Facebook Pixel

বাংলাদেশ জনসংখ্যার ভারে আক্রান্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত একটি দেশ। প্রতিবছর ঘাটতি মেটানোর জন্য প্রচুর খাদ্য আমদানি করতে হয়। উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নানা উৎস থেকে বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করেছে। বৈদেশিক সাহায্য সাধারণত কঠিন শর্তযুক্ত, যা গ্রহীতা দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখে। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, “আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য সাহায্য নয়, বাণিজ্যই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।” ক. ওয়েজ আর্নার্স স্কিম কী? খ. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে একচেটিয়া প্রভাব হ্রাস পায়- ব্যাখ্যা কর। গ. উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বর্ণিত দেশটির বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের কারণসমূহ লেখ। ঘ. অর্থনীতিবিদগণের মতামতের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Board Exam Question DiB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ওয়েজ আর্নার্স স্কিম হলো প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সকে বৈধ পথে দেশে আনার জন্য সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বিশেষ স্কিম, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজেদের আয়ের একটি অংশ দেশে প্রেরণ করতে পারে এবং এর বিপরীতে বিশেষ সুবিধা পায়। (খ) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে দেশীয় বাজারে বিদেশি পণ্য ও উৎপাদকদের প্রবেশ ঘটে। এর ফলে দেশীয় একচেটিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। এই প্রতিযোগিতা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে, উৎপাদন খরচ কমাতে এবং নতুনত্ব আনতে বাধ্য করে। ফলে বাজারে একচেটিয়া প্রভাব হ্রাস পায় এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে উন্নত মানের পণ্য পাওয়ার সুযোগ পায়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. মূলধনের অভাব: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও মূলধনের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে, যা বৃহৎ অবকাঠামো বা শিল্পায়নের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ২. বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি: খাদ্য ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটি যেহেতু খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মেটাতে সাহায্য গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ৩. কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা: উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের অভাব থাকে, যা বৈদেশিক সাহায্যের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হয়। ৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা: দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত হওয়ায় নিয়মিত অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৈদেশিক সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (ঘ) উদ্দীপকে অর্থনীতিবিদগণের মন্তব্য “আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য সাহায্য নয়, বাণিজ্যই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত” বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগী। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো: ১. পরনির্ভরশীলতা হ্রাস: সাহায্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি দেশের নিজস্ব উদ্যোগ ও আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয়। বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক লাভ ও সমতা, যা পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করে। ২. টেকসই উন্নয়ন: বাণিজ্য হলো দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি। বাণিজ্যের সম্প্রসারণের ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং দেশের নিজস্ব সম্পদ ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ৩. জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা: বৈদেশিক সাহায্যের সাথে অনেক সময় বিভিন্ন কঠিন শর্তাবলি জুড়ে দেওয়া হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে। বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের শর্তাবলির প্রভাব তুলনামূলক কম থাকে, যা জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সহায়ক। ৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাণিজ্য কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারের সাথে যুক্ত করে স্থিতিশীলতা প্রদান করে। পরিশেষে বলা যায়, সাহায্য সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পথে বাধা হতে পারে। তাই একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে টিকে থাকতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সাহায্যের পরিবর্তে বাণিজ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2025)

বাংলাদেশ জনসংখ্যার ভারে আক্রান্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত একটি দেশ। প্রতিবছর ঘাটতি মেটানোর জন্য প্রচুর খাদ্য আমদানি করতে হয়। উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নানা উৎস থেকে বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করেছে। বৈদেশিক সাহায্য সাধারণত কঠিন শর্তযুক্ত, যা গ্রহীতা দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখে। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, “আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য সাহায্য নয়, বাণিজ্যই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।” ক. ওয়েজ আর্নার্স স্কিম কী? খ. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে একচেটিয়া প্রভাব হ্রাস পায়- ব্যাখ্যা কর। গ. উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বর্ণিত দেশটির বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের কারণসমূহ লেখ। ঘ. অর্থনীতিবিদগণের মতামতের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।