Facebook Pixel

বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমস্যা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে যেমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে তেমনি বিদেশি বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও সংস্থার কাছ থেকে সাহায্যও গ্রহণ করছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, স্বনির্ভরতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রভৃতি উদ্দেশ্যে এসব সাহায্য গ্রহণ করা হচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশ অন্যের সাহায্যে ও নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে। ক. বৈদেশিক সাহায্য কাকে বলে? খ. বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য লেখো। গ. বৈদেশিক বাণিজ্য, না বৈদেশিক সাহায্য কোনটিকে তুমি অধিক গুরুত্ব দেবে? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যাখ্যা করো। ঘ. বৈদেশিক সাহায্য সবসময় পরনির্ভরতা বাড়ায় না- মতামত দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Board Exam Question DiB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ঋণ ও অনুদানকে বৈদেশিক সাহায্য বলা হয়। (খ) বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: পার্থক্য বৈদেশিক বাণিজ্য বৈদেশিক সাহায্য প্রকৃতি এটি দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার বিনিময়। এটি দাতা দেশ বা সংস্থা থেকে সাহায্য গ্রহণকারী দেশের প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পদ। শর্ত এটি সাধারণত পারস্পরিক সমঝোতা ও বাণিজ্যিক শর্তের ভিত্তিতে হয়। এটি অনেক সময় দাতা দেশের বিভিন্ন শর্ত বা রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল। নির্ভরশীলতা এটি আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সহায়তা করে। এটি দীর্ঘমেয়াদে পরনির্ভরশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। (গ) উদ্দীপকের আলোকে আমি বৈদেশিক সাহায্য অপেক্ষা বৈদেশিক বাণিজ্যকে অধিক গুরুত্ব দেব। বৈদেশিক বাণিজ্য একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের প্রধান হাতিয়ার, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে। বৈদেশিক সাহায্য সাময়িকভাবে বাণিজ্য ব্যবধান বা সঞ্চয় ব্যবধান পূরণ করতে পারলেও, এটি প্রায়শই দাতা দেশের বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে। উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়ন প্রকল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সাহায্য গ্রহণ করা হলেও, এই সাহায্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে। এছাড়া, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাহায্য না পাওয়া বা সময়মতো না পাওয়ার ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। অন্যদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি ত্বরান্বিত করে। তাই একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া যুক্তিযুক্ত। (ঘ) বৈদেশিক সাহায্য সবসময় পরনির্ভরশীলতা বাড়ায় না, বরং সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এটি স্বনির্ভরতা অর্জনের সহায়ক হতে পারে। উদ্দীপকের আলোকে এর সপক্ষে যুক্তি নিচে দেওয়া হলো: ১. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বড় বড় অবকাঠামো, যেমন সেতু, সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। বৈদেশিক সাহায্য এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। ২. প্রযুক্তিগত সহায়তা: প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও আধুনিক শিল্পায়নের জন্য উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। বৈদেশিক সাহায্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত কারিগরি সহায়তা ও যন্ত্রপাতি দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, যা পরোক্ষভাবে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করে। ৩. কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন: বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক সাহায্য ব্যবহারের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গতি আসে। পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক সাহায্য যদি অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না করে অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হয়, তবে তা পরনির্ভরশীলতা না বাড়িয়ে বরং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে সাহায্য করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2019)

বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমস্যা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে যেমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে তেমনি বিদেশি বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও সংস্থার কাছ থেকে সাহায্যও গ্রহণ করছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, স্বনির্ভরতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রভৃতি উদ্দেশ্যে এসব সাহায্য গ্রহণ করা হচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশ অন্যের সাহায্যে ও নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে।

ক. বৈদেশিক সাহায্য কাকে বলে? খ. বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য লেখো। গ. বৈদেশিক বাণিজ্য, না বৈদেশিক সাহায্য কোনটিকে তুমি অধিক গুরুত্ব দেবে? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যাখ্যা করো। ঘ. বৈদেশিক সাহায্য সবসময় পরনির্ভরতা বাড়ায় না- মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।