Facebook Pixel

বাংলাদেশ রপ্তানিযোগ্য পণ্য যেমন, পাট, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, হস্তজাত শিল্প ইত্যাদি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, এসব পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন সুতা, সার, কীটনাশক, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের বীজ ইত্যাদি আমদানি করছে। ক. অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য কী? খ. অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যগুলো কী কী? গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বানুসারে উপস্থাপন কর। ঘ. বিশ্বায়নের প্রভাবে কোন কোন শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প সুপারিশ করা যায়? তোমার মতামত দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Test Exam Question DGC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যেসব পণ্যসামগ্রী সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা তৈরি করেছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়। (খ) অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলতে বোঝায় এমন সব পণ্য, যা আগে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি হতো না কিংবা খুব সামান্য পরিমাণে হতো, কিন্তু বর্তমানে রপ্তানি তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। এ ধরনের পণ্যের উদাহরণ হলো: তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার ও ওভেন), হিমায়িত খাদ্য (চিংড়ি ও মাছ), ওষুধ, সিরামিক পণ্য, শাকসবজি, ফুল, কুটির ও হস্তশিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি। (গ) উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বানুসারে পর্যায়ক্রমিক উপস্থাপন নিচে দেওয়া হলো: ১. তৈরি পোশাক: এটি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এই খাত থেকে অর্জিত হয়। ২. চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য: তৈরি পোশাকের পরেই এটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। জুতা, ব্যাগ ও চামড়ার তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। ৩. পাট ও পাটজাত দ্রব্য: একসময় পাট বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য থাকলেও বর্তমানে এর অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। তবে কাঁচা পাট, চট ও বস্তা এখনো উল্লেখযোগ্য হারে রপ্তানি হয়। ৪. হিমায়িত খাদ্য: বিশেষ করে চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৫. রাসায়নিক দ্রব্য ও হস্তশিল্প: রাসায়নিক সার, ওষুধ এবং হস্তশিল্পজাত পণ্যগুলো ক্রমান্বয়ে রপ্তানি আয়ে অবদান রাখছে। ৬. চা: চা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য হলেও বর্তমানে এর রপ্তানি কিছুটা সীমিত। উপসংহারে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত পণ্যগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং এরপর যথাক্রমে চামড়া ও পাটজাত দ্রব্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। (ঘ) বিশ্বায়নের এই যুগে নিজের দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে 'আমদানি বিকল্প শিল্প' গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। উদ্দীপকে উল্লিখিত আমদানিকৃত পণ্যের তালিকা বিশ্লেষণ করে আমি নিম্নলিখিত শিল্পগুলোকে আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার সুপারিশ করছি: ১. বস্ত্র ও সুতা কল: বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক হলেও এর মূল কাঁচামাল সুতা ও কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশে শক্তিশালী সুতা ও বস্ত্র কল স্থাপন করলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং পোশাক খাতের মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাবে। ২. সার ও কীটনাশক শিল্প: বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় এখানে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এগুলো আমদানি না করে দেশেই আধুনিক সার কারখানা ও বালাইনাশক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুললে কৃষির উৎপাদন খরচ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। ৩. জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম শোধনাগার: অপরিশোধিত তেল বা পেট্রোলিয়াম আমদানি করে তা দেশেই পরিশোধন করার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য শক্তিশালী রিফাইনারি বা শোধনাগার শিল্প গড়ে তুললে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে। ৪. বীজ উৎপাদন ও কৃষি প্রযুক্তি: খাদ্যশস্যের বীজের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই টিস্যু কালচার ও গবেষণার মাধ্যমে দেশেই উন্নত মানের বীজ উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলা উচিত, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য শুধু রপ্তানি বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। উপরে উল্লিখিত শিল্পগুলোকে আমদানি বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শক্তিশালী হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Dinajpur Govt. College (2026)

বাংলাদেশ রপ্তানিযোগ্য পণ্য যেমন, পাট, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, হস্তজাত শিল্প ইত্যাদি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, এসব পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন সুতা, সার, কীটনাশক, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের বীজ ইত্যাদি আমদানি করছে। ক. অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য কী? খ. অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যগুলো কী কী? গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বানুসারে উপস্থাপন কর। ঘ. বিশ্বায়নের প্রভাবে কোন কোন শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প সুপারিশ করা যায়? তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।