Facebook Pixel

বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক গরিব এবং ভূমিহীন। জামানত দিতে না পারায় তাদের বেশির ভাগ সময় গ্রাম্য মহাজন, ব্যবসায়ী, সুদখোরদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় এবং ফসল ওঠার সাথে সাথেই নামমাত্র মূল্যে তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়। সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষিবিমা প্রচলন, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, বাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, কৃষিক্ষেত্রে এর সফলতা দ্রুত আসবে। ক. কৃষিপণ্য বিপণন বলতে কী বোঝ? খ. কৃষকরা কেন ঋণ গ্রহণ করে? গ. অ-প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সমস্যাসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে কৃষিপণ্য বিপণনে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুমি কতটুকু সমর্থন করো— যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

উৎস: Board Exam Question RB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো হয়, তাকে কৃষিপণ্য বিপণন বলে। (খ) কৃষকরা কৃষিকাজের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। যেমন: কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কীটনাশক ইত্যাদি উপকরণ ক্রয়; চাষাবাদ পরিচালনা; প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা; গবাদিপশুর মড়কের পর নতুন পশু ক্রয়; পৈতৃক ঋণ পরিশোধ এবং উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের জন্য গুদামঘর নির্মাণ ইত্যাদি কারণে কৃষকরা ঋণ গ্রহণ করে। (গ) উদ্দীপকের আলোকে অ-প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সমস্যাসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এদেশের অধিকাংশ কৃষক অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন। কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের জন্য তারা বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নেয়। যেসব উৎস সরকারি বিধি ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালিত হয়, সেগুলোকে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে যে, কৃষকরা জামানত দিতে না পারায় গ্রাম্য মহাজন, ব্যবসায়ী ও সুদখোরদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। এই অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ফলে কৃষকরা নিম্নলিখিত সমস্যার সম্মুখীন হয়: চড়া সুদের হার: মহাজনরা অত্যন্ত উচ্চহারে সুদ ধার্য করে, যা কৃষকদের জন্য পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শোষণ: অনেক ক্ষেত্রে মহাজনরা কৃষকদের জমি বা অলঙ্কার বন্ধক রাখে এবং পরবর্তীতে কৌশলে তা দখল করে নেয়। নামমাত্র মূল্যে বিক্রয়: কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফসল বপনের পূর্বে ঋণ দেয়, যাতে ফসল ওঠার পর তারা তা খুব কম দামে কিনে নিতে পারে। ফলে কৃষকরা তাদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। ঋণের চক্র: উচ্চ সুদের কারণে কৃষকরা ঋণের জালে আটকা পড়ে, যা তাদের দারিদ্র্য আরও বাড়িয়ে দেয়। (ঘ) কৃষিপণ্য বিপণনে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো আমি পূর্ণ সমর্থন করি। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং সঠিক বাজার ব্যবস্থার অভাবে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলোর গুরুত্ব নিম্নরূপ: উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উপকরণ সহায়তা: কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদানের মাধ্যমে কৃষকরা স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ পাচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক। কৃষিবিমা প্রচলন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষিবিমা কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে, ফলে তারা পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারে। বাজার সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: রাস্তাঘাট নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে পারছে। এলাকাভিত্তিক শস্য হিমাগার নির্মাণ করলে পণ্য দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, ফলে কৃষকরা দাম কম থাকলে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হবে না। মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব হ্রাস: মাঠ পর্যায় থেকে সরাসরি পণ্য কেনা এবং বাজার তদারকির মাধ্যমে ফড়িয়া ও দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে, ফলে কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। পরিশেষে বলা যায়, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার যদি এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হবে এবং দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। তাই আমি সরকারের এই পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2019)

বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক গরিব এবং ভূমিহীন। জামানত দিতে না পারায় তাদের বেশির ভাগ সময় গ্রাম্য মহাজন, ব্যবসায়ী, সুদখোরদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় এবং ফসল ওঠার সাথে সাথেই নামমাত্র মূল্যে তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়। সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষিবিমা প্রচলন, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, বাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, কৃষিক্ষেত্রে এর সফলতা দ্রুত আসবে।

ক. কৃষিপণ্য বিপণন বলতে কী বোঝ? খ. কৃষকরা কেন ঋণ গ্রহণ করে? গ. অ-প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সমস্যাসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে কৃষিপণ্য বিপণনে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুমি কতটুকু সমর্থন করো— যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' ও 'B' ব্যক্তির প্রত্যেকের একটি করে খামার রয়েছে। 'A' ব্যক্তির খামারে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন না পড়লেও 'B' ব্যক্...

'B' একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের প্রায় ৭৫% জনসাধারণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি ব্যবস্থা এখনও উন্নত...

beginarray|l|c| hline textbfকৃষি খামার 'A' & textbfকৃষি খামার 'B' hline rightarrow text সীমিত জমির ব্যবহার rightarrow t...

Biotechnology ধারণাটি সর্বপ্রথম প্রদান করেন কে?

Biotechnology শব্দটি কত সালে প্রথম ব্যবহৃত হয়?

Biotechnology শব্দের অর্থ কী?

BRRI-এর পূর্ণরূপ কী?

GDP-তে সার্বিক খাতসমূহের অবদান- beginarray|l|c|c| hline textbfখাত & textbfসাল ১৯৮০-৮১ & textbfসাল ২০২২-২৩ hline textকৃষ...

GDP-তে সার্বিক খাতসমূহের অবদান— beginarray|l|c|c| hline textbfখাত & textbf১৯৮০-১৯৮১ & textbf২০২৪-২০২৫ hline textকৃষি & ...

HYV Technology বলতে কী বোঝায়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।