ক.
নেতৃত্ব সামাজিক গুণ।
খ.
অধিকার ও কর্তব্যের ধারণা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অধিকারের কথা উচ্চারণের সাথে সাথে কর্তব্যের বিষয়টিও স্বাভাবিকভাবে এসে যায়।
অধিকার ও কর্তব্যের অনেকগুলো সম্পর্কের মধ্যে দু'টি হলো- ১. এরা একে অপরের পরিপূরক; ২. উভয়েই সমাজজীবনের দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত। নাগরিকের অধিকার উপভোগের জন্য রাষ্ট্র সব ধরনের নিশ্চয়তা বিধান করে। তেমনি রাষ্ট্রও নাগরিকের কাছ থেকে কিছু কর্তব্য পালন আশা করে। অর্থাৎ নাগরিকের যা অধিকার রাষ্ট্রের তা কর্তব্য, রাষ্ট্রের যা অধিকার নাগরিকের কাছে তা কর্তব্য। আবার অধিকার ও কর্তব্য উভয়ে সমাজজীবনের দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত। অধিকার পূরণ হলে তা সমাজজীবনকে সহজ করে। আর কর্তব্যপালন সমাজজীবনকে করে উন্নত।
গ.
উদ্দীপকে ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের ধারণা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
জাতীয়তাবাদ হলো এমন একটি শক্তিশালী চেতনা, যার মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে অনুভব করে এবং নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভূখণ্ডের প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করে। এই চেতনা তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষা এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। তাদের এই সংগ্রামের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক পটভূমি, ভাষা, সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক অবস্থান—যা একটি জাতির প্রধান উপাদান। ইসরাইলিদের দখল ও আক্রমণের মুখেও তারা আত্মসমর্পণ না করে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত।
এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, তাদের মধ্যে নিজেদের ভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং জাতিগত পরিচয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তারা নিজেদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করছে।
অতএব, উদ্দীপকে ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের চেতনা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যা তাদের সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
ঘ.
উদ্দীপকের ফিলিস্তিনিদের ঐক্যের ক্ষেত্রে জাতীয়তার ভৌগোলিক ঐক্য উপাদানটির ভূমিকা মুখ্য। তবে ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসগত ঐক্যও রয়েছে।
জাতীয়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভৌগোলিক ঐক্য। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হলে এবং জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বাস করতে হয়। এছাড়া ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং ঐতিহাসিক ঐক্যও জাতীয়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা নিজ আবাসভূমি রক্ষা করে স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য লড়াই করছে। তারা অভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভাষা-সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক বন্ধনের টানে সংগ্রামরত। তারা ইসরাইলিদের বর্বর হামলা এবং নির্যাতনের মুখে আত্মবিসর্জন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু আবাসভূমিকে হারাতে রাজি নয়। অর্থাৎ এখানে ভৌগোলিক ঐক্যই দৃশ্যত মুখ্য হয়ে উঠেছে। অভিন্ন ভূখণ্ডগত ঐক্য ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জাতীয় সংহতি সৃষ্টি করেছে। পুরুষানুক্রমে একই ভূখণ্ডে অবস্থান তাদের মধ্যে অভিন্ন জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি করেছে। বহুদিন পাশাপাশি অবস্থানের কারণে তারা ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতিগত ক্ষেত্রেও ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ হয়েছে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধতার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ঐক্যই মূখ্য ভূমিকা রেখেছে। তবে তাদের মধ্যে একাত্মবোধ সৃষ্টিতে ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসগত ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।