এবং একটি শক্তিশালী একক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদের পরিণতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা চরম হতাশ হয়ে পড়েন এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। তারা বুঝতে পারেন যে, ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করবে না এবং স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল হতে হলে তাদের আরও বেশি সংগঠিত হতে হবে। বঙ্গভঙ্গ রদের পর ৩০ ডিসেম্বর নওয়াব সলিমুল্লাহর আহ্বানে উভয় বাংলার নেতৃবৃন্দ এক সভায় মিলিত হয়ে ভাইসরয়ের কাছে মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। এছাড়া নিজেদের স্বার্থ ও স্বাতন্ত্র্যবোধকে আরও পরিকল্পিতভাবে উপস্থাপনের জন্য 'মুসলিম লীগ' মুসলমানদের প্রধান রাজনৈতিক মুখাপে পরিণত হয়। ১৯১২ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের নেতৃত্ব দেয়। পরিশেষে বলা যায়, জার্মানির একত্রীকরণ ছিল একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান, কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদ ছিল মুসলমানদের জন্য একটি রাজনৈতিক শিক্ষা। এই হতাশা ও সচেতনতাই পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করে ভারত থেকে আলাদা হওয়ার পথ প্রশস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। সুতরাং, দুই ঘটনার পরিণতি এক ছিল না।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের চেয়ে পূর্বাঞ্চলের জনগণ অনুন্নত ও অবহেলিত ছিল। পশ্চিমাঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর বৈরী মনোভাব আর পূর্বাঞ্চলের জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র জন্মলাভ করে। এ বিভক্তির ফলে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জনগণের একটি অংশ এ বিভক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। অবশেষে প্রবল আন্দোলনের মুখে দুই জার্মানিকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়।

ক. বেঙ্গল প্যাক্ট কী?

খ. খেলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই জার্মানির বিভক্তি ব্রিটিশ বাংলার কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. জার্মানির পুনরায় একত্রীকরণ ও উক্ত ঘটনার পরিণতি কি একই ছিল? ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবি কোন শব্দ হতে 'ফরায়েজি' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে?

ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে তিতুমীরের পরাজয়ের কারণ ছিল- i. তিতুমীরের সমর্থকদের অসহযোগিতা ii. ইংরেজদের উন্নত যুদ্ধ কৌশল iii. তিত...

ইনসান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ। ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শ...

ইমরান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শা...

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত খ্রিষ্টাব্দে দিওয়ানি লাভ করে?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সালে গঠিত হয়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়েছিল কেন?

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবত চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণক...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।