Facebook Pixel

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। এদেশের জনগণ দেশের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জনগণ ক্রমান্বয়ে বেশি হারে উৎপাদন করছে। অনেকক্ষেত্রেই প্রয়োজনের বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এই উদ্বৃত্ত উৎপাদন রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। সে আয়ের সাহায্যে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে। এভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিকতর সম্প্রসারণ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। অবশ্য সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- EPZ স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারীদের সহায়তা প্রদান ইত্যাদি। ক. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কী? খ. “উদ্বৃত্ত দ্রব্য রপ্তানি, ঘাটতি দ্রব্য আমদানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লক্ষ্য” – ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। ঘ. বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Board Exam Question BB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দুই বা ততোধিক সার্বভৌম দেশের মধ্যে পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলা হয়। (খ) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো তুলনামূলক সুবিধা অর্জন। প্রতিটি দেশ তার প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য উৎপাদনে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে। যে দেশ যে পণ্যটি তুলনামূলক কম খরচে ও বেশি পরিমাণে উৎপাদন করতে পারে, সেই পণ্যটির উদ্বৃত্ত অংশ বিদেশে রপ্তানি করে। বিনিময়ে, যে পণ্যগুলো উৎপাদন করতে দেশটি অক্ষম বা ব্যয়বহুল, সেগুলো অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। এভাবে উদ্বৃত্ত দ্রব্য রপ্তানি ও ঘাটতি দ্রব্য আমদানির মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের চাহিদা পূরণ করে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান লক্ষ্য। (গ) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদ ও শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্বৃত্ত উৎপাদন করছে। এই উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। ২. মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি: রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার সাহায্যে দেশের শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে। ৩. কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারের ফলে দেশে নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে, যা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে। ৪. দক্ষতা বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে হয়, ফলে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। (ঘ) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উদ্দীপকের আলোকে এগুলোর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো: ১. রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ) স্থাপন: সরকার বিভিন্ন স্থানে EPZ স্থাপন করেছে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপনের সুযোগ পায় এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি রপ্তানি করা যায়। ২. অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা: দেশে শিল্পায়নের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (Economic Zone) গড়ে তুলছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। ৩. বিনিয়োগকারীদের সহায়তা: বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগকারীদের কর অবকাশ, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পায়নকে উৎসাহিত করছে। ৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: রপ্তানি পণ্যের সহজ পরিবহনের জন্য বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ৫. রপ্তানি প্রণোদনা: রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করতে সরকার নগদ সহায়তা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি এবং বিভিন্ন বাণিজ্য মেলার আয়োজন করছে। পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে এবং দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2021)

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। এদেশের জনগণ দেশের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জনগণ ক্রমান্বয়ে বেশি হারে উৎপাদন করছে। অনেকক্ষেত্রেই প্রয়োজনের বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এই উদ্বৃত্ত উৎপাদন রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। সে আয়ের সাহায্যে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে। এভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিকতর সম্প্রসারণ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। অবশ্য সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- EPZ স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারীদের সহায়তা প্রদান ইত্যাদি।

ক. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কী? খ. “উদ্বৃত্ত দ্রব্য রপ্তানি, ঘাটতি দ্রব্য আমদানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লক্ষ্য” – ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। ঘ. বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।