Facebook Pixel

বহুকাল থেকেই বাংলাদেশ একটি আমদানি নির্ভর দেশ। প্রতি বছর দেশটির আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের থেকে বেশি হয়ে থাকে। সম্প্রতি দেশটি প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি বেশ কিছু অপ্রচলিত পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। তাছাড়া রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য বর্তমান সরকার উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি শুল্ক হ্রাস, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্বালানির মূল্যহ্রাস, বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি প্রেরণ ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ক. প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য কাকে বলে? খ. বাংলাদেশ সরকার বিলাস দ্রব্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করে মূলধনী দ্রব্য আমদানিতে অগ্রাধিকার প্রদান করছে কেন? গ. উদ্দীপকে লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি দূরীকরণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো। ঘ. বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কি পর্যাপ্ত? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Board Exam Question DB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যেসব পণ্য কোনো দেশ দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে আসছে, সেগুলোকে প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য বলা হয়। যেমন: পাট ও পাটজাত পণ্য, চা ইত্যাদি। (খ) বাংলাদেশ সরকার বিলাসজাত দ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করে মূলধনী দ্রব্য আমদানিতে অগ্রাধিকার প্রদান করে, কারণ মূলধনী দ্রব্য দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। মূলধনী দ্রব্য যেমন যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল বা প্রযুক্তি আমদানির ফলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয় এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে দেশীয় শিল্প স্বনির্ভর হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পায়, যা বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটায়। অন্যদিকে, বিলাসজাত দ্রব্য ভোগবিলাসের উপকরণ মাত্র, যা দেশের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো অবদান রাখে না বরং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় ঘটায়। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার মূলধনী দ্রব্য আমদানিতে অগ্রাধিকার দেয়। (গ) লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একটি দেশের মোট আমদানি ব্যয় তার মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি দূরীকরণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি: প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি নতুন নতুন অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব, যা লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে। ২. উৎপাদন বৃদ্ধি ও শুল্ক হ্রাস: রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক হয়, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক। ৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জ্বালানির মূল্যহ্রাস উৎপাদন খরচ কমিয়ে পণ্যকে রপ্তানিযোগ্য করে তোলে। ৪. বাণিজ্য কূটনীতি: বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি প্রেরণ ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে নতুন বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানি সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের মধ্যকার ব্যবধান কমে লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি দূর হবে। (ঘ) বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো যেমন উৎপাদন বৃদ্ধি, শুল্ক হ্রাস, পরিবহণ উন্নয়ন এবং বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং রপ্তানি বহুমাত্রিক করতে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, বাজার সার্ভে বা গবেষণার মাধ্যমে কোন দেশের বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ এবং নগদ প্রণোদনা প্রদান করা জরুরি। তৃতীয়ত, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (যেমন: ISO সনদ) অর্জন এবং প্যাকেজিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। চতুর্থত, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রসার ঘটানো দরকার। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো একটি ভালো সূচনা হলেও, রপ্তানি বাণিজ্যকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অপরিহার্য। তাই বলা যায়, বর্তমান পদক্ষেপগুলো রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং আরও সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2023)

বহুকাল থেকেই বাংলাদেশ একটি আমদানি নির্ভর দেশ। প্রতি বছর দেশটির আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের থেকে বেশি হয়ে থাকে।

সম্প্রতি দেশটি প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি বেশ কিছু অপ্রচলিত পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে।

তাছাড়া রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য বর্তমান সরকার উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি শুল্ক হ্রাস, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন,

জ্বালানির মূল্যহ্রাস, বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি প্রেরণ ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

ক. প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য কাকে বলে?

খ. বাংলাদেশ সরকার বিলাস দ্রব্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করে মূলধনী দ্রব্য আমদানিতে অগ্রাধিকার প্রদান করছে কেন?

গ. উদ্দীপকে লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি দূরীকরণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।

ঘ. বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কি পর্যাপ্ত? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।