Facebook Pixel

বাংলাদেশে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি খাত প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে text NGO-গুলো, অত্যন্ত সীমিত ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করলেও অধিকাংশ text NGO-র মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মুনাফা করা। text NGO-গুলোর ঋণের সুদের হারও অনেক বেশি। সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক নিয়মকানুন মেনে চললে, মতবিরোধ পরিহার করলে এবং ব্যক্তিস্বার্থের বদলে সমষ্টিগত স্বার্থ বিবেচনা করলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার করতে পারত। তবে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে পারলে সরকারি খাতই আমাদের দেশকে অনেক এগিয়ে নিতে পারত। ক. সংগঠন কী? খ. "উদ্যোক্তাই সংগঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি"- ব্যাখ্যা দাও। গ. "বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ”- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ঘ. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে কীভাবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ এগিয়ে যেতে পারে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ সংগঠন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সংগঠন হলো উৎপাদনের উপকরণসমূহ যেমন ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে একত্রিত ও সমন্বয় করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা করার প্রক্রিয়া। (খ) একজন উদ্যোক্তাই সংগঠনের সকল দায়-দায়িত্ব বহন করেন। তিনি ঝুঁকি গ্রহণ করে যাবতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং উৎপাদনের উপকরণসমূহ যেমন ভূমি, শ্রম ও মূলধন একত্রিত করে সংগঠন পরিচালনা করেন। উদ্যোক্তার নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো সংগঠন সফলভাবে পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই বলা হয়, উদ্যোক্তাই সংগঠনের চালিকাশক্তি। (গ) উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত সম্পদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি খাতের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো: ১. খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান: দেশের খাদ্য ঘাটতি লাঘবে সরকার খাদ্য আমদানি ও মজুত নিশ্চিত করে। এছাড়া বস্ত্র খাতে ঋণ সহায়তা এবং দরিদ্র ও মঙ্গাপীড়িত এলাকায় খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে সরকার মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ২. শিক্ষা: দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষার প্রসার অপরিহার্য। সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ব্যাপক অর্থ ব্যয় ও বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। ৩. স্বাস্থ্য: স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে সরকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এর ফলে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটাচ্ছে। ৪. বিদ্যুৎ: শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করছে। ৫. যোগাযোগ ও অবকাঠামো: রাস্তাঘাট, সেতু ও বন্দরের উন্নয়নের মাধ্যমে সরকার দেশীয় শিল্পের প্রসার ঘটিয়েছে। এর ফলে কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে। সুতরাং, মৌলিক চাহিদা পূরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে সরকার, NGO এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানসমূহের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। NGO (Non Government Organization) হলো বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। উদ্দীপক অনুযায়ী, NGO-গুলো পরিবেশ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে। যদিও বর্তমানে অনেক NGO ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনে মনোযোগী, তবে তারা যদি অরাজনৈতিকভাবে এবং প্রকৃত সেবামূলক উদ্দেশ্যে কাজ করে, তবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অন্যদিকে, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো সমষ্টিগত স্বার্থ বিবেচনা করে পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সঠিক নিয়মকানুন মেনে চলে, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ পরিহার করে এবং ব্যক্তিস্বার্থের বদলে সমষ্টিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তবে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি সহজ হবে। সবশেষে, সরকারি খাত যদি দুর্নীতি কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে সরকারি অবকাঠামো, NGO-র তৃণমূল পর্যায়ের নেটওয়ার্ক এবং সমবায়ের পারস্পরিক সহযোগিতার সমন্বয় একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করবে। যখন এই তিন খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা চলবে, তখন সম্পদের সঠিক বণ্টন হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হবে। অতএব, সরকারি, বেসরকারি (NGO) ও সমবায় প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগই পারে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি খাত প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে $ \text {NGO}$-গুলো, অত্যন্ত সীমিত ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করলেও অধিকাংশ $ \text {NGO}$-র মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মুনাফা করা। $ \text {NGO}$-গুলোর ঋণের সুদের হারও অনেক বেশি। সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক নিয়মকানুন মেনে চললে, মতবিরোধ পরিহার করলে এবং ব্যক্তিস্বার্থের বদলে সমষ্টিগত স্বার্থ বিবেচনা করলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার করতে পারত। তবে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে পারলে সরকারি খাতই আমাদের দেশকে অনেক এগিয়ে নিতে পারত।

ক. সংগঠন কী?

খ. "উদ্যোক্তাই সংগঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি"$-$ ব্যাখ্যা দাও।

গ. "বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ”$-$ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে কীভাবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ এগিয়ে যেতে পারে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।