Facebook Pixel

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপীয় শক্তিবর্গ 'ত্রিশক্তি চুক্তি' ও 'ত্রিশক্তি আঁতাত' নামক দুটি সামরিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশগুলোর উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা বিশ্বকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। যুদ্ধের অবসান ঘটে 'ভার্সাই সন্ধি'র মাধ্যমে এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় গঠিত হয় 'লিগ অব নেশনস'। তবে এ আন্তর্জাতিক সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে বিশ্বরাজনীতিতে এক জটিল সমীকরণের সম্মুখীন হয়। ক. 'লিগ অব নেশনস' কত সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে? খ. 'ভার্সাই সন্ধি'কে কেন 'চাাপিয়ে দেওয়া সন্ধি' বা জবরদস্তিমূলক চুক্তি বলা হয়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শক্তিজোটগুলোর মধ্যকার বিভাজন কীভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা কর। ঘ. “উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য না পেলেও বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম”- এ বক্তব্যের সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি লীগ অব নেশনস আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। খ. জার্মানরা ভার্সাই চুক্তিকে চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি বলে অভিহিত করেছিলেন। মূলত ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে আফ্রিকা ও দূরপ্রাচ্যের উপনিবেশগুলোর ওপর জার্মানির অধিকার লোপ পায়। জার্মানির দূরপ্রাচ্যের উপনিবেশগুলো জাপানকে দেওয়া হয়। জার্মানির অন্যান্য উপনিবেশগুলো জাতিপুঞ্জ অধিগ্রহণে করে ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে শাসন করতে দেয়। তাছাড়া জার্মানির ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক শর্তাবলি চাপিয়ে দেওয়া হয়। যেমন- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বলা হয়। রাইন নদীকে আন্তর্জাতিক জলপথ বলে ঘোষণা করা হয়। মিত্রশক্তিকে কাঠ, কয়লা ও অন্যান্য দ্রব্য সরবরাহ করতে জার্মানিকে বাধ্য করা হয়। এসব কারণেই মূলত জার্মানরা ভাসাই চুক্তিকে চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি বলে অভিহিত করেছিল। গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী পরস্পর বিরোধী ত্রিশক্তি জোট ও ত্রিশক্তি আঁতাত জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ত্রিশক্তি জোট ও ত্রিশক্তির আঁতাত জোট গঠিত হয়। এই পরস্পরবিরোধী জোট দুটি ইউরোপীয় পুঁজিবাদী দেশসমূহকে দ্বিমুখী শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ১৮৭২ সালে জার্মানি ফ্রান্সকে মিত্রহীন করার লক্ষ্যে রাশিয়া ও অস্ট্রো-হাঙ্গেরির সাথে মিত্রতা স্থাপন করে। কিন্তু ১৮৭৭-৭৮ সালে রুশ-তুরস্ক ত্রিশক্তি চুক্তি ত্যাগ করে। এরপর জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালি ১৮৮২ সালে ত্রিশক্তির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। অপরদিকে, রাশিয়া-ফ্রান্স ১৮৯২ সালে দ্বিশক্তি মৈত্রী স্থাপন করে। আর ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মৈত্রী ছিল আফ্রিকার সাম্রাজ্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। নিজেদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে রাশিয়া, ফ্রান্স ও ব্রিটেন ত্রিশক্তির আঁতাত গঠন করে। উদ্দীপকে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপীয় শক্তিবর্গ 'ত্রিশক্তি চুক্তি' ও 'ত্রিশক্তি আঁতাত' নামক দুটি সামরিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশগুলোর উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা বিশ্বকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। উদ্দীপকের দুই চুক্তির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ত্রিশক্তি জোট ও ত্রিশক্তি আঁতাতের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান। ঘ. তৎকালীন বিশ্বে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত সংগঠনটি তথা লীগ অব নেশনস কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও লীগ অন নেশসন গঠিত হওয়ার পরবর্তী এক দশক এটি একটি সফল আন্তর্জাতিক সংস্থার মর্যাদা লাভ করে। এ সময়টিকে লীগের সুবর্ণ যুগ বলা হয়। এসময় বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোনো স্বার্থঘটিত দ্বন্দ্ব না হওয়ায় লীগের পক্ষে আন্তর্জাতিক বিরোধগুলোর নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। ফলে এটি একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক সংগঠন বলে প্রতিপন্ন হয়। এ সময়ের মধ্যে লীগ এলান্ড দীপপুঞ্জসংক্রান্ত বিরোধ, সাইলেশিয়া সংকট, ইরান-রুশ সংকট, রুশ-তুরস্ক, জার্মানি-পোল্যান্ড, গ্রিস-আলবেনিয়া, গ্রিস-বুলগেরিয়া বিরোধ পোল্যান্ড লিথুনিয়া সংকট সমাধান করতে সমর্থ হয়। কিন্তু হিটলার মুসোলিনীর নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ এবং জাপানের সমরবাদ বিশ্বের মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জাতিপুঞ্জ আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হতে থাকে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তোষণনীতির ফলে জাতিপুঞ্জ একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে। তা সত্ত্বেও তৎকালীন সময়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জের সমকক্ষ অন্য কোনো সংগঠন ছিল না। তাই বলা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন সময়ে লীগ অব নেশনস বা জাতিপুঞ্জ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপীয় শক্তিবর্গ 'ত্রিশক্তি চুক্তি' ও 'ত্রিশক্তি আঁতাত' নামক দুটি সামরিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশগুলোর উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা বিশ্বকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। যুদ্ধের অবসান ঘটে 'ভার্সাই সন্ধি'র মাধ্যমে এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় গঠিত হয় 'লিগ অব নেশনস'। তবে এ আন্তর্জাতিক সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে বিশ্বরাজনীতিতে এক জটিল সমীকরণের সম্মুখীন হয়।

ক.

'লিগ অব নেশনস' কত সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে?

খ.

'ভার্সাই সন্ধি'কে কেন 'চাাপিয়ে দেওয়া সন্ধি' বা জবরদস্তিমূলক চুক্তি বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত শক্তিজোটগুলোর মধ্যকার বিভাজন কীভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা কর।

ঘ.

“উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য না পেলেও বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম”- এ বক্তব্যের সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'X' একটি দেশ। তাদের নিজস্ব জাতি ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব ছিল। তারা মনে করত সারা পৃথিবীতে তারা বিশুদ্ধ জাতি। অথচ অন্যান্য দেশ...

ক. ডেভিড লয়েড জর্জ কে ছিলেন? খ. ত্রিশান্তি চুক্তি বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্...

ক. কোন শাসনামলে ফ্রান্সে ভোটাধিকার সংকুচিত হয়? খ. সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের? চিহ্নিত স্থানে কী বসবে?...

ক. লীগ অব নেশনস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ? খ. ভাইমার (Weimer) সরকার বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে ‘?' চিহ্নিত স্থানে তোম...

ক. লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হয়েছিল? খ. উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থান...

অধিকাংশ মনীষী ভার্সাই সন্ধির মূল্যায়নে মন্তব্য করেছেন- i. এটি একটি আরোপিত ও একতরফা চুক্তি ii. এ চুক্তি পরবর্তী যুদ্ধের প...

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের অনেক দেশে রাজতন্ত্র কায়েম ছিল। ফরাসি বিপ্লব এ সকল রাজতন্ত্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেয়। একজন যুবর...

অষ্টম শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতে পাল বংশ বাংলা ও বিহারে, প্রতিহার রাজবংশ মালব ও রাজস্থানে এবং রাষ্ট্রকুট রাজার দাক্ষিণাত্যে...

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের একটি বিপ্লব ইউরোপের অনেক দেশের পণ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজার...

অস্ট্রিয়ার যুবরাজ কোথায় আততায়ীর হাতে নিহত হন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।