Facebook Pixel

বাংলাদেশের ডেঙ্গু জ্বর মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ রোগটি অণুজীব দ্বারা হয়। এ রোগের প্রতিরোধ আছে, প্রতিকার এখনও ভালোভাবে জানা যায় নাই। ক. লাইসোজেনিক চক্র কী? খ. ম্যালেরিয়া জীবাণুর ৪টি প্রজাতির নাম লেখো। গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত অণুজীবটির বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত জ্বরের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ অণুজীব

উৎস: অনুশীলনীর প্রশ্ন আজিবুর স্যার

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) লাইসোজেনিক চক্র হলো ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশের পর তার DNA ব্যাকটেরিয়ার DNA অণুর সাথে সংযুক্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির সাথে সাথে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে কিন্তু ব্যাকটেরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে না। (খ) ম্যালেরিয়া জীবাণু বা প্লাজমোডিয়ামের ৪টি প্রজাতির নাম নিচে দেওয়া হলো: ১. Plasmodium vivax ২. Plasmodium falciparum ৩. Plasmodium ovale ৪. Plasmodium malariae (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত অণুজীবটি হলো ভাইরাস (ব্যাকটেরিওফায)। ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়াটি লাইটিক চক্রের মাধ্যমে নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: সংক্রমণ পর্যায়: ফায ভাইরাস তার স্পর্শক তন্তুর সাহায্যে ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের নির্দিষ্ট গ্রাহক স্থানে যুক্ত হয়। এরপর এনজাইম নিঃসরণের মাধ্যমে কোষ প্রাচীর ছিদ্র করে এবং নিজের DNA ব্যাকটেরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায়: ভাইরাস DNA ব্যাকটেরিয়ার বিপাকীয় প্রক্রিয়া দখল করে নেয়। ব্যাকটেরিয়ার এনজাইম ব্যবহার করে ভাইরাস নিজের প্রয়োজনীয় প্রোটিন আবরণ এবং অসংখ্য নতুন DNA তৈরি করে। এরপর নতুন DNA এবং প্রোটিন আবরণ একত্রিত হয়ে অসংখ্য নতুন ভাইরাস কণা গঠন করে। বিগলন পর্যায়: নতুন ভাইরাসগুলো সংখ্যায় বৃদ্ধি পাওয়ার পর ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর বিগলিত বা ছিন্ন করে বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে অল্প সময়ে অনেক নতুন ভাইরাস সৃষ্টি হয়। (ঘ) উদ্দীপকের রোগটি হলো ডেঙ্গু জ্বর। এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: প্রতিকার: ১. ডেঙ্গু জ্বরের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই জ্বরের তীব্রতা কমাতে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। কোনোভাবেই এসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না, কারণ এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। ২. রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার, যেমন, ডাবের পানি, ফলের রস ও স্যালাইন পান করতে হবে। ৩. উচ্চ জ্বর থাকলে মাথায় পানি ঢালা বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ৪. রোগীর অবস্থা জটিল মনে হলে বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। প্রতিরোধ: ১. ডেঙ্গু মশা (এডিস) নির্মূল করাই এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। ২. এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায়, তাই দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। ৩. বাড়ির আশেপাশে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার বা ড্রামে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ এসব পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা ডিম পাড়ে। ৪. পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনের জন্য নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করা এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅনুশীলনীর প্রশ্ন - আজিবুর স্যার

বাংলাদেশের ডেঙ্গু জ্বর মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ রোগটি অণুজীব দ্বারা হয়। এ রোগের প্রতিরোধ আছে, প্রতিকার এখনও ভালোভাবে জানা যায় নাই।

ক. লাইসোজেনিক চক্র কী?

খ. ম্যালেরিয়া জীবাণুর ৪টি প্রজাতির নাম লেখো।

গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত অণুজীবটির বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত জ্বরের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।